মত্যুকে বেশি করে স্মরণ করতে হবে | আমার কথা
×

 

 

মত্যুকে বেশি করে স্মরণ করতে হবে

coSam ৩৪


উলামায়ে কেরাম বলেন, বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার নাম মৃত্যু নয়। বরং দেহের সাথে আত্মার সম্পর্কের বিচ্ছেদ এবং এক জগত থেকে অন্য জগতে স্থানান্তর হওয়ার নাম মৃত্যু।  

(১) হযরত বেলাল ইবনে সাদ (রাঃ) একথা বলে ওয়াজ করতেন যে তােমরা বিলীন হয়ে যাওয়ার জন্যে নয়। সত্ত্বার অস্তিত্ত্ব বজায় রাখার জন্য তােমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। (আবু নায়ীম)।

(২) হযরত ওমর ইবনে আঃ আজিজ (রহঃ) বলতেন, তােমাদেরকে সর্বদার। জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। মৃত্যুতে তােমরা বিলপ্ত হয়ে যাও না এবং এক জগত। থেকে অন্য জগতে স্থানান্তরিত হও মাত্র। (আবু নারীম, হাকেম) 

মৃত্যু মােমেনের জন্য উপঢৌকন (১) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ)-এর রেওয়াতে রাসুল (সাঃ) ইরশাদ করেন, মৃত্যু মােমেনের জন্য উপঢৌকন। (বায়হাকী)

(২) হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, দুনিয়ার পরিচ্ছন্ন অংশটুকত। আগেই বিদায় নিয়েছে। এখন অবশিষ্ট রয়েছে শুধু কিছু খাদ। আর এজন্যে মৃত্যু। প্রতিটি মােমেনের জন্য উপহার। (ইবনে আবী শাইবা)

এ বর্ণনাটির মর্ম হলাে- প্রীতি ও ভালােবাসার নিদর্শন হলাে উপঢৌকন। এই মুতু আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার সাথে ভালোবাসার নিদর্শন বহন করে। তালে আল্লাহ তা'আলা বান্দাকে মতুর মাধ্যমে ক্ষণস্থায়ী জগত থেকে স্থানান্তরিত করে চিরস্থায়ী জগতে পৌছিয়ে তার উপর সীমাহীন প্রীতি প্রদর্শন করেন।

(৩) হযরত হােসাইন (রাঃ)-এর রেওয়াতে রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেন মৃত্যু মােমেনের জন্য উত্তম উপহার (দায়লামী)

(৪) হযরত মাহমুদ ইবনে নাবিদ (রাঃ)-এর রেওয়াতে রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেন দুটি বিষয় মানুষ পছন্দ করে না। অথচ এ বিষয় গুলি তার জন্যে কল্যাণকর। এর মাঝে একটি হলাে মৃত্যু কে সে ভয় করে। কিন্তু এটা বুঝতে চেষ্টা করে না যে মৃত্যু তার জন্যে জাগতিক বিপর্যয় থেকে ভালাে। দ্বিতীয়টি হলাে অল্প সম্পদে মানুষ, মনক্ষুন্ন হয়। অথচ স্বল্প সম্পদের ফলে তার হিসাব-নিকাশ সহস্র হয়ে যাবে। (আহমদ)

(৫) হযরত যুরআ ইবনে আবদুল্লাহর (বাঃ) রেওয়ায়েতে রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেন, মানব সন্তান পার্থিব জগতকে খুবই ভালােবাসে। অথচ মৃত্যু তার জন্য উত্তম। তেমনি প্রচুর সম্পদের লালসা রাখে। অথচ সল্প সম্পদের ফলে হিসাব। দিতে সহজ হবে। (বায়হাকী)
(৬) হযরত তাউস (রাঃ) ফরমান কর হলাে মানুষের দ্বীন-ধর্ম রক্ষাকারী (ইবনে আবি শাইবা)।

(৭) হযরত রবি ইবনে খাইসাম (রাঃ) বলেন মােমেন ব্যক্তি অপেক্ষা করে এমন একটি অদৃশ্য বস্তুর যার মাঝে মৃত্যুর চাইতে উত্তম আর কিছুই নাই। (ইবনে মোবারক)

(৮) হযরত আবু দারদা (রাঃ) বলেন, মৃত্যু মােমেন এবং কাফের উভয়ের জন্যেই ভালাে, যদি একথাটি কাউকে মেনে নিতে অসুবিধা হয় তাহলে সে এর সমর্থনে কোরআনের বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করতে পারে। প্রথম আয়াত

وما عند الله خير للأبرار

অর্থাৎ-অরি যা কিছু আল্লাহর নিকট রয়েছে সেগুলো নেক বান্দাদের জন্যে খুবই উপকারী। দ্বিতীয় আয়াত-(সূরা আল-ইমরান-১৭৮)
ولا يحب الذين كفروا أنما نملي لهم

অর্থাৎ, আর আমি কাফেরদেরকে যে সুযােগ দিয়ে রেখেছি এতে তারা যেন এটা মনে না করে যে এ সুযােগ দেয়া তাদের জন্যে কল্যাণকর।

হাদীসের মর্ম হলাে মৃত্যু মােমেনের জন্য এ কারণে ভালাে যে সে মৃত্যুর পর পারলৌকিক সকল সুখ সামগ্রী উপভোগ করতে পারবে।আর কাফেরের জন্য ভালো এক কারণে যে, তার আয়ু যতদীর্ঘ হবে গােনার পরিমাণও তত বৃদ্ধি পাবে।

(৯) হযরত জাফর আহমদ (রহঃ) অবমান মৃত্যুতে যার কল্যাণ নেই জীবন লাচ্ছে 'কোয় কল্যাণ নেই। (ইবনে আবি দুনিয়া)

(১০) হযরত আনাস (রাঃ)-এর রেওয়াতে রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেন, মৃত্যু প্রতিটি মুসলমানের জন্যে কাফফারার কাজে দিবে। ইবনুল আরাবী এ হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন। (আবু নায়ীম, বায়হাকী)। 

পরবর্তী গল্প
হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর মৃত্যুর আকর্ষণীয় কাহিনী

পূর্ববর্তী গল্প
মক্কা মুকাররমায় যিয়ারতের বিশেষ কয়েকটি স্থান

ক্যাটেগরী