মাদইয়ানের দিকে যাত্রা – পর্ব ১

গ্রেপ্তারী পরওয়ানার খবর শুনে হযরত মূসা (আঃ) মিসর হতে অন্যত্র চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে খুব সতর্কতার সাথে শহর হতে বের হয়ে পড়লেন। ফেরাউনের অসংখ্য প্রহরীর পাহারা ভেদ করে কখন কোন স্থান দিয়ে মূসা (আঃ) কিভাবে শহর হতে বের হয়ে পড়েছেন তা প্রহরীরা জানতেও পারল না। অতঃপর শহরের বাইরে এসে আল্লাহ পাকের শুকরিয়া আদায় করলেন।

কিন্তু কোথায় যাবেন তা স্থির করার জন্য চিন্তা করতে লাগলেন। কেননা, এর পূর্বে তিনি মিসরের বাইরে কোথাও যাননি। শেষ পর্যন্ত সিরিয়া অভিমুখে রওয়ানার সিদ্ধান্ত নেন। সিরিয়ায় মাদইয়ান নামক এক স্থানে বনী ইসরাইলের কিছু লোক বসবাস করে। তাই তিনি মাদইয়ান যাওয়াই সমীচীন মনে করলেন।

কিন্তু মাদইয়ানের রাস্তা তিনি চিনতেন না। এমতাবস্থায় কারও কাছে রাস্তার পরিচয় খোঁজ করাও নিরাপদ নয়। তাছাড়া এত দিন পর্যন্ত রাজকীয় পরিবেশে লালিত-পালিত হয়েছেন। এখন মাদইয়ান পর্যন্ত পায়ে হেঁটে যাওয়াও কষ্টসাধ্য। তাই তিনি আল্লাহ পাকের কাছে কায়মন বাক্যে প্রার্থনা করেন-

অর্থঃ হে আমার রব! এ অত্যাচারী কওমের হাত হতে আমাকে রক্ষা করুন।

এ অসহায় অবস্থায় আল্লাহ পাকের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে বলেন-

অর্থঃ আমি আশা করি যে আমার রব আমাকে সরল পথ দেখাবেন। (সূরা কাসাস)

মহান আল্লাহ তাঁর প্রার্থনা কবূল করেন এবং তাঁকে এমন এক সোজা পথের সন্ধান দিলেন, যেখানে উপনীত হওয়ার পর তাঁর মনের সকল অস্থিরতা দূর হয়ে নিজেকে নিরাপদ মনে করলেন। কিন্তু পাথেয় বলতে তাঁর মনের সকল অস্থিরতা দূর হয়ে নিজকে নিরাপদ মনে করলেন। কিন্তু পাথেয় বলতে তাঁর হাতে কিছুই ছিল না। খালি হাতেই সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার নিয়তে মাদইয়ানের দিকে যাত্রা করেন। হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর এক ছেলে সেখানে বসবাস করতেন। তার নাম অনুসারেই এ শহরের নাম রাখা হয়েছে মাদইয়ান।

হযরত শুয়াইব (আঃ) কে মাদইয়ানে নবী হিসাবে পাঠান হয়েছে। হযরত শুয়াইব (আঃ) এর কোন পুত্র সন্তান ছল না। শুধুমাত্র দু কন্যা ছিল। বর্তমানে তিনি বৃদ্ধ। কন্যারাই সংসারের যাবতীয় কাজকর্ম দেখাশুনা করত। এদিকে হযরত মূসা (আঃ) মাদইয়ানের দিকে চলেছেন।

কিন্তু তিনি মাদইয়ানে কোথায় যাবেন কার কাছে আশ্রয় নিবেন, কিছুই অবগত নন। প্রচন্ড গরমে উত্তপ্ত বালুকারাশীর উপর দিয়ে পথ অতিক্রম করছেন। ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে ক্লান্তি দূর করার জন্য কোথায় বিশ্রাম করা যায় সে চিন্তা করছেন। তদুপরি তিনি খুবই ক্ষুধার্ত। সামনেই একটি গাছ দেখতে পেয়ে সে গাছের ছায়ায় ক্লান্তি ও অবসন্নতা দূরীকরণার্থে তিনি বসলেন।

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।