মসজিদে নববী নির্মাণ | আমার কথা
×

 

 

মসজিদে নববী নির্মাণ

coSam ১৩৫


ইয়াসরিবে আসার পর হতেই রাসূল (সাঃ)-এর মন এখানে একখানা মসজিদ নির্মাণের জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়ে। এক খণ্ড ভূমি খুঁজছিলেন। অবশেষে তার দৃষ্টি পড়ে গেল সে ভূখণ্ডের উপর যেখানে প্রথম তার বাহন উট থেকে ছিল। তিনি এ ভূমির মালিকের সন্ধান করলেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এ জমির মালিক অপ্রাপ্ত বয়স্ক দুই এতীম-বালক সোহায়ল ও সাহাল।

তারা পরস্পর সহদর ভাই। অভিভাবক প্রখ্যাত আনসার গোত্রপতি হযরত আসআদ বিন যোরারা (রাঃ)। রাসূল (সাঃ) হযরত আসআদকে স্বীয় আকাঙ্খার কথা বলেন। হযরত আসআদ (রাঃ) আগে থেকেই এখানে নামাজ পড়তেন। এ প্রস্তাবে তিনি অত্যন্ত খুশী হন। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এহেন শুভ কর্মে এ সামান্য ভূখণ্ডের মূল্য প্রদানের কোন দরকার নেই। বালকদ্বয়ের অভিভাবক হিসেবে আমি এ ভূখণ্ড মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্যে দান করে দিচ্ছি।

রাসূল (সাঃ) হযরত আসআদ বিন যোরারাকে বলেন- ভ্রাতঃ তুমি বালকদ্বয়ের অভিভাবক সত্য কিন্তু তাদের স্বার্থহানীকর কোন কাজ করার এখতিয়ার তোমার নেই। এসব কথাবার্তা শুনে বালকদ্বয় এসে নিবেদন করল- ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা এ ভূখণ্ডের কোন মূল্য চাইনা আল্লাহর ওয়াস্তে এ ভূখণ্ড দান করে দিচ্ছি। তিনি এতীম ভ্রাতৃদ্বয়ের দান প্রস্তাবও গ্রহণ না করে বনী নাজ্জারের প্রধান ব্যক্তিদেরকে ডেকে পাঠান।

তারা উপস্থিত হলে তাদের কাছে মসজিদ নির্মাণের কথা ব্যক্ত করে ভূমিখণ্ডের উপযুক্ত মূল্য নির্ধারণ করে দিতে বলেন। তারা বলল, আমরাই বালকদ্বয়ের ক্ষতি পূরণ করে দেব। এ নিয়ে আপনার ভাবতে হবে না। আপনি নিশ্চিন্তে মসজিদ নির্মাণ করুন, কিন্তু এতেও সম্মত হলেন না। অবশেষে বনী নাজ্জার প্রধানরা এ জমির দাম নির্ধারণ করে দিলে রাসূল কারীম (সাঃ)-এর নির্দেশক্রমে হযরত আবু বকর (রাঃ) মূল্য পরিশোধ করেন।

মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এ কাজ সম্পাদনে রাসূল (সাঃ) নিজেই একজন সাধারণ শ্রমিকের ন্যায় কাজে অংশ গ্রহণ করেন। মসজিদের প্রয়োজনীয় নির্মাণ সামগ্রী যোগান দিতে শুরু করেন। মুহাজির এবং আনসাররাও এ কাজে অংশগ্রহণ করেন। কেউ কেউ তখনও অংশগ্রহণ করতে পারেন নি, কিন্তু রাসূল (সাঃ) রাসূল (সাঃ) স্বয়ং মসজিদ নির্মাণ কাজে প্রবৃত্ত হয়েছেন, মাথায় করে বোঝা বহন করছেন, এসব খবরে সমগ্র ইয়াসরিবে ছড়িয়ে পড়লে একটা মহা হুলস্থুল পড়ে যায় যারা তখনও বাদ ছিলেন তারা সবাই যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি এসে কাজে যোগদান করেন। সবারই অংশগ্রহণে মসজিদ নির্মিত হয়ে যায়।

কোন প্রকার কৃত্রিম সৌন্দর্যারোপের চিন্তা না করে অত্যন্ত সাধারণভাবে এ মসজিদখানা তৈরি হয়। কাঁচা ইটের দ্বারা প্রাচীর, খেজুর গাছ দিয়ে আড়া আর খেজুর পাতার ছাউনি, মিম্বর, মেহরাব, মিনার গম্বুজ কিছুই নেই। ফলে সাদামাটাভাবে নির্মিত এ মসজিদের গুরত্ব মাহাত্ম্য এতদূর বেড়ে গিয়েছিল যে, তৎকালীন বিশ্বের দু বৃহৎ শক্তি পারস্য ও রোম সাম্রাজ্যের বীর সেনাপতি এবং দূতদেরও এ মসজিদে প্রবেশ করতে হৃদয় কেঁপে উঠত। হযরত তামীম দারী আনসারী (রাঃ) ইসলাম গ্রহণের পর এ মসজিদে বাতি জ্বালিয়ে আলোকিত করার ব্যবস্থা করেন।

 

পরবর্তী গল্প
ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ আনসার ও মুহাজিররা

পূর্ববর্তী গল্প
আবু সালামা দম্পতির প্রতি কুরাইশদের নির্মম জুলুম

ক্যাটেগরী