বাবরী মসজিদ যারা ধ্বংস করেছিল তাদের করুন পরিণতি | আমার কথা
×

 

 

বাবরী মসজিদ যারা ধ্বংস করেছিল তাদের করুন পরিণতি

coSam ৩০০


ভারতের সুরাট শহরের লাতুর অঞ্চলে ভূমিকম্পে এবং সুরাট শহরে প্লেগে বাবরী মসজিদ ধ্বংসকারীদের উচিত শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। তুরস্কের নৌঘাঁটিতে ভূমিকম্পে সেকুলারিজমের মুখ কালো করে দেয়া হয়েছে। মাওলানা সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদিভী লিখেছেন, সুরাট মহারাষ্ট্র রাজ্যের একটি প্রাচীন শহর এবং ব্যবসাকেন্দ্র। একসময় মক্কাগামী লোকেদের নৌবন্ধর ছিল সুরাটে। বর্তমানের এই বন্দর নগরী মুম্বাইয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। ১৯৯৪ সালে সুরাটে মহামারীরূপে প্লেগ দেখা দেয়। সুরাটে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় বহু মুসলমান নিহত হয়েছেন। সুরাটের লাতুর এলাকার বহু হিন্দু বাবরী মসজিদ ধ্বংসের ঘটনার সাথে জড়িত।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ভারতের জংগী হিন্দুরা ১৯৯২ সালে ৬ সেপ্টেম্বর অযোধ্যায় ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ ধ্বংস করে দিয়েছিল। লাতুর এবং সুরাটের হিন্দু গুন্ডারা এ কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ১৯৯৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর প্রবল ভূমিকম্পে মহারাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এতে ৩০ হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছিল। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছিল লাতুরে। এখানে বাবরী মসজিদ ধ্বংসে নিয়োজিত হিন্দুরা অধিক সংখ্যায় বসবাস করতো। এক বছর পর সুরাটে ভয়াবহ প্লেগ রোগ দেখা দেয়। প্লেগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় বাবরী মসজিদ ধ্বংস করার কাজে নিয়োজিত লোকেদের এলাকা। সে সময় সুরাটের রনধীর অঞ্চলের জামেয়া হোসাইনিয়ায় বিশিষ্ট আলেম মাওলানা মুজিবুল্লাহ ছাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভীর কাছে একখানি চিঠি লিখেন। তিনি লিখেছেন, মহামারী রূপে প্লেগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে মহারাষ্ট্রের সেসব এলাকা যেসব এলায় বাবরী মসজিদ ধ্বংসের কাজে নিয়োজিত হিন্দুরা বসবাস করত। সুরাটে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় হিন্দুরা মুসলমানদের উপর লোমহর্ষক অত্যাচার নির্যাতন করে। লাখ লাখ মানুষ সুরাট ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যায়। শহরে সুনসান নীরবতা বিরাজ করে। এরকম দৃশ্য অতীতে কখনো দেখা যায় নি। মানুষের মনে ভয় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে মুসলমানরা আলহামদুলিল্লাহ নিরাপদ রয়েছেন।

মাওলানা ছাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী লিখেছেন, সুরাটে ৫ হাজারের অধিক অমুসলিমের মৃত্যু হয়েছে এবং সাত থেকে আট লাখ লোক সুরাট থেকে পলায়ন করেছে। ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। হিন্দুদের অত্যাচারে যেসব মসজিদ বিরান হয়ে গেছে বর্তমানে হিন্দুরা এসে এসব মসজিদে আযান এবং নামায আদায়ের জন্য মুসলমানদের করজোড়ে অনুরোধ করছে। কবরস্থানে গিয়ে মুসলিম মুর্দাদের নিকট হিন্দুরা ক্ষমা প্রার্থনা করছে। হিন্দুরা রন্ধীরে মুসলিম আলেমদের কাছে কোরআনের আয়াত লেখা তাবিজের জন্য আবেদন নিবেদন করছে।

সুরাটে প্লেগ এবং ভূমিকম্পের খবর জেনে অন্য দেশের সাথে সুরাটের বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। প্লেগের মহামারী জনমনে ব্যপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এসব ঘটনা শিক্ষনীয়। কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, জমিন ও আসমানে এমন বহু নিদর্শন রয়েছে সেসব নিদর্শন দেখেও মানুষ মুখ ফিরিয়ে চলে যায়।


পরবর্তী গল্প
সাপের ছুরতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর খেদমতে হাজির

পূর্ববর্তী গল্প
মুসলিম ও অমুসলিম জ্বীনদের বাসস্থান

ক্যাটেগরী