বাদশাহ জুলকারনাইন এর সময়কার এক ঘটনা | আমার কথা
×

 

 

বাদশাহ জুলকারনাইন এর সময়কার এক ঘটনা

coSam ৩৯৯


একদা বাদশাহ জুলকারনাইন (রহঃ) এর বিরান এলাকায় এমন এক দল মানুষ দেখতে পেলেন, যাদের নিকট দুনিয়ার কোন জিনিস পত্র ছিল না। তাদের জীবন যাত্রা ছিল এরুপ-

তাদের পাশে বেশ কিছু কবরে খোদাই করা ছিল। প্রতিদিন সকাল বেলা তারা ঐ কবরগুলোকে পরিস্কার করে এর পাশেই নামাযে মশগুল থাকত। তাদের আশে পাশে প্রচুর ঘাস ও লতাপাতা ছিল। তারা গাবাদিপশুর মত ঐ ঘাস খেয়েই জীবন ধারণ করত।

বাদশাহ জুলকারনাইন (রহঃ) প্রাসাদে ফিরে এসে ঐ কওমের দলপতির নিকট এক দূত পাঠালেন। দূত তাদের কওমের দলপতিকে গিয়ে বলল, বাদশাহ জুলকারনাইন (রহঃ) রাজপ্রাসাদে আপনাকে স্মরণ করেছেন। দলপতি উত্তর দিলেন, বাদশাহর নিকট আমার কোন প্রয়োজন নেই। তাঁর প্রয়োজন থাকলে তিনি আমার নিকট আসতে পারেন। দূতের নিকট দলপতির বক্তব্য শুনে বাদশাহ জুলকারনাইন (রহঃ) বললেন। সে ঠিক বলেছে। আসলেই তো আমার নিকট তাঁর কোন প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন আমার নিজের, সুতরাং আমারই তার নিকট যাওয়া উচিত।

অতঃপর একদিন বাদশাহ জুলকারনাইন (রহঃ) স্বয়ং সেখানে গিয়ে সেই দলপতির বা শায়েখের সাথে দেখা করে বললেন, আমি দূত পাঠিয়ে তোমাকে দরবারে ডেকেছিলাম, কিন্তু তুমি সেখানে যেতে সম্মত হলে না। এখন আমিই তোমার নিকট এসেছি। দলপতি বুজুর্গ বললেন, আপনার নিকট আমার কোণ প্রয়োজন থাকলে আমি অবশ্যই দরবারে হাজির হতাম। বাদশাহ বললেন, কয়েক দিন আগে আমি এদিকে এসেছিলাম। সেই সময় আমি তোমাদেরকে এমন অবস্থায় দেখে গেলাম যে, ইতোপূর্বে আমি কোন কওমকেই এমন অবস্থায় দেখতে পায়নি। তোমাদের নিকট আমি জীবন ধারনের কোন পার্থিব উপকরণ দেখতে পাইনি। তোমার কি কারনে স্বর্ণ-রৌপ্য ও অর্থবিত্ত সংগ্রহ করে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করছ না? তিনি জবাব দিলেন, স্বর্ণ-রৌপ্য ও অর্থ বিত্ত আমরা এ কারণে বর্জন করেছি যে, তাতে মানুষের চাহিদার কোন শেষ নেই। মানুষকে তা যতই দেয়া হোক সে আরো চাহিবে। অবশেষে এর পেছনে পড়ে আখেরাত বরবাদ করবে।

বাদশাহ জানতে চাইলেন, তোমরা কোবোড় খনন করে তার পাশে দাঁড়িয়ে নামায পড় কেন? তিনি বললেন, এর কারণ হল, শয়তানের প্রয়োচনায় কখনো দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়লেও ঐ কবর পূনরায় আমাদেরকে আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। বাদশাহ বললেন, আমি তোমাদেরকে ঘাস খেতে দেখেছি। তোমরা গবাদি পশু রেখে তার দুধ ও গোশত খাওয়া না কেন? তিনি বললেন, আমরা আমাদের উদরকে জানোয়ারের কবরে পরিণত করতে চাই না। জীবন ধারনের জন্য ঐ সামান্য ঘাসই যথেষ্ট। তাছাড়া উদারস্থ হওয়ার পর ঘাস ও সুস্বাধু খাবারের কোন পার্থক্যই অনুভূত হয় না। সবই এক রকম মনে হয়।

এবার তিনি হাতে একটি মানুষের মাথার খুলি উঠিয়ে বাদশাহর সামনে ধরে জিজ্ঞেস করলেন, বলতে পারেন এই মাথাটি কার? বাদশাহ বললেন আমার জানা নেই। তিনি বললেন, আল্লাহ পাক এক্সময় তাকে বাদশাহ বানিয়েছিলেন এ পৃথবীতে কিন্তু সে আল্লাহ্‌ পাকের হুকুম অমান্য করে মানুষের উপর জুলুম নির্যাতন ও অত্যাচার শুরু করে দেশে এক ত্রাসের সৃষ্টি করল। পরে আল্লাহ্‌ পাক তার দম্ভ ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়ে মৃত্যু বরণ করালেন। কাল হাশর ময়দানে তাকে এ জুলুম নির্যাতন শাস্তি দেয়া হবে।

পরবর্তী গল্প
হযরত ছালেহ (আঃ) এর মুযিযা

পূর্ববর্তী গল্প
কারামত সম্পর্কে শরীয়তের দৃষ্টিভঙ্গি

ক্যাটেগরী