মক্কা বিজয় | আমার কথা
×

 

 

মক্কা বিজয়

coSam ১৭৬


হুদাইবিয়ার সন্ধির একটি উল্লেখযোগ্য শর্ত ছিল, মদীনার মুসলিম এবং মক্কার কুরাইশদের মধ্যে যে কোন পক্ষ তৃতীয় পক্ষের সাথে মৈত্রী চুক্তিতে আবদ্ধ হতে পারবে এবং সেক্ষেত্রে তাদের দ্বিতীয় পক্ষ তৃতীয় পক্ষের সাথেও যুদ্ধ বিগ্রহে জড়িয়ে পড়তে পারবে না বরং তাদের সাথেও মিত্রতা রক্ষা করে চলবে।

মক্কার কুরাইশরা এ শর্ত ভঙ্গ করে মদীনার মুসলমানদের সাথে মৈত্রীসূত্রে আবদ্ধ বনু খোজা বংশীয় লোকদের উপর অন্যায়ভাবে হামলা করে একশ বিশজন লোককে হত্যা করল। এমনকি কাবা শরীফের হেরেমের ভিতর খোজা বংশীয় লোকদের রক্তপাত ঘটাল।

তা ছাড়া প্রায়ই অনর্থক বিভিন্ন সুতা ধরে খোজা সম্প্রদায়ের প্রতি কুরাইশদের জুলুম ও অবিচারের অভিযোগ খোজা গোত্রের চল্লিশজন প্রতিনিধি মদীনায় পৌঁছে রাসূল (সাঃ)-এর নিকট উত্থাপন করলে তিনি তাদের সাথে মিত্রসূত্রে আবদ্ধ থাকায় এ ব্যাপারে তাদের সহায়তা ও ঘটনার প্রতিকার করার প্রতিশ্রুতি দানে বাধ্য হলেন।

কুরাইশদের নিকটেও এ খবর যথাশীঘ্র পৌঁছে গেল। এ খবর উত্তমরূপে অবগত হওয়ার জন্য কুরাইশ দলপতি আবু সুফিয়ান মদীনায় গমন করেন। তিনি স্বীয় কন্যা নবীপত্নী হযরত উম্মে হাবিবার গৃহে উপনীত হলে রাসূল (সাঃ) যে বিছানায় উপনিবেশ করতেন, তিনি তা গুটিয়ে রাখলেন। এটা দেখে আবু সুফিয়ান কন্যাকে বলেন, ওহে! এ বিছানার মর্যাদা কি তোমার পিতার চেয়েও বেশী? হযরত উম্মে হাবিবাহ জবাব দিলেন, নিশ্চয়ই আবু সুফিয়ান জিজ্ঞেস করলেন, তা আমার চেয়ে অধিক হলে কি করে?

উম্মে হাবিবাহ জবাব দিলেন, এ পবিত্র বিছানায় আল্লাহর রাসূল (সাঃ) উপবেশ করেন, আর তুমি হলে মুশরিক মূর্তিপূজক বিধর্মী। তুমি এ বিছানায় বসবার যোগ্য নও। স্বীয়-কন্যার এহেন কথা শুনে আবু সুফিয়ান বলেন, মুহাম্মাদ আমার স্নেহের কন্যাটিকেও যাদুর জালে আবদ্ধ করে আমার প্রতি এরূপ বীতশ্রদ্ধ ও বিমুখ করে রেখেছেন?

অতঃপর আবু সুফিয়ান স্বীয় কন্যার প্রতি গোস্যাভরে তার গৃহ হতে নিস্ক্রান্ত হয়ে হুজুর (সাঃ)-এর দরবারে গিয়ে হাজির হল এবং তাঁকে বলল, মুহাম্মাদ! তুমি কি তোমার বংশের মেয়েদেরকে মক্কা হতে এনে মদীনার অধম লোকদের হাতে সোপর্দ করলে? রাসূল (সাঃ) আবু সুফিয়ানকে মদীনায় আগমনের উদ্দেশ্য জিজ্ঞেস করলে সে বলল, হুদাইবিয়ার সন্ধি আমাদের পক্ষ হতে ভেঙ্গে গিয়েছে। তোমার সাথে পুনরায় সন্ধি স্থাপনের উদ্দেশ্য নিয়ে আগমন করছি।

রাসূল (সাঃ) তার কথার কোন প্রতি উত্তর প্রদান না করে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। কেননা, তিনি ইতোপূর্বে কয়েকটি প্রস্তাবসহ মক্কার কুরাইশদের নিকট দূত প্রেরণ করেছিলেন। প্রস্তাবগুলো হচ্ছে-

১। নিহত ব্যক্তিদের রক্তের বিনিময় আদায় কর।

২। অপরাধীদের সাথে সকল সম্পর্কচ্ছেদ কর।

৩। ঘোষণা কর যে, হুদাইবিয়ার সন্ধি ভঙ্গ করা হল।

রাসূল (সাঃ)-এর পাঠান দূত সাহাবী জুমরাই মক্কায় পৌঁছে এ প্রস্তাব কুরাইশদের কাছে পেশ করলে তারা প্রথমোক্ত প্রস্তাব দুটি প্রত্যাখ্যান করল ও তৃতীয় প্রস্তাবটি গ্রহণ করল।

সাহাবী জুমরাহ অনতিবিলম্বে মদীনায় প্রত্যাবর্তন করলেন। রাসূল (সাঃ) যখন তিনি অবিলম্বে মক্কা আক্রমণের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে লাগলেন।

আবু সুফিয়ান যে উদ্দেশ্য নিয়ে মদীনায় উপনীত হয়েছিল তা সফল না হওয়ায় সে মক্কায় প্রত্যাবর্তন করল। রাসূল (সাঃ) যুদ্ধের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অষ্টম হিজরীর দশই রমযান দশ হাজার মুসলিম মুজাহিদ নিয়ে মদীনা হতে মক্কা অভিমুখে রওয়ানা হলেন।

মক্কার নিকটবর্তী মারউজ জোহরান নামক গীরি উপত্যাকা পর্যন্ত পৌঁছে মুসলিম বাহিনী শিবির স্থাপন করে রাতের খাবার তৈরির জন্য আগুন জ্বালালেন। দুর হতে কাফির কুরাইশরা রাতের আগুনের শিখা দর্শনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তারা ধারণা করল যে, রাসূল (সাঃ) বিশাল মুসলিম বাহিনী নিয়ে মক্কা আক্রমণ করতে এসেছে।

শঙ্কিত কুরাইশরা দুজন সঙ্গীসহ আর সুফিয়ানকে আগুন্তকদের খবরাখবর নেয়ার জন্য পাঠাল। তারা দূর থেকে মুসলিম বাহিনীর তাবুর চতুর্দিকে ঘুরে-ফিরে দেখতে লাগল। কিন্তু অগ্নিশিখার উজ্জ্বল আলোকে মুসলিম প্রহরীরা আবু সুফিয়ানকে বন্দী করে রাসূল (সাঃ)-এর নিকট নিয়ে এলেন। রাসূল (সাঃ) এ পরম শত্রুকে হাতের মুঠোর মধ্যে পেয়ে কিছু বললেন না, বরং ক্ষমা করে দিলেন। শত্রুকে ক্ষমা করার এমন দৃষ্টান্ত দুনিয়াতে বিরল।

ক্ষমার মহত্তে মুগ্ধ হয়ে আবু সুফিয়ান রাসূল (সাঃ)-এর নিকট ইসলাম গ্রহণ করল।

অতঃপর রাসূল (সাঃ) হযরত আব্বাস (রাঃ)-এর পার্শ্বে আবু সুফিয়ানকে নামাজে দাঁড় করার জন্য আদেশ করলেন। নামায আরম্ভ হয়ে গেল। আর আবু সুফিয়ান সম্মুখ পশ্চাত ডান বাম দিকে অবলোকন করে দেখলেন যে, একজনের সাথে সাথে নামাযরত প্রত্যেকটি লোক উঠা-বসা, রুকু-সিজদাহ-কিয়াম সবকিছু রয়েছে, এমন অদ্ভুদ সুশৃখংলা পূর্ণ কাজ ইতোপূর্বে তিনি আর কোথাও দেখেননি।

ইসলাম গ্রহণ করে আবু সুফিয়ান মক্কায় উপনীত হয়ে সমবেত লোকদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, আমি রোমের কাইসর এবং ইরানের কিসরাকে দেখেছি, কিন্তু মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে যেরূপ সম্মান করতে দেখলাম তেমন সম্মান আর কাউকেও করতে দেখিনি। মুহাম্মাদ (সাঃ)-যখন দাঁড়ান তখন সকলে দাঁড়ায়। তিনি যখন বসেন তখন সকলে বসে। তিনি যখন মাথা নত করেন তখন সকলে তাই করে। এ সকল দৃশ্য দেখে অভিভূত হয়ে আমি তাঁর ইসলাম গ্রহণ করেছি।

আবু সুফিয়ানের কথা শুনে তাঁর স্ত্রী হিন্দা তাঁর দাড়ি ধরে তাঁর গালে সজোরে এক চপেটাঘাত করে বলল, পামর তোমাকে পাঠান হয়েছিল সংবাদ সংগ্রহের জন্য আর তুমি কিনা সেখানে গিয়ে ইসলামে দীক্ষা নিয়ে এসে সে গল্প শোনাচ্ছে। আবু সুফিয়ান বলেন, আমি যা দর্শন করেছি এবং যা অবগত হয়ে এসেছি তুমি তা কখনও দেখনি এবং জানতেও পারনি। শুন এখনও সাবধান হও, সাবধান হওয়ার সময় এখনও ফুরিয়ে যায়নি।

এদিকে নিশি অবসানের পর রাসূল (সাঃ) মুসলিম বাহিনীকে মক্কা অভিমুখে রওয়ানা হওয়ার নির্দেশ দিলেন। মক্কার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে রাসূল (সাঃ) তাঁর সাথীদেরকে আদেশ করলেন, তোমরা নগরীতে প্রবেশ করে দেখবে যারা অস্ত্র ত্যাগ করেছে কিংবা আবু সুফিয়ানের গৃহে আশ্রয় নিয়েছে কিংবা স্বীয় গৃহের দ্বার বন্ধ করে রয়েছে, তারা নিরাপদ একথা বলে তিনি সাহাবীবৃন্দকে নিয়ে সদর পথে মক্কায় প্রবেশ করলেন।

রাসূল (সাঃ) মহানবীর খালিদ ইবনে ওয়ালিদকে কিছুসংখ্যক সৈন্য অন্য পথে মক্কায় প্রবেশ করতে বলেছেন। তাঁর প্রতি কঠোর নির্দেশ ছিল, সাফা পর্বতের কাছে তিনি রাসূল (সাঃ)-এর সাথে মিলিত হবেন এবং কারো সাথে যেন কোনরূপ যুদ্ধবিগ্রহে জড়িয়ে না পড়েন। কিন্তু তিনি যখন মক্কায় প্রবেশ করলেন, তখন ইকরামা একটি দল নিয়ে তাঁর গতি রোধের লক্ষ্যে তীর বর্ষণ করতে লাগল। বাধ্য হয়ে খালিদও তার উত্তর প্রদান করলেন। তাতে শত্রুপক্ষের তের কিংবা চৌদ্দজন লোক নিহত হন। অবশিষ্ট লোকেরা পালিয়ে জীবন রক্ষা করল। এ সংবাদ রাসূল (সাঃ)-এর কানে গেলে তিনি খালিদ (রাঃ)-এর নিকট কৈফিয়ত চাইলেন।

খালিদ (রাঃ) বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! ইকরামা তার দল নিয়ে প্রথমে আমার উপরে তীর নিক্ষেপ করে যুদ্ধ শুরু করেছিল। যার ফলে আমাকে বাধ্য হয়ে তাদের উপরে প্রতি আক্রমণ করতে হয়েছে। রাসূল (সাঃ) বুঝতে পারলেন খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রাঃ) বাস্তবিকই অন্যায়ভাবে কিছু করেন নি। যে নগরীর জুলুম নির্যাতনে টিকতে না পেরে মদীনায় হিজরত করেছিলেন আজ এতদিন পরে সে জন্মভূমি মক্কা নগরীতে ইসলামের বিজয় ও গৌরবজ্জ্বল পতাকা উড্ডীন করে

সসৈন্যে রাসূল (সাঃ) প্রবেশ করলেন। মক্কায় প্রবেশের পর রাসূল (সাঃ) আদেশ দিলেন ইসলামের পতাকা পরলোকগতা জান্নাতবাসী হযরত খাদীজাতুল কুবরা (রাঃ)-এর সমাধিস্থলের উপর স্থাপিত হবে। তাঁর আদেশ প্রতিপালিত হল। অতঃপর কাবাগৃহের আদূরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করে রাসূল (সাঃ) স্বীয় সাথীদেরসহ বর্মপরিহিত অবস্থায় অস্ত্রাদি নিয়ে সজ্জিত হলেন। তারপর উসামা ইবনে যায়েদ (রাঃ)-কে নিয়ে তিনি স্বীয় উটের পৃষ্ঠে আরোহণ করেন। উষ্ট্র কাবাগৃহের দিকে চলতে লাগল। সাহাবীবৃন্দ সারিবদ্ধভাবে রাসূল (সাঃ)-এর ডানে ও বামে চলতে লাগলেন। কাবাগৃহের সম্মুখে উপস্থিত হয়ে উষ্ট্রপৃষ্ঠ হতে অবতরণ করে কাবাগৃহের তাওয়াফ সমাধা করলেন।

অতঃপর তিনি খানায়ে কাবায় রক্ষিত তিনশত ষাটটি মূর্তির দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন এবং একে একে প্রতিটি মূর্তির দিকে ইশারা করে পাঠ করলেন, জাআল হাক্বক্ব আযহাকাল বাত্বিলু ইন্নাল বা-ত্বিলা কা-না যাহুক্বা অর্থাৎ সত্য সমাগত ও অসত্য বিতাড়িত। নিশ্চয়ই অসত্য বিলীয়মান।

রাসূল (সাঃ) ওসমান ইবনে তালহার নিকট হতে কাবাগৃহের চাবি নিয়ে স্বহস্তে এর দরজা খুলে অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এক একটি মূর্তির পানে ইশারা করে এ আয়াত শরীফ পাঠ করছিলেন আর সাথে সাথে মূর্তিটি ভূমিতে লুটিয়ে পড়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছিল। এভাবে কাবাগৃহকে অপবিত্র মূর্তিমুক্ত করলেন। রাসূল (সাঃ)-এর কাবা অভ্যন্তরে প্রবেশকালে হযরত আলী (রাঃ) হযরত উসামা ইবনে যায়েদ ও হযরত বেলাল (রাঃ) প্রমুখ সাহাবীবৃন্দ তাঁর অনুগমণ করেন। কাবার ভিতরে হযরত ইবরাহীম (আঃ) এবং হযরত ইসমাইল (আঃ)-এর প্রতিমূর্তি রক্ষিত ছিল, এগুলো হযরত আলী (রাঃ)-এর দ্বারা বিনষ্ট করা হল।

অতঃপর রাসূল (সাঃ) দু'রাকাত নফল নামায আদায় করে চারদিকে ঘুরে ঘুরে তাকবীর পাঠ করছিলেন। তারপর কাবাগৃহের দরজা বন্ধ করে ওসমান ইবনে তালহার নিকট তার চাবি ফেরত দিয়ে বলেন, এ চাবি সর্বদা তোমার নিকট রক্ষিত থাকবে। অত্যাচারী ব্যতিত আর কেউই এটা তোমার নিকট হতে হরণ করতে পারবে না।

কাবাগৃহের অভ্যন্তরে হতে বের হয়ে এসে সমবেত কুরাইশ জনতার উদ্দেশ্যে রাসূল (সাঃ) এমন এক ভাষণ দিলেন, যার বিষয়বস্তু ছিল অনুপম শিক্ষণীয়। আর তা এতই আবেগাপ্লুত ছিল যে, তা চিরদিন ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখিত থাকবে।

তিনি প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা অতঃপর নিজের সাফল্যের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে ভাষণ শুরু করলেন। কুরাইশদেরকে বলেন, আল্লাহ তোমাদের মুর্খতাসূলত গৌরব এবং বংশ মর্যাদার অহংকার চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন। স্মরণ রেখ সকল মানুষই এক আদমের সন্তান এবং তিনি মাটি দিয়ে সৃষ্টি। মহানবী (সাঃ) পবিত্র কোরআনের নিম্নোক্ত আয়াত।

يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا ۚ إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ

অর্থঃ হে মানবমণ্ডলী আমি তোমাদেরকে পুরুষ ও নারী হতে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদের শাখা-প্রশাখা সম্প্রদায় স্থির করেছি। যেন তোমরা পরস্পর পরিচয় লাভ করতে পার। নিশ্চয় তোমাদের এ ব্যক্তি আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানী যে ব্যক্তি আল্লাহকে অধিক ভয় করে। নিশ্চয় আল্লাহ মহাজ্ঞানী সর্বজ্ঞাত। (সূরা হুজুরত আয়াতঃ ১৩)

ভাষণ সমাপ্ত করে রাসূল (সাঃ) ভীত-সন্ত্রস্ত কুরাইশদের দিকে লক্ষ্য করেন। তারা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ভাবতে লাগল, না জানি আজ তাদের প্রতি কি কঠোর আচারণ করা হবে। রাসূল (সাঃ) তাদেরকে লক্ষ্য করে বলেন, বল, তোমরা আজ আমার নিকট কিরূপ প্রত্যাশা কর? তারা বলে উঠল আমরা আপনার নিকট ক্ষমা এবং উত্তম ব্যবহার প্রত্যাশা করি। কেননা, আপনি মহান ব্যক্তি এবং মহান ব্যক্তির সন্তান একথা সত্য যে, আমরা আপনার প্রতি অনেক জুলুম ও নির্যাতন করেছি, কিন্তু আমরা আপনার নিকট উদার ও সদ্ব্যবহার আশা করি।

আপনি শাস্তি দিতে চাইলে তাও দিতে পারেন। কেননা, আমরা তারই উপযুক্ত। রাসূল (সাঃ) তাদের কথা শ্রবণ করে বিগত জীবনের নির্মম অত্যাচারের কথা স্মরণ করে তাঁর চক্ষুদ্বয় অশ্রুসজল হয়ে উঠল। তিনি বাষ্পরুদ্ধ অথচ প্রশান্ত স্বরে বলেন, আজ আমি তোমাদের সাথে সে ব্যবহারই করব, যা নবী ইউসুফ (আঃ) তাঁর ভাইদের সাথে করেছিলেন।

রাসূল (সাঃ) বলতে লাগলেন, তোমরা সকলেই মুক্ত। আজ তোমাদের প্রতি কোন কঠোরতা নেই। নেই কোন প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধ স্পৃহা। তোমাদের সকলকে ক্ষমা করে দিলাম।

রাসূল (সাঃ)-এর অনুপম আচারণ দুর্ধর্ষ আরব কুরাইশদের পাষাণ হৃদয় মুহূর্তে দূরীভূত হয়ে গেল। চতুর্দিক হতে বাতাসে ধ্বনিত হল ইয়া রাসূলুল্লাহ-লাইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।

দীর্ঘ সময় রাসূল (সাঃ) মসজিদে অবস্থান করলেন। অতঃপর যোহরের ওয়াক্ত হলে কাবার ছাদে উঠে হযরত বেলাল (রাঃ) আযান দিলেন। তারপর সমবেত সাহাবাগণ ও মুসলিমবৃন্দকে নিয়ে রাসূল (সাঃ) জামাতের সাথে যোহরের নামায আদায় করলেন।

হেরেম শরীফ হতে বের হয়ে রাসূল (সাঃ) সাফা পর্বতে আরোহণ করলেন। সেখানে বহু কুরাইশ নর-নারী ইসলাম গ্রহণ করলেন। এমনকি আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দা ও তাঁর পুত্র মুয়াবিয়াও সেখানে কালিমা তৈয়বা পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করল।

মক্কা বিজয়ের মধ্যদিয়ে মহানবী (সাঃ)-এর দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষিত সাফল্যের বাস্তবায়ন ঘটল। ইসলামের বিজয়, বিস্তার এবং সমগ্র আরবে ইসলামের বিজয় ঝাণ্ডা উত্তলিত হল। মক্কা বিজয় ছিল রক্তপাতহীন এক অপরিহার্য। জয়ের ইতিহাসে মক্কা বিজয় ছিল অতুলনীয়। মক্কা এ বিজয় ছিল প্রেমের ক্ষমার, মহত্তের এবং পূণ্যের।

পরবর্তী গল্প
অপরাধীদের প্রাণদণ্ড

পূর্ববর্তী গল্প
খাইবারের যুদ্ধ

ক্যাটেগরী