মৃত্যুর যন্ত্রণা | আমার কথা
×

 

 

মৃত্যুর যন্ত্রণা

coSam ৩৬


এ প্রসঙ্গে আল্লামা ইমাম সুয়ূতী (রহঃ) বলেন : যখন আজরাঈল (আঃ) আসবে তখন ৫০০  ফেরেশতা তাকে চাপ দিয়ে ধরবে। মুমিন হলে ৫০০ রহমতের ফেরেশতা আসবে। আর মৃত্যুর যন্ত্রণা শুরু হবে পায়ের বৃদ্ধা আঙ্গুল থেকে।

এমনকি তা কণ্ঠনালী পর্যন্ত চলে আসবে। হাদীসের এক বর্ণনায় এসেছে, মূসা (আঃ) এর ইন্তিকালের পর এক লােক তাকে স্বপ্নে দেখে বলল : হে আল্লাহর নবী! আপনি কী মৃত্যুর যন্ত্রণায় কষ্ট পেয়েছেন? উত্তরে মূসা আ. বললেন : আমার মৃত্যুর সময় মনে হলাে কতকগুলাে বিষাক্ত কাটা আমার কলিজার মধ্যে ঢুকায়ে সমস্ত রগের মধ্যে পেঁচিয়ে সমস্ত লােক একত্রিত হয়ে টান দিলে যেমন কষ্ট হয় তার চেয়ে মৃত্যুর যন্ত্রণা আমার কাছে আরাে অধিক বেশি কষ্টের মনে হয়েছে।

আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ)হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : তােমরা বনী ইসরাঈল থেকে ঘটনাবলী বর্ণনা কর। এতে কোন ক্ষতি নেই। কেননা, তাদের মাঝে বহু বিষ্ময়কর ঘটনা আছে। অতপর তিনি একটি ঘটনা বলতে শুরু করলেন : নবী ইসরাঈলের কিছু লােক একবার হাঁটতে হাঁটতে এক কবরস্থানে এসে পৌঁছল তারা।  তারা তখন-বলল : এসাে আমরা নামায পড়ে আমাদের রবের নিকট দু'আ করি। যেন তিনি আমাদের সামনে কোন মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করে দেন।

আর সে আমাদের নিকট মৃত্যু সম্পর্কে কিছু বলে। তারপর তারা নামায পড়ল এবং দুআ করল। ইতােমধ্যে একটি কবর থেকে এক ব্যক্তি মাথা তুলে বলল : হে লােকেরা! তােমরা কী চাও? নব্বই বছর আগে আমি মৃত্যুবরণ করেছি।

এখনাে মৃত্যু যন্ত্রণা আমার থেকে দূর হয়ে যায়নি। এখনাে আমি তা অনুভব করি। সুতরাং তােমরা আল্লাহর নিকট দু'আ কর, যেন আমি (দুনিয়াতে) যে অবস্থায় ছিলাম, সে অবস্থায় তিনি আমাকে ফিরিয়ে নেন।

আর সেই ব্যক্তির কপালে সিজদার দাগ ছিল। অপর এক বর্ণনায় এসেছে, ঈসা (আঃ) একবার এক কবরের নিকট যেয়ে বললেন : আল্লাহর নির্দেশে জীবিত হও। (যখন লােকটি আল্লাহর নির্দেশে জীবিত হলাে, তখন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন) তুমি কে? তােমার নাম কী? তখন লােকটি বলল : আমার নাম সাম ইন নূহ তখন ঈসা (আঃ) তাকে কয়েকটি প্রশ্ন করেছিলেন। তন্মধ্যে একটি হলাে, তিনি তাঁকে বললেন : আপনি কি আবারও কবরে থাকতে চান, না দুনিয়াতে থাকতে চান? তিনি বললেন : হে আল্লাহর নবী ঈসা! আমি যদি এ দুনিয়ায় আবার থেকে যাই তাহলে কী আগের মৃত্যুর সময় আজরাঈল যেমন আমার রূহ কবজ
করেছে তেমন আবারও রূহ কবজ করবে? তখন ঈসা আ. বললেন : আপনি আল্লাহর পয়গম্বর। আপনি কেন আজরাঈলকে এত ভয় করেন? জবাবে সাম ইন নূহ (আঃ) বললেন : আপনার সাথে তাে আর আজরাঈলের দেখা হয়নি এ জন্য এ মন্তব্য করছেন।

হে আল্লাহর নবী ঈসা আজ থকে ৪০০০ বছর পূর্বে আজরাঈল আমার রূহ কবজ করেছিল কিন্তু আমি আজও আমার মৃত্যুর যন্ত্রণাকে ভুলতে পারিনি। আমাদের পিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন আল্লাহর নিকট পৃথিবীর অন্যান্য সকল নবীদের থেকে অধিক প্রিয়। হাদীসের বিশুদ্ধ বর্ণনা মতে, আমাদের প্রিয়নবীর রূহ যেদিন কবজ করা হয় সেদিন জিব্রাঈল (আঃ) এর সাথে আরেকজন ফেরেশতা রাসূলুল্লাহ্ সা এর নিকট আগমন করেন যার নাম হলাে মালাকুল মউত আজরাঈল। জিব্রাঈল (আ) রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর হজরা মুবারকের দরজায় দাঁড়িয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) -এর নিকট অনুমতি নেয়ার পর তাকে বলেন : আল্লাহর নবী আজ আমি আপনার নিকট একজন নতুন ফেরেশতা সাথে নিয়ে এসেছি যে ইতিপূর্বে আপনার কাছে আর কোন দিন আসেনি।

তার নাম হলাে মালাকুল মউত আজরাঈল (আঃ)। আজরাঈল (আঃ) কে অনুমতি দেয়ার পর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে তিনি বললেন : হে আল্লাহর রাসূল! আমি পৃথিবীতে ইতিপূর্বে সকল প্রাণির রূহ কবজ করেছি কিন্তু কারাে নিকট কোন প্রকার অনুমতি প্রার্থনা করিনি। শুধু আমি আপনার নিকট আপনার রূহ কবজ করার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করছি।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, যদি না দেই; তখন আজরাঈল (আঃ) বললেন: তাহলে আমাকে ফিরে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তখন জিব্রাঈল (আঃ) বললেন : হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ), অথচ আল্লাহ আপনার  দীদারের অপেক্ষা করছেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাকে রূহ কবজের অনুমতি দিলেন।

ফাতেমা (রাঃ) তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) -এর কাছে অবস্থান করছিলেন। তিনি বলেন : আমি দেখলাম, মৃত্যুর যন্ত্রণার কারণে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) -এর হাত মুবারক একবার গুটিয়ে আসছে আরেকবার মেলে যাচ্ছে।

এসময় তিনি একটি চাদর দ্বারা আবৃত ছিলেন। এরপর আমি চাদরটি উঠিয়ে দেখি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সমস্ত শরীরের প্রত্যেকটি লােমকূপের গােড়া থেকে ঘাম নির্গত হচ্ছে। আজরাঈল (আঃ) যখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর রূহ কবজ করার জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর বুকের উপর হাত রাখলেন,

তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ). বললেন : হে আজরাঈল! তুমি তাে আমার বুকে হাত রেখেছ বলে মনে হচ্ছে না আমার মনে হচ্ছে তুমি আমার বুকে ওহুদ পাহাড় চেপে ধরেছ।

পরবর্তী গল্প
বে-ঈমানদারের রূহ কবজ

পূর্ববর্তী গল্প
প্রত্যেক প্রাণির রূহ কবজ করার নির্ধারিত স্থান

ক্যাটেগরী