বাদশাহর জমজমার মাথার খুলির ঘটনা | আমার কথা
×

 

 

বাদশাহর জমজমার মাথার খুলির ঘটনা

coSam ৭০৩


একদা হযরত ঈসা (আঃ) সিরিয়া দেশের এক জঙ্গলের পাশ্ববর্তী প্রান্তরের উপর দিয়ে কোথাও গমন করছিলেন। তখন তিনি পথিমধ্যে একটি মৃত মানুষের মাথার খুলি দেখতে পেলেন। তিনি আল্লাহ্‌র কাছে মোনাজাত করলেন, হে মাবুদ! তুমি আমাকে এই মাথার খুলিটির তথ্য জানিয়ে দাও।

হযরত ঈসা (আঃ) এর মোনাজাতের উত্তরে আল্লাহ্‌ তা’য়ালা বললেন, তুমি ঐ খুলিটিকে জিজ্ঞেস করলেই সবকিছু জানতে পারবে।

তখন হযরত ঈসা (আঃ) খুলিটিকে বললেন, হে খুলি! আল্লাহ্‌র হুকুমে তুমি আমার প্রশ্নের উত্তর দাও। সাথে সাথে খুলির ভেতর হতে আওয়াজ বের হল, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ঈসা রুহুল্লাহ” অতঃপর খুলিটি বলল, হে আল্লাহ্‌র নবী! আপনি কি জানতে চান জিজ্জেস করুন।

হযরত ঈসা (আঃ) তার নিকট জিজ্ঞেস করলেন, বলত, তুমি কি পুরুষ না মহিলা, পাপী না পূণ্যবান, ধনী না দরিদ্র, লম্বা না খাট, আর দাতা না বখীল ছিলে? আর তোমার নামটিই বা কি ছিল?

খুলি উত্তর দিল, হে আল্লাহ্‌র নবী! আমি দুনিয়াতে জীবিত থাকা অবস্থায় জনৈক বাদশাহ ছিলাম। আমার নাম ছিল জমজমা। আমি দানশীল এবং নেককার ছিলাম। আমার আকৃতি ছিল লম্বা। আমার অসংখ্য ধন সম্পদ ছিল। কোন বিষয়ে আমার কোন দুঃখ ছিল না। রক্তবর্ণ পোষাকে সজ্জিত পাঁচ হাজার অতি সুন্দর যুবক আমার গোলাম ছিল। আমার পাঁচশ নফর সুদক্ষ গায়ক ছিল। হাজার হাজার সুন্দরী যুবতী নর্তকী গায়কদের গানের তালে তালে নৃত্য করত। হে আল্লাহ্‌ নবী আমার জীবনের আমোদ প্রমোদ ও জাকজমকের সবকথা শুনালে আপনি বিস্ময় বোধ করবেন। আমি যখন মৃগয়ায় বের হতাম, আমার সাথে জরির পোষাক পরিহিত এক হাজার অশ্বারোহী ও চার হাজার সাদা পোষাক পরিহিত শিকারী গমন করতো। আমার আগে পিছে চার হাজার গোলাম থাকত।

হে আল্লাহ্‌র নবী! আমার অধীনে শত শত রাজা বাদশাহ ছিল। আমি দিগ্বিজয়ের মাধ্যমেই তাদেরকে আমার অধীনস্থ করেছিলাম। আমার সৈন্য বাহিনীর বিশালতা ও যুদ্ধের বর্ণনা শুনলে আপনি অবাক হবেন। আমি চারশ বছর যাবত সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী ছিলাম। আমি একজন সুপ্রসিদ্ধ যোদ্ধা এবং অসম সাহসী বীর ছিলাম। রূপে গুনে সেকালে আমার তুল্য কেউ ছিল না। আমি প্রতিদিন এক হাজার স্বর্ণ মুদ্রা গরীব দুঃখীকে দান করতাম। হাজার হাজার ক্ষুধার্তকে আমি আহার করাতাম এবং হাজার হাজার বিবস্ত্রকে বস্ত্রদান করতাম। তবে এক নিরাকার সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা’য়ালা নামে সে একজন আছেন, তা আমার অজ্ঞাত ছিল। আমি ছিলাম অগ্নি উপাসক।

হযরত ঈসা (আঃ) পূনরায় খুলিকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কতদিন আগে মৃতুবরণ করেছ? এবং কিভাবে তোমার মৃত্যু হয়েছিল? আর মালাকুল মওতের চেহারাই বা তুমি কিরূপ দেখছিলে, তা আমার নিকট পেশ কর।

খুলি বলল, আমি কয়েক বছর আগে মৃতুবরণ করেছি। হযরত ইলিয়াস (আঃ) সেই যমানার নবী ছিলেন। তিনি আমাকে সত্যধর্ম গ্রহণ করতে উপদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু আমি তার উপদেশ শুনিনি।

একদা আমি রৌদ্রলোকে বসেছিলাম। গরমে আমার মাথা ধরা অনুভব করলাম। সুতরাং আমি ওঠে গৃহমধ্যে গেলাম। কিন্তু আমার শরীর ক্রমেই খারাপ হয়ে আসতে লাগল। আমি শুয়ে রইলাম। কিন্তু মোটেও শান্তি পাচ্ছিলাম না। পাত্র মিত্ররা যথারীতি আমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করল। কিন্তু কোন ঔষধ আমার কোন উপকার হল না। আমি একরূপ জ্ঞানহীন অবস্থায় বিছানায় পড়ে রইলাম।

আমি বিহবল অবস্থার মধ্যে হঠাৎ একটা আওয়াজ শুনতে পেলাম কে যেন বলল, জমজমার জান কবজ করে দোযকে নিয়ে যাও। মুহুর্তের মধ্যেই মালাকুল মওত আমার সম্মুখে এসে হাজির হয়। তার মত বিরাট ও ভয়াল আকৃতির কাউকেও আমি তৎপূর্বে  দেখিনি। তার মস্তক যেমন আসমান ঠেকেছে ও পা দুখানা জমিনে রয়েছে, এরূপই ভয়ংকর মুর্তি।

সে আমার সামনে এসে দাড়ালে আমি দেখলাম তার কয়েকটি মুখ রয়েছে। তা দেখে আমি একেবারে জড়সড় হয়ে গেলাম। আমি জীবনে কখনোই আমাকে এত বেশী অসহায় বোধ করিনি। সে আমার দিকে এগিয়ে এল।

হযরত ঈসা (আঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলে যে, এতগুলো মুখ কেন? জমজমার খুলিটি উত্তর দিল হে আল্লাহ্‌র নবী! সে ভীষণ বিপদের মধ্যে ও আমি তার নিকট একথাটি জিজ্ঞেস করেছিলাম। তাতে সে জবাব দিল যে, আমার সামনের মুখ দিয়ে মুমিনের জান কবজ করার আদেশ দেই। আর ডানদিকের মুখ দিয়ে আসমানের অধিবাসীদের জান কবজ করার হুকুম দেব এবং বামদিকের ও পেছনের মুখ দিয়ে আমি কাফির ও মুশরেকের প্রাণ হরণ করার নির্দেশ দেই।

হযরত ঈসা (আঃ) জমজমাকে জিজ্ঞেস করলেন, মৃতুকালে তোমার কি ক্লেশ বোধ হয়েছিল।

সে উত্তর দিল, মালাকুল মওতের সাথে আরও কজন ফেরেশতা ছিল। তাদের কারো হাতে ছিল আগুনের গুরুজ, কারো হাতে আগুনের তলোয়ার, কারও হাতে আগুনের তীব্র শিখা তারা আমার নিকটে এসে আমার শরীরে আগুন ধরিরে দিল ঐ আগুনের তেজ এমন ছিল যে, মনে হয় তার একটি মাত্র কণা দুনিয়ার পতিত হলে সমগ্র দুনিয়া পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে। একটু পরেই ফেরাশতারা আমার শিরা উপশিরা ধরে আমার প্রাণ আকর্ষন করতে লাগল। আমি তাদেরকে বহু কাকুতি মিনতি করে বললাম, তোমারা আমার প্রাণের বিনিময়ে আমার রাজ্য, সম্পদ সিংহাসন ও যাবতীয় মালামাল গ্রহণ কর। তাতে জনৈক ফেরেশতা আমার মুখে এমন এক ভীষণ চড় মারল যে, আমার চেহারা বিকৃত ও বিভংস হয়ে গেল। তারা কর্কশ কন্ঠে বলে উঠল। হে মুর্খ হতভাগা! তুই কোথাই শুনেছিস যে, মহান আল্লাহ্‌র ফেরেশতারা কাফিরদের জানের বা পাপের বদলে কখনও ধন সম্পদ গ্রহণ করে থাকে?

তখন আমি বললাম, তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও। আমি আমার পরিবার পরিজন সহ আল্লাহ্‌র নামে উৎসর্গীত হয়ে যাব। উত্তরে তারা বলল, আল্লাহ্‌র ফেরেশতারা কখনও ঘুষ না প্রলোভনে প্রলোভিত হয় না। তুমি তাদেরকে প্রলুদ্ধ করতে পারবে না।

জমজমা বলল, হে আল্লাহ্‌র নবী! কি বলব, প্রাণ বের হতে আমার এত  অধিক কষ্ট হচ্ছিল যে, মনে হচ্ছিল, আমার উপরে একই সাথে হাজার তরবারীর আঘাত পতিত হচ্ছিল।

তারা আমার প্রাণ বের করে নিয়ে গেল। এ দিকে আমার দেহটিকে কবরস্থানের দিকে নিয়ে যাওয়া হল এবং তথায় দাফন করা হল। তা আমি তখনই জানতে পারলাম, যখন আমার মৃতদেহে পূনরায় প্রাণ সঞ্চারিত হবার পর আমি জেগে উঠলাম।

আমি জাগ্রত হবার পর দেখলাম, আমি চারিদিক মাটি দিয়ে বেষ্টিত অন্ধকার কবরের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে আছি। তখন ভয়ে ও কষ্টে আমি একেবারে এতটুকু হয়ে গেলাম। কিছুক্ষনের মধ্যেই দুদিকের মাটি আমাকে ভীষণভাবে চেপে ধরল। তার কষ্টের কথা বলার কোন ভাষা আমার জানা নেই। কিন্তু দুনিয়ার কেউই আমার সেই কষ্টের কথা জানতে পারল না। এ কষ্টের দ্বারা সবকিছু শেষ হল না, এ সময় আমার পার্থিব জীবনের দুই কাধে অবস্থানকারী দুই ফেরেশতা কিরামান কাতেবীন উপস্থিত হয়ে বলে গেল, দুনিয়াতে তুমি ভাল মন্দ যেসব কাজ করেছিলে এখন তার ফল ভোগ করতে থাক। তারপরই মুনকার ও নাকির নামক এমন ভয়ংকর মুর্তির দুজন ফেরেশতা এসে উপস্থিত হল যে, ঐরূপ ভয়াবহ মুর্তি যারা কোনদিন  দেখেনি তাদের পক্ষে কল্পনাও করা সম্ভব নয়।

ফেরেশতাদেরকে দেখে আমার অন্তরাত্মা শুকিয়ে গেলো। তারা আমাকে উঠিয়ে বসায়ে ভীষণ গর্জন করে জিজ্ঞেস করল বল, কে তোমার প্রতিপালক?

কি বলতে হবে আমার তা জানা ছিল না। তদুপরি তাদের ভয়ে অস্থির হয়ে আমি একে অজানাবশত দ্বিতীয়ত তাদের কে খুশী করার জন্য উত্তর দিলাম- তোমরাই আমার প্রতিপালক, তোমরাই আমার প্রভু।

এ কথা বলামাত্রই তারা আমাকে আগুনের গদার দ্বারা এমন ভাবে আঘাত করল যে, আমি সে আঘাতে মাটির সাথে মিশে গেলাম। আশ্চর্য যে তথাপি ও আমার প্রাণ বের হল না। তারা আবার আমার দেহটিকে ঠিকঠাক করে পূনরায় জিজ্ঞেস করল বল তোমার ধর্ম কি? আমি এর কোন উত্তর দিতে পারলামনা। তারা আমাকে প্রচণ্ড ধমক দিয়ে আবার প্রশ্ন করল, বল তোমার নবী কে ছিলেন? আমি প্রবল আতংকের সাথে বলে ফেললাম, আমার নবী তোমরা দুজন। শুনামাত্র তারা আমাকে গদা দ্বারা এমন আঘাত করল যে, আমার হাত মাংস চূর্ন বিচূর্ণ হয়ে তা মাটির সাথে মিশে গেল। আমার তখনকার মর্মন্তুদ অবস্থা দুনিয়ার কারো কানে পৌছলে সে তখনই সংসার ছেড়ে অরন্যে চলে যেত।

হে আল্লাহ্‌র নবী! আমি দীর্ঘ চারশ বছর বাদশাহী করার কালে যে আরাম আয়েশ করেছিলাম, মাত্র একদিনের কবর আযাবে তা আমার নিকট তিক্ত হয়ে গেল। যাই হোক ফেরেশতারা আমার উপরে অসহ্যকর আযাব ফলিয়ে অবশেষে বিদায় হল এবং বলে গেল, তোমার উপর আল্লাহর আযাব স্থায়ীভাবে চলতে থাকুক। স্থায়ীভাবে আযাব চলার উপকরণ ও বিষয় বস্তুর কোনই অভাব নেই।

কিছুক্ষণ পরে পূনরায় ঐ ফেরেশতারা আমার কবরে প্রবেশ করে আমাকে ধরে আসমানে অভিমুখে নিয়ে চলল, অন্ধকার কবর থেকে বের হয়ে আকাশের মুক্ত আলো বাতাসে এসে কিছুটা স্বস্তির নিঃস্বাস ফেললাম। মনে আশা জাগল যে, এবার হয়তো মুক্তি লাভ করব। কিন্তু আশা অমূলক। এমন সময় অদৃশ্য হতে এক আওয়াজ এল  পাপিষ্ট কে দোজখে নিয়ে যাও। তারা আমাকে কিছুদুর নিয়ে যাবার পর একজন ভীষণতর আকৃতির যা পূবোক্ত ফেরেশতা থেকে আরো ভীতিকর। সে মালেক ফেরেশতা দোযখের ভারপ্রাপ্ত, সে কাছে এসেই বলল, তাকে আগুনের শিকল দ্বারা বেঁধে লও। আদেশমাত্র কতিপয় ফেরেশতা এসে আমাকে নতূন এক স্থানে নিয়ে গেল। সেখানে নিয়ে আমাকে আগুনের বিছানায় উপর শুইয়ে দিয়ে শরীরের চামড়া টেনে খুলে ফেলতে লাগল। তারপর তারা আমার চর্মবিহিন শরীরে বেঁধে সর্প বিচ্ছু পরিপূর্ণ একটি গভীর গর্তে ফেলে দিল। ঐ গর্তে সর্প বিচ্ছু ছাড়াও অগ্নিরাশি দাউদাউ করে জ্বলছিল। শিকল টিও এত উত্তপ্ত ছিল যে, তার একটি মাত্র টুকরা দুনিয়াতে রাখা হলে দুনিয়া জ্বলে পুড়ে ভস্ম হয়ে যেত। আমার মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল, সুতরাং অসহ্য কষ্টের মধ্যে কোন প্রকার চীৎকার বা ক্রন্দন করার সাধ্য ছিল না।

এ সময় হযরত ঈসা (আঃ) বললেন, জমজমা! তুমি দোজখের কিছু বিবরণ আমাকে শোনাও।

জমজমা বলতে লাগল। হে নবী! দোযখের সাতটি দরজা আছে, (১)সাঈর (২) সাকার (৩) জাহান্নাম (৪) লাজা (৫) হাবিয়া (৬) জাহীম এবং (৭) হুতামা।

হে নবী! আপনি দোযখ বাসীদের অবস্থা দেখলে নিশ্চয় বলতেন যে, এদের উপর আল্লাহ্‌ তা’য়ালার কঠিন গজব নাজিল হয়েছে। তাদের সামনে, পেছনে, ডানে বামে, উপরে ও নিচে সব দিকেই দাউ দাউ করে ভীষন আগুন জ্বলছে। দোযখীরা ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় চিৎকার করছে। সেখানে তাদের চেহারা কয়লার মতো কালো হয়ে গেছে। তারা প্রতিমুহুর্তে আর্তনাদ এবং বিলাপ করছে। খাবার জন্য কিঞ্চিৎ খাদ্য ও পানীয় চাচ্ছে। উত্তরে বলা হচ্ছে, ওরে হতভাগার দল, এখানে আবার খাবার দাবার কিসের? এখানে তোদের খাবার হল আগুন আর আগুনের খাবার হল তোরা।

জমজমা বলল, হে আল্লাহর নবী! এক সময়ে ফেরেশতারা আমাকে পূরবর্তী স্থান থেকে তুলে একটি অগ্নিময় গাছের নিকট নিয়ে গেল। তার নাম যাককুম বৃক্ষ। ঐ সময় আমি তাদের নিকট কিছু খাবার প্রার্থনা করলে তারা আমাকে ঐ গাছের কন্টকযুক্ত পাতা খেতে দিল। আমি ক্ষুধার তাড়নায় খেয়ে ফেললাম। কিন্তু তা আমার গলায় আটকে গেল। আমি তখন চেষ্টা করে বমি করতে গেলে গলা ঠেকে টাটকা রক্ত বের হয়ে আসতে লাগল। তবূও সেই যাককুম পাতা বের হল না। আমি ফেরেশতাদের কাছে একটু পানি চাইলাম। তারা আমাকে এমন উত্তপ্ত পানি পান করতে দিল যে, তা পান করামাত্র আমার পেটের সব  নাড়ী ভুঁড়ি গলে মলদার দিয়ে বের হতে লাগল। আমার পায়ের তলা হতে মস্তকের উপর পর্যন্ত সর্বশরীর আগুনে জড়িয়ে ধরেছিল। তা হতে একটু নিস্কৃতি লাভ করা যায় কি না এ ধারণায় ফেরেশতাদের কাছে কিছু কাপড় চেয়েছিলাম তাতে তারা বলল, রে কমবখত! তুই সারাজীবন যে পাপ করেছিস, তার বদলে তুই এ দোযখে একমাত্র আগুন ব্যতীত আর কিছুই পাবে না। তুই নিজের সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তার আদেশ অমান্য করেছিস। তুই তার প্রদত্ত্ব নেয়ামত সমূহ ভোগ করেছিস অথচ তার শোকর আদায় করিসনি। তুই মানুষের প্রতি নিরর্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েছিস মানুষের হক ও ন্যয্য অধিকার নষ্ট করেছিস। অতএব এখন তার প্রতিফল ভোগ করে যেতে থাক। তোর ইচ্ছা ও চাহিদা অনুযায়ী তোকে কিছুই দেয়া হবে না। অবশেষে তারা আমাকে এক জোড়া জুতা পড়তে দিল। তা পরিধান করার পর আমার শরীরের শুধু রক্তমাংস নয় বরং মাথার মগজ পর্যন্ত বিগলিত হয়ে নাক দিয়ে এবং কান দিয়ে বের হতে লাগল।

সে বলল হে আল্লাহ্‌র নবী আপনি আমার জন্য একটু দোয়া করুণ যেন আমাকে আল্লাহ্‌ এই আযাব থেকে মুক্তি প্রদান করেন। আমাকে যেন পূনরায় দুনিয়াতে পাঠানো হয়, তাহলে অবশ্যই আমি এবার সেই একমাত্র নিরাকার আল্লাহ্‌র এবাদত করব। হযরত ঈসা (আঃ) তার জন্য দোয়া করলেন, হে মাবুদ আপনি পরম দাতা ও দয়ালু এবং অপরাধ ক্ষমাকারী। আপনি দয়া করে এ ব্যক্তিকে পূনরায় দুনিয়ার পাঠায়ে দিন যেন সে আপনার ইবাদত করে নৈকট্য লাভ করতে পারে।

অতঃপর আল্লাহ্‌ তা’য়ালা হযরত ঈসা (আঃ) এর দোয়া কবূল করলেন। এবং তাকে পূনরায় জীবন দান করে পৃথিবীতে পাঠালেন। সে নতুন জীবন পেয়ে সর্বক্ষণ আল্লাহ্‌র ইবাদত করে তাঁর নৈকট্য অর্জন করল। এরপর সে আশি বছর জীবীত ছিল বলে কথিত আছে।


পরবর্তী গল্প
গাছের ফলে কালেমা তাইয়্যিবা লেখা

পূর্ববর্তী গল্প
এক গাভীর ঘটনা

ক্যাটেগরী