বিবিধ নির্যাতন | আমার কথা
×

 

 

বিবিধ নির্যাতন

coSam ৩১


দুষ্ট বালকদের হাতে সমর্পন করে তাদের আনন্দ বিনোদন ছাড়াও হযরত বিলালের উপর পালাক্রমে প্রহার করার জন্য লোক নিয়োগ করা হত। উমাইয়া অত্যাচারের নতুন নতুন পদ্ধতি বের করতো।

লোহার বর্ম এবং পোশাক পরিয়ে প্রখর রৌদ্রে বেধে রাখত। কখনও কখনও উটের চামড়ার ভিতরে ভরে শ্বাসরদ্ধ করতে চাইতো। মক্কার নিকটে আরব মরুর ভয়াবহ উষ্ণতম স্থান ছিল বহতা। এখানে মরুর প্রখরতায় মৃত্যু ছিল স্বাভাবিক।

বহতার উত্তপ্ত বালুকার উপর উ্ধ্বমুখি শয়ন করিয়ে তার বুকে ভারি পাথর চাপা দেওয়া হত। কন্টকময় বাবেল গাছের কন্টক যুক্ত ডালের বিছানায় তাকে শায়ীত করে নিয়মিত দেহপরি প্রস্তরশীলা চাপা দেওয়া হত।

খানা বন্ধ করে দেয়ার ফলে তার দেহ হয়ে উঠেছিল অস্থি চর্মসার। যখন তার উপরে কাফেরগণ নির্যাতন চালাতো তখন তার প্রতিক্রিয়া তিনি ব্যক্ত করতেন “আহাদ” 'আহাদ' বলে। দেহে এবং রসনায় শক্তি থাকা পর্যন্ত নির্যাতনের ভয়ে তিনি কখনও তাদের প্রশ্নের জবাবে চুপ থাকতেন না। হযরত আবু বকর (রাঃ) এবং আলীর (রাঃ) উপরে মক্কাবাসীদের অত্যাচারের তীব্রতা ছিল কম। কারণ বনু হাশিম এ বনু বাকার গোত্রের প্রতিক্রিয়ার ভয় ছিল৷ কিন্তু দাসদের উপর কুরাইশদের অত্যাচার ছিল অত্যন্ত নির্মম এবং মর্মান্তিক। এরূপ অত্যাচারে মৃত্যু ছিল অত্যন্ত স্বাভাবিক। কিন্তু আল্লাহ্‌র ইচ্ছা ছিল বিপরীত।

দিনের পর দিন অমানষিক নির্যাতন, অনাহার, অনিদ্বায় তার মৃত্যু ঘটেনি। উম্মুল মু'মিনিন খাজিদাতুল কোবরার পিতৃব্য পুত্র নাছারা ওয়ারাকা বিন নওফল স্বচক্ষে এ অমানুষিক অত্যাচার লক্ষ্য করে হযরত আবু বকরের নিকট তা বর্ণনা করেন।

অভিভূত হযরত আবু বকর (রাঃ) তখন উমাইয়ার নিকট বিলালকে ক্রয় করার প্রস্তাব করেন। কিন্তু উহামইয়্যা রাজী হয়নি।

বিলালের উপর অমানুষিক অত্যাচারের কাহিনী মক্কার লোকদের মুখে মুখে প্রচারিত হতে থাকে৷ হযরত বিলালের ন্যায় মক্কার দাসগণ দাসত্ব থেকে মুক্তির লক্ষ্যে ইসলাম গ্রহণ করেন নি। বরং ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তাদের উপর অত্যাচারের তীব্রতা বেড়ে যেত হাজার গুণ। তাদের ইসলাম গ্রহণের কারণ ছিল খালেছ তৌহিদী চেতনা।

হযরত আবু বকর (রাঃ) তখন হযরত বিলালের মুক্তির ব্যাপারে রাসূলুল্লাহর পিতৃব্য হযরত আব্বাসের সাহায্য প্রার্থনা করেন। বিলালের ব্যাপারে আবু বকরের আগ্রহ দেখে উমাইয়া অসম্ভব রূপ চড়া দাম হাকলেন। তিনি অস্থিচর্মসার অসুস্থ, দুর্বল বিলালের পরিবর্তে চাইলেন একটি দাস যে ইসলাম গ্রহণ করেনি। তদুপরি চাইলেন রৌপ্য মুদ্রা।

তখন মক্কার স্বাস্থ্যবান দাসের মূল্য ছিল ১০/১২ তোলা রৌপ্য। দ্বীনদার দাসের বদলে একটি বেদ্বীন দাস, তদুপরি ১২০ তোলা রৌপ্য হযরত আবু বকর (রাঃ) থেকে আদায় করে নিয়ে বিলালকে হস্তান্তর করেনল। আবু বকর (রাঃ) থেকে আদায় করে নিয়ে বিলালকে হস্তান্তর করেনল।

কোন কোন বর্ণনা মতে হযরত আবু বকর (রাঃ) ৫ অথবা ৭ অথবা ৯ উকিয়া স্বর্ণের বিনিময়ে হযরত বিলালকে ক্রয় করেন। ৭ উকিয়া ছিল ২৩ খ্রাম স্বর্ণসম। হযরত আবু বকারের বদান্যতা ও উদারতায় হযরত বিলাল (রোঃ) বানু জুমাহ গোত্রের দাসত্ব থেকে যুক্তি পান। হযরত আবু বকার (রাঃ) তার একটি সবল স্বাস্থ্যবান গোলামের বিনিময়ে হযরত বিলালকে গ্রহণ করেন। তার এ গোলামটি ইসলাম গ্রহণ করতে সম্মত ছিল না।

এরূপ অকর্মন্য অপ্রয়োজনীয় দাস এতো চওড়া মূল্য পেয়ে উমাইয়া পরম তৃপ্তির হাসি হাসল এবং আবু বকরকে যে আর্থিক ক্ষতিণ্রস্থ করে জয়লাভ করেছে সে বিজয় আনন্দ প্রকাশ করল। হযরত আবু বকর (রাঃ) বললেন-“উমাইয়া বিজয়ী তুমি হওনি, বিজয়ী হয়েছি আমি”। হাজার উকিয়া স্বর্ণ মুদ্রা চাইলেও আমি বিলালকে ক্রয় করতাম।

স্বর্ণ দিয়ে বিলালের মূল্য হয় না। বিলালের ঈমানের মূল্য আমার নিকট যে কত বেশি তা তুমি কল্পনাও করতে পার নি।

এ কেনা বেঁচায় আমি ঠকিনি, তুমি ঠকেছো। তুমি এক হাজার তোলা রৌপ্য দাবী করলেও আমি তা দিতাম। কারণ ততটুকু সামর্থ্য আমার ছিল। এবার বুঝে দেখ-এ ক্রয়-বিক্রয় এবং বদলা-বদলিতে কার জয় হয়েছে? এবং কার হার হয়েছে?”

দাসত্ব হতে মুক্তির পর হযরত আবু বকার (রাঃ) বিলালকে তার ষ্টোর কিপার নিয়োগ করেন। রাসূলুল্লাহর  জন্য বিলালের পাগলপারা ভাব দেখে তিনি রাসূলুল্লাহর (সাঃ) খিদমতের জন্য বিলালকে (রাঃ) ছেড়ে দেন!

 

পরবর্তী গল্প
হিজরাত

পূর্ববর্তী গল্প
এ'তেকাফের অবস্থায় যে সব জিনিস মাকরূহ, এতেকাফের মোস্তাহাব ও আদব সমূহ

ক্যাটেগরী