মধ্যমপন্থা | আমার কথা
×

 

 

মধ্যমপন্থা

coSam ৪০


সালমান ফারসী (রাঃ) অপরের ক্ষেত্রে জীবন যাপনে সংসারের নিস্পৃহতা বিরোধী ছিলেন। একদিন তিনি আবু দারদার স্ত্রীকে পেলেন দারিদ্রের নিষ্পেষণে করুণ অবস্থায়। তিনি ধর্মীয় ভ্রাতৃবধূকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার এই করুণ অবস্থা কেন? আবু দারদার স্ত্রী বললেন, আপনার ভাইয়ের তো এই দুনিয়ার কোন কিছুরই প্রয়োজন নেই। ' যখন আবু দারদা (রাঃ) গৃহে এলেন তিনি সালমান ফারসীকে স্বাগতম জানালেন এবং তাকে খাদ্য পরিবেশন করলেন। সালমান (রাঃ) আবু দারদাকেও খেতে বললেন।

আবু দারদা (রাঃ) জানালেন, আমি তো রোযা রেখেছি। সালমান ফারসী (রাঃ) বললেন আমি কসম করছি যে, আমি কিছু খাব না যে পর্যন্ত না তুমি খাও। সে দিন রাত্র সালমান (রাঃ) আবু দারদার গৃহে কাটালেন।  

রাতের বেলায় দেখা গেল আবু দারদা ইবাদতের জন্য উঠে গেলেন। সালমান (রাঃ) তাকে ধরে ফেললেন এবং বললেন- আবু দারদা! তোমার উপর তোমার প্রভুর অধিকার আছে। তোমার উপর তোমার স্ত্রীর হক আছে। তোমার উপর তোমার শরীরেরও হক আছে। প্রত্যেকেরই নিজ পাওনা আদায় কর।    

প্রত্যুষে দু'জন এক সঙ্গে নামাজ পড়লেন এবং সকাল বেলা নবী করিম (সাঃ) এর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। পূর্ব রজনীর ঘটনাবলী সালমান (রাঃ) রাসূলুল্লাহকে অবহিত করলেন।     

সালমান (রাঃ) যা বলেছেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাই যথাযথ বলে প্রত্যয়ন করলেন। সালমান (রাঃ) এবং আবু দারদা (রাঃ) দু'জনে পরস্পরের সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের বন্ধনে জীবনব্যাপী আবদ্ধ ছিলেন। যখন তারা দূরে থাকতেন, তখন লোক মাধ্যমে এবং পত্র যোগাযোগে সংযোগ রক্ষা করতেন।     

তাদের সম্পর্কের মধ্যে ছিল স্পষ্টবাদীতা ও স্বচ্ছতা। হযরত আবু দারদা (রাঃ) একবার সালমান ফারসীকে লিখলেন - তিনি যেন অতি দ্রুত এবং অবিলম্বে যেন পবিত্র ভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন। উত্তরে সালমান (রাঃ) জানালেন মাটির মধ্যে পবিত্রা নেই। মানুষের কর্মই তাকে পবিত্রতা দান করে।     

সুত্রঃ ক্রিতদাস থেকে সাহাবী  

পরবর্তী গল্প
সহনশীলতা

পূর্ববর্তী গল্প
শ্রমলব্ধ আয়ে জীবনযাপন ও আহার

ক্যাটেগরী