মদপান ও জুয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা | আমার কথা
×

 

 

মদপান ও জুয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা

coSam ১০২


জাহেলি যুগে আরব দেশে মদ এবং জুয়া সমাজ জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করে। এমনকি মদপান আভিজাত্য আর জুয়া সাহসিকতা ও পৌরুষের মানদণ্ড বলে বিবেচিত হত। ফলে সমাজে যেনা ব্যভিচার, নরহত্যা, খুন ইত্যাদি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছিল। হিজরী চতুর্থ মদপান হারাম ঘোষিত হয়ে আয়াত নাযিল হয়।

অবশ্য মদপান হঠাৎ করে হারাম ঘোষিত হয়নি। মদের ও ক্ষতিকর দিকগুলোর বর্ণনায় পর পর পবিত্র কোরআনের তিনটি আয়াত নাযিল হয়। প্রথম আয়াতে বলে দেয়া হল মদ শয়তানের একটা জঘণ্য অস্ত্র। এ আয়াত নাযিল হলে আরবের চিরাচরিত সংস্কারে আঘাত হানে এবং বিবেকের সাথে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

এর কিছুকাল পরেই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামায নিষেধ করে আয়াত অবর্তীণ হয়। কেননা, নামায পরিত্যাগের কোন উপায় নেই। নামায ছাড়া মুসলমান থাকারই কোন সুযোগ নেই। হাদীস শরীফে ইচ্ছাকৃত নামায পরিত্যাগ কারাও আরবদের জন্য সম্ভব ছিল না। তাই আল্লাহর বিধানের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর জন্য নামাযের সময়টা বাদ দিয়ে মদপান প্রচেষ্টা শুরু হয়।

সূর্যোদয়ের পূর্ব থেকে আরম্ভ করে রাত পর্যন্ত পাঁচ বার নামায পড়া ফরজ। সুতরাং দিবাভাগে জনসাধারণ এ সময়ের মধ্যে মদপান সম্পর্কে সংযমে অভ্যস্ত হয়। এরপর একদিন মদসহ সর্বপ্রকার মাদকদ্রব্য হারাম- ঘোষনা করে কোরআনের আয়াত অবর্তীণ হয়। মদের ক্রয়-বিক্রয়, উৎপাদন, উৎপাদনের সাথে সাথে কোন প্রকারের সংশ্লিষ্টতা সবই নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।

এমনকি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মদের উৎপাদক, ক্রেতা, বিক্রেতা, মদ বহনকারীকে অভিশপ্ত বলে ঘোষণা করেন। সাথে সাথে মদপান শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে ঘোষিত হল। এভাবে যেনা ব্যভিভার, মদ, জুয়া প্রভৃতি মানবতাবিধ্বংসী নৈতিকতা বিনাশী অপকর্মসমূহের জন্যও দণ্ডের ঘোষণা করা। 

পরবর্তী গল্প
ইসলামের উদারতা

পূর্ববর্তী গল্প
যেনা সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা

ক্যাটেগরী