বিদায় হজ্জ দশম হিজরী

ইসলাম এখন বিজয়ী শক্তি। যেসব আরব গোত্র প্রথম থেকে কুরাইশ ও তাদেরই সহযোগিতাদের ইন্দনে ইসলাম, রাসূল (সাঃ) এবং উদীয়মান মুসলিম শক্তির বিরোধিতা করে আসছিল তাদের সাথে সন্ধিসূত্রে আবদ্ধ হয়েছে। এ সময় রাসূল (সাঃ) পবিত্র হজ্জ আদায় করার কথা ঘোষণা করেন।

এ হজ্জই ছিল রাসূল (সাঃ)-এর জীবনের প্রথম ও শেষ হজ্জ। হিজরী নবম সনে হজ্জ ফরজ হলেও রাসূল (সাঃ) হজ্জে গমন করেননি। এ বছর রাসূল (সাঃ) হজ্জ পালনের ঘোষণা আরব উপদ্বীপের সর্বত্র আনন্দ ও উৎসাহ উদ্দীপনার আমেজ সৃষ্টি করে। যেসব মুসলমানের আজও রাসূল (সাঃ)-কে দেখার সৌভাগ্য হয়নি, তারা এ ঘোষণায় রাসূল (সাঃ)-কে এক নজর দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন।

যিলকদ মাসের পাঁচদিন বাকী থাকতে রাসূল (সাঃ) যথারীতি প্রস্তুত হয়ে হজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। এ সময় তাঁর বাহন ছিল উষ্ট্রী কাসওয়া। মদীনা হতে অসংখ্য মুসলমান তাঁর সফর সঙ্গী হয়েছেন। হযরত জাবের বিন আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর বর্ণনামতে, রাসূল (সাঃ)-এর সামনে পিছে ডানে বামে শুধু মানুষ আর মানুষ লোকে লোকারাণ্য।

ধনী গরীব, ইতর ভদ্র, দাস প্রভু সবাই আজ এক সাথে একই উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছে। সকলেই একই পোশাক একখানা সেলাইবিহীন লুঙ্গী ও গায়ে চাদর। সবাই নগ্ন পদ, নগ্ন মস্তক, সকলের মুখেই সমভাবে উচ্চারিত হচ্ছে আল্লাহুম্মা লাব্বায়িক ধ্বনি। মদীনা থেকে যারা বের হয়েছিলেন, পায়ে পায়ে তাদের সাথে আরও বহু লোক একত্রিত হয় সংখ্যা এক লাখ, মতান্তরে সোয়া লাখ। এ লক্ষ্য ভক্ত অনুরক্ত পরিবেষ্টিত অবস্থায় রাসূল (সাঃ) আল্লাহর ঘর কাবা শরীফ জিয়ারতের উদ্দেশ্যে চলেছেন।

দশ বছর পূর্বে কুরাইশদের জুলুম নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে যে পথ ধরে মদীনায় হিজরত করেছিলেন দশ বছর পর পুনরায় সে পথ ধরেই মক্কাভিমুখে চলেছেন হজ্জ আদায়ের উদ্দেশ্যে। নবম দিবসে তিনি লক্ষাধিক ভক্ত অনুরক্ত নিয়ে মক্কায় উপস্থিত হন। যিলহজ্জের আট তারিখ যোহরের পূর্বে মিনায় গমন করেন এবং নয় তারিখ ফজর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন নয় তারিখে হজ্জ। তাই রাসূল (সাঃ) এ দিন সূর্যোদয়ের পর বিশাল জনসমুদ্র সাথে নিয়ে আরাফার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

লক্ষাধিক লোকের লাব্বাইক ধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত হয়ে উঠে। ইসলাম পূর্ব যুগে কুরাইশী যাজক পুরোহিত হজ্জ আদায়ে সর্বসাধারণ মানুষের জন্য অবশ্য পালনীয় কতগুলো বিশেষ রীতিনীতি প্রণয়ন করে। এর একটি ছিল উলঙ্গ হয়ে কাবায় তাওবায় করা। বিগত বছর (নবম হিজরী সনে) রাসূল (সাঃ)-এর নির্দেশে এ ঘৃণিত প্রথার মূলোৎপাটিত হয়। এ সময় কুরাইশরা নিয়ম গড়ে নিয়েছিল, হজ্জের সময় তারা হরমের সীমানার মধ্যে অবস্থিত মুজদালিফায় আর সর্বসাধারণ মানুষ আরাফাতের

ময়দানে অবস্থান করবে। অদ্য এ যাজকীয় ব্যবস্থারও মূলোৎপাটিত হয়। রাসূল (সাঃ) আরাফাতের ময়দানে সর্বসাধারণের মানুষের সাথে মিলিত হন।

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।