বোরকার শিক্ষা | আমার কথা
×

 

 

বোরকার শিক্ষা

coSam ১১৮


মর্ডান মেয়ে ঝর্ণা, বোরকা পরা একদম পছন্দ করে না। বোরকার নাম শুনলেই যেন ওর সমস্ত শরীর ঘৃণায় জ্বলে উঠে।

এদিকে ঝর্ণার মা-বাবা মেয়েকে বার বার বুঝালেন বোরকা পরিধান করে পর্দা করে চলাফেরা করার জন্য। কিন্তু আধুনিকতা মেয়ে ঝর্ণা মা-বাবার কথা হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় - এভাবে আপাদমস্তক ব্যান্ডেজ করে চলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

ঝর্ণার মা-বাবা ভাবলেন মেয়ে যদি বোরকা না পরে নির্লজ্জভাবে চলাফেরা করে, তাহলে কখন যে কি ঘটবে বলা মুশকিল। তারা শঙ্কিত হয়ে পড়লেন।

মেয়ের অবস্থা দেখে ঝর্ণার মা-বাবা চিন্তায় অস্থির। মেয়েকে বোরকা পরিধান করাতে পারছেন না এবং মেয়ের মনের বিরুদ্ধেও কোন এ্যাকশন নিতে পারছেন না। এখন কি করবেন? পড়লেন তারা মহাবিপাকে।

কয়েকদিন পর ঝর্ণাদের বাড়ীতে নাসির গাজির আগমন হল। অনেক পূর্ব থেকেই নাসির গাজির সাথে ঝর্ণার বাবার দহরম-মহরম ছিল।

নাসির গাজির সাথে কথোপকথনের এক পর্যায়ে ঝর্ণার বাবা বললেন, গাজী সাহেব! বেশ ক'দিন ধরে আমি একটি সমস্যায় ভুগছি, শত চেষ্টা করেও সমধান করতে পারছি না। আর এখন কি করবো, তাও ভেবে পাচ্ছি না।

কি সমস্যা জিজ্ঞেস করলেন নাসির গাজী মেয়ের বোরকা না পরার কথা বিস্তারিত খুলে বললেন ঝর্ণার বাবা। নাসির গাজী একগাল হেসে বললেন - এটি একটা সমস্যা হলো নাকি? কথা শুনে ঝর্ণার মা-বাবা অবাক হয়ে বললেন - একি বলছেন গাজী সাহেব? শত চেষ্টা করেও যার সমাধান দিতে পারছি না, আর আপনি বলেছেন - এটা কোন সমস্যাই না।

নাসির গাজী হেসে বললেন, মেয়েকে ডাকুন। মেয়েকে ডাকা হল। ঝর্ণা নাসির গাজীকে সালাম দিয়ে বলল, আংকেল আমায় ডেকেছেন?

হ্যাঁ, মা! তুমি নাকি বোরকা পরিধান করোনা? কেন পরিধান করো না, বলবে?

আংকেল! বোরকা পরা আমার একদম ভাল লাগে না। আমি কখনো বোরকা পরিধান করতে পারবো না। দয়া করে আপনি আমাকে এই উপদেশ দিবেন না। আর যাই বলুন, আমি কথা দিলাম আপনার কথা অমান্য করবো না - শুধু এটা ছাড়া।

নাসির গাজী বললেনঃ ঠিক আছে মা! আজ থেকে তুমি বোরকা পরিধান করবে না। তোমার কথায় আমিও একমত।

নাসির গাজির কথা শুনে ঝর্ণার মা-বাবা যেন আকাশ থেকে পড়লেন। বন্ধুর কাছ থেকে এমন উত্তর পাবেন কল্পনাও করেননি।

এমন সময় নাসির গাজী ঝর্ণাকে বললেন, কথা যখন দিয়েছ, তাহলে আমার একটি কথা মেনে চলবে।

কি কথা আংকেল? প্রশ্ন করল ঝর্ণা।

আজ থেকে তুমি কোন পরপুরুষের সামনে দেখা দিতে পারবে না। ঝর্ণা বললঃ ঠিক আছে আংকেল।

এরপর নাসির গাজী বিদায় নিয়ে চলে গেলেন।

পরদিন ঝর্ণা মার্কেটে যেতে উদ্যত হলে, মনে পড়ে গেল নাসির গাজির সাথে ওয়াদা করা সেই কথা। তখন আর যেতে পারলো না। পরদিন পশ্চিম পাড়ায় তার বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার প্রয়োজন হল। কিন্তু বেরুলেই তো পরপুরুষের সামনে পড়ে যাবে। তাতে নাসির গাজীকে দেয়া তার ওয়াদা ভঙ্গ হবে। এভাবে তার বাহিরের অনেক প্লান-প্রোগ্রাম নষ্ট হল।

কিন্তু আর কত এভাবে প্রোগ্রাম নষ্ট করা যায়? শেষ পর্যন্ত সে ঠিক করল - বোরকা পরে বের হলে সে পরপুরুষের সামনে হওয়া থেকে বাঁচতে পারবে। তাই সে বোরকা ধরল।

ঝর্ণার মা-বাবা নাসির গাজির বুদ্ধির প্রশংসা করলেন এবং নাসির গাজীকে আবার বাসায় দাওয়াত করে খুব খাওয়ালেন।

সূত্রঃ মুসলমানের হাসি  

পরবর্তী গল্প
উমার ভগ্মীর নির্দেশ আংশিক পালন করলেন

পূর্ববর্তী গল্প
র‍্যাব বাহিনীর অভিযান

ক্যাটেগরী