বড়পীর হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রঃ) – পর্ব ৬ | আমার কথা
×

 

 

বড়পীর হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রঃ) – পর্ব ৬

coSam ২৯১


 বড়পীর হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রঃ) – পর্ব ৫ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় হিজরি ৪৮৮ সালে যখন তার বয়স ১৮ বৎসর, তখন তিনি মুসলিম বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম রাজধানী ঐতিহাসিক বাগদাদে পদার্পণ করেন। উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে হলে সে সময় বাগদাদে যেতেই হত। রাজধানীর বাগদাদের সনদই সে কালে উচ্চস্তরের সনদ বলে গণ্য হত। মাহবুবে সোবহানী সূফী সাধক হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রঃ) যে বৎসর বাগদাদ নগরীতে পদার্পণ করেন, সেই বৎসরই খলীফা আলমুস্তাযহের বিল্লাহ খিলাফাতের আসন গ্রহণ করেন। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে একথাও সুস্পষ্টভাবে জানা যায় এই খলিফাও সেই ৪৭০ হিজরি সনেই জন্ম লাভ করেছিলেন।

সে বৎসর রূহানী জগতের খাঁটি প্রজ্ঞাদাতা মাহবুবে সোবহানী হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (রঃ) জন্মগ্রহণ করেন। বড়পীর সাহেব গ্রামের পাঠশালার পড়াশুনা শেষ করে বাগদাদের বিশ্ববিখ্যাত মাদ্রাসায় নিযামিয়াতেই ভর্তি হলেন। এই নিযামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল অনেক উন্নত্মানের। এ নিযামিয়া ছিল উর্ধ্বে। এই মাদ্রাসা থেকে পাশ করা ছাত্র সমাজের সকলের কাছে উচ্চ শিক্ষিত বলে পরিচিত ছিল। একথা বাস্তব সত্য কথা যে বিশ্বের সেরা ও বাছাই করা নামকরা ওলামায়ে কেরাম নিযামিয়া মাদ্রাসায় অধ্যপনা করতেন। এই মাদ্রাসার শিক্ষকগণ আধ্যাত্মিক বিদায়ও শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করেছিলেন।

গাউসুল আযম বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (রঃ) বাগদাদ এসেই কুরআনের তাফসীর ও কিতাব প্রভৃতি বিষয়ে পারদর্শীতা লাভ করেন। ইতিহাস পাঠে জানা যায়। সাহিত্যে তার ওস্তাদ ছিলেন সাহিত্য জগতের অন্যতম লেখক আবু যাকারিয়া তিবরিয়া। ইলমে ফিকাহ এবং উসুল শাস্ত্রের ওস্তাদ ছিলেন সেকালের নামকরা মুফতী শেখ আবুল ওফা আলী বিন আকীর। হাদিস পাঠে জানা যায় মাহবুবে সোবহানী সাধক কুলের শিরমণি হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রঃ) হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেন শ্রেষ্ঠ হাদিসবীদ আবুল বারাকাত তালহা আল আকুলী। আল্লাহর অসীম রহমতে হযরত আবদুল কাদের জিলানী সাহেব (রঃ) অল্প বয়সেই সুমনা সুখ্যাতি নিয়ে নিযামিয়া মাদ্রাসার সর্বশ্রেষ্ঠ পরীক্ষা কামেল ক্লাশের সনদ লাভ করেন। এ বিদ্যা শিক্ষাকালে সত্যের সৈনিক হযরত বড়পীর সাহেব অসীম কষ্ট সহিষ্ণতার পরিচয় দিয়েছেন। সে সম্পর্ক তিনি নিজেই বলেন, আমার মনে যখন দুঃখ-কষ্ট বেশীর ভাগ অনুভব হত তখন আমি মাটিতে শুয়ে

শ্বাশত বাণী আল কুরআনের এই আয়াতটি পড়াতাম- ইন্নামাল উসরি ইউসরা অবশ্যই দুঃখ-কষ্ট বিনে সুখ হয় না যাই হোক দুঃখ-কষ্টের মধ্যে দিয়ে শিক্ষা জীবনের ৯টি বছর কেটে গেল।

ইতিহাসে পাঠে একথাও জানা যায় সত্যের দিশারী আওলীয়া জগতের উজ্জ্বল তারকা হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী সাহেব (রঃ) নয় বছরে সুনাম সুখ্যাতি নিয়ে তেরোটি বিষয়ে সনদ লাভ করেন। আরবী ভাষায় তার প্রচুর জ্ঞান ছিল। অনর্গল আরবীতে কথা বলতে পারতেন, আরবী ভাষায় সুন্দর সুন্দর কবিতা লিখে কবি বলেও পরিচিত ছিলেন। এক কথায় বলতে গেলে সেকালে মাহবুবে সোবহানী হযরত গাওসুল আযম বড়পীর সাহেবের মত সেরা ছাত্র ছিল না।

ছাত্র হিসাবে তিনি যে অধিক মেধাবী ছিলেন উহা একটা ঘটনার মাধ্যমেই অনুধাবন করা যাবে। হাদিস শাস্ত্রের সাফল্য অর্জন করার পর তাকে যখন সার্টিফিকেট দেওয়া হল, ঐ সময় তার ওস্তাদ তাকে বললেন, হে আবদুল কাদের, হাদিস শাস্ত্রে তোমাকে আজ আমরা যেন সনদ দিচ্ছি এটা একটা প্রচলিত নিয়ম মাত্র। তোমার মেধার এ দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব না। কেননা হাদিসের অনেক ব্যাখ্যা ও মর্মার্থ আমরা বহু সময় তোমার সাথে আলোচনা করেই জানতে পেরেছি। সত্যের অগ্রনায়ক আওলীয়াকুলের শিরমণি বড়পীর সাহেব উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করে বসে রইলেন না। বিশ্ব নিয়ন্ত্রা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সান্নিধ্য লাভের জন্য তার ছিল দারুণ ইচ্ছা। শিক্ষা জীবন সমাপ্ত হবার পর থেকে দয়াময় আল্লাহর মহব্বত তাকে পাগল করে তুললো।

সূফী সাধক হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রঃ) সাহেব সর্বদা ভাবতেন কিভাবে মহান করুণার আঁধার আল্লাহ জাল্লাহ শানহুর নৈকট্য লাভ করা যায়। আস্তে আস্তে দেখা গেল বড়পীর সাহেবের দুনিয়ার প্রতি কোণ খেয়াল নেই। বড় বড় অলী আবদালের সোহবতে কাটালেন অনেকদিন। যাই হোক উন্নতি সাধনে গভীরভাবে মনোনিবেশ দিলেন। পার্থিব যাবতীয় সসম্পর্ক ছিন্ন করে একনিষ্ট চিত্তে মহান করুণার আঁধার আল্লাহ জাল্লাহ শানহুর নৈকট্য লাভে ব্রতী হলেন। দুনিয়ার সকল প্রকার আরাম আয়েশ ত্যাগ করে এমন কি মানুষের স্বাভাবিক খাদ্য ও ব্যবহার্য দ্রব্যাদি ত্যাগ করে বনে ফলমূল ও শাক-সবজি ইত্যাদি দ্বারা ক্ষুধা নিবারণ করতে লাগলেন। মানুষের সাথে মেলামেশা বাদ দিয়ে নিরবে নির্জনে বসবাস করতে লাগলেন। নিজের সম্পূর্ণ সময়টুকু বিশ্ব নিয়ন্ত্রা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ব্যয় করলেন। রাত্রের নিদ্রা নিজের জন্য হারাম করে সারারাত্রি ইবাদত বন্দেগীতে কাটাতেন। ইসলামী জ্ঞানবিদদের দৃষ্টিকোণ থেকে একথাও জানা যায় যে মাহবুবে সোবহানী বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (রঃ) সাহেব প্রতি

রাত্রে নফল নামাজে কুরআন শরীফ খতম করতেন। অনেক সময় দেখা গেছে যে বিশ্ব নিয়ন্ত্রা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জিকির ও ধ্যান করতে করতে তিনি নিষ্পশব্দ অবস্থায় সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে রয়েছে না জীবিত আছেন বলে কোন লক্ষণই পাইত না।

যাই হোক এমনিভাবে কঠোর সাধনার ফলে রূহানী জগতের খাঁটি প্রজ্ঞাদাতা সূফীকূলের শিরমণি হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রঃ) একজন কামেল ওলীতে পরিণত হয়েছেন। প্রিয় পাঠক-পাঠিকাগণ একটু চিন্তা করে দেখুন বড়পীর সাহেব কত সাধনার মধ্যে দিয়ে বিশ্ব নিয়ন্ত্রা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নৈকট্য অর্জন করেছিলেন। বড়পীর সাহেব তাঁর মনে লোভ লালসা, রাগ

হিংসা সম্পূর্ণ দমন করতে সক্ষম হলেন লাভ করলেন মহান করুণার আঁধার আল্লাহ-জাল্লাহ শানহুর নৈকট্য। অর্জন করলেন আল্লাহর পিয়ারা বান্দা হওয়ার সৌভাগ্য।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

বড়পীর হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রঃ) – পর্ব ৭ পড়তে এখানে ক্লিক করুন   


পরবর্তী গল্প
বড়পীর হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রঃ) – পর্ব ৭

পূর্ববর্তী গল্প
বড়পীর হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রঃ) – পর্ব ৫

ক্যাটেগরী