বাতাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ | আমার কথা
×

 

 

বাতাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ

coSam ৩৩৮


একদিন এক বৃদ্ধা বাতাসের বিরুদ্ধে এক অভিযোগ নিয়ে আসল যে, হে আল্লাহর নবী ও রাজ্যের বাদশাহ! আমি অত্যন্ত দরিদ্র এক বৃদ্ধা। আমার গৃহে কয়েকটি ছোট ছোট ছেলেমেয়ে আছে। আমি তাদের খাওয়ার জন্য কিছু গম পিসে আটা মাথায় করে নিয়ে আসছিলাম। হঠাৎ বাতাস আমার সব আটা উড়িয়ে নিয়ে গেল। আমার প্রার্থনা হল, আপনি বাতাসের কাছে হতে আমার আটাগুলো উদ্ধার করে দিন। অথ্যথায় আমার ছোট ছোট মাসুম ছেলেমেয়েরা অনাহারে থাকবে। হযরত দাউদ (আঃ) তার অভিযোগ শুনে বলেন, হে বৃদ্ধা! বাতাসের উপর আমার কর্তৃৎত নেই। তোমার আটা কি করে বাতাস এর উদ্ধার করে দিব? তবে তুমি যেহেতু অভাবগ্রস্থ মহিলা তাই তোমার যে পরিমাণ আটা বাতাসে উড়িয়ে নিয়েছে আমি তোমাকে তার চারগুন আটা দিচ্ছি। তুমি তা নিয়ে যাও। বৃদ্ধা খুব আনন্দের সাথেই সম্মত হল। হযরত সুলাইমান (আঃ) এর সাথে তার সাক্ষাত হল তিনি জিজ্ঞেস করলেন, বৃদ্ধা! বাদশাহর কাছে কি অভিযোগ নিয়ে গিয়েছিলেন? বৃদ্ধা বলল, আমি বাতাসের বিরুদ্ধে নালিশ করতে গিয়েছিলাম, কিন্তু বাদশাহ সে অভিযোগের বিচার না করে আমাকে একবস্তা আটা দিয়ে দিলেন। হযরত সুলাইমান (আঃ) বৃদ্ধা কে বললেন, তুমি পুনরায় বাদশাহর দরবারে ফিরে গিয়ে বল যে, আমি আটা চাই না, বিচার চাই। এ পরামর্শ অনুযায়ী বৃদ্ধা হযরত দাউদ (আঃ) এর দরবারে পুনরায় বিচারপ্রার্থী হল। হযরত দাউদ (আঃ) বুড়ীর কাছে জানতে চাইলেন কে তাঁকে এ পরামর্শ দিয়েছে? বৃদ্ধা অত্যন্ত ভয়ে বলল, বাদশাহ সুলাইমান (আঃ) আমাকে একথা শিখিয়ে দিয়েছিন। তখন তাঁকে ডেকে এনে বাদশাহ বলেন, হে সুলাইমান! তুমি যে বৃদ্ধাকে আমার কাছে ফেরত পাঠিয়ে দিলে, তখন বল দেখি, আমি কিভাবে বাতাস হাযির করে তার বিচার করতে পারি? হযরত সুলাইমান (আঃ) বলেন, হে আমার পিতা! আপনি তো শুধু রাজ্যের অধিপতি নন, আপনি আল্লাহর মহাসম্মানী নবীও বটে। আপনার দোয়ার নিঃসন্দেহে বাতাস আপনার সামনে হাযির হতে বাধ্য হবে। যে পিতা আমার ভয় হচ্ছে যে, কিয়ামতের দিন বৃদ্ধা যখন আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আল্লাহর দরবারে হাযির হবেন, তখন আপনি দুনিয়াতে তার অভিযোগের বিচার না করার অপরাধে অপরাধী সাভ্যস্ত হবেন। পুত্রের কথায় হযরত দাউ্দ (আঃ) বাতাসকে উপস্থিত করার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন। আল্লাহ হযরত দাউদ (আঃ) এর দরবারে উপস্থিত হওয়ার জন্য বাতাসকে হুকুম করলেন। আল্লাহর হুকুম পেয়ে বাতাস আল্লাহর দরবারে হাজির হলেন। তিনি বৃদ্ধার অভিযোগ সম্পর্কে বাতাসের কি বলাবার আছে জিজ্ঞেস করলে বাতাস বলল, আমি আল্লাহর নির্দেশানুসারেই বৃদ্ধার আটা উড়িয়ে নিয়েছি। সেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে কিছুই করিনি। ঘটনাটা ছিল এরুপ- একখানা বিরাট জাহাজ বহু মালপত্র যাত্রী নিয়ে বিশাল সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছে। হঠাৎ জাহাজের তলদেশ একটি ছিদ্র হয়ে তা ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তখন জাহাজের যাত্রীরা কান্নাকাটি শুরু করল এবং আল্লাহর নামে এরুপ মানত করল, হে আমাদের রব! আপনি আমাদের প্রাণ রক্ষা করলে এ জাহাজের সমুদয় সম্পদ আমরা আপনার পথে বিলিয়ে দেবে। তখন আমি আল্লাহ তাআলার নির্দেশে এ বিদ্ধার আটাসমূহ উড়িয়ে নিয়ে এ জাহাজটির ছিদ্রে লাগিয়ে তা বন্ধ করে দেই। ফলে সমুদ্রগর্ভে ডুবোক্রম জাহাজখানা নিশ্চিত বিপদ রক্ষা পেয়েছে। এর কয়েকদিন পরই সমুদ্র তীরে একখানা জাহাজ নোঙ্গর করেছে। সংবাদ পেয়ে হযরত দাউদ (আঃ) সেখানে হাযির হলেন। জাহাজের আরোহীরা বলল, হুযুর! এ জাহাজের সমুদয় মালপত্র আমরা আল্লাহর পথে দান করার মানত করেছি। আপনি সমুদয় মাল গ্রহণ করে যথাযোগ্য স্থানে দান করে দিন। হযরত দাউদ (আঃ) জাহাজের সমুদয় মাল গ্রহণ করে তার অর্ধেক সে বৃদ্ধাকে এবং বাকী অর্ধেক অন্যান্য দুঃখী-দরিদ্রের মাঝে বিতরণ করলেন। অতঃপর তিনি বৃদ্ধা কে জিজ্ঞেস করলেন, হে বৃদ্ধা! তুমি এমন কি নেক আমল করছ যার বদৌলতে তোমার উপরে আল্লাহর এত অনুগ্রহ বার্ষিত হল? জবাবে বৃদ্ধা বলল, হে আল্লাহর নবী! আমি কোন সৎকাজ তো করি না তবে আমার গৃহের কোন ভিক্ষক এলে তাঁকে আমি কখনও খালি হাতে ফিরাই না। কিছু না কিছু অবশ্যই দিয়ে ভিক্ষুককে খুশী করে দেই। এ জন্য আমি কোনদিন না খেয়েও থাকি। সেদিন একটি ভিক্ষুক এসে তার ক্ষুধার্ত থাকার কথা জানাল। তখন গৃহের সকলের খাওয়া হয়ে গিয়েছিল। কেবল মাত্র আমিই খাওয়ার বাকী ছিলাম। নিজের জন্য যে দুখানি রুটি রেখেছিলাম তাই তাঁকে দিয়ে দিলাম। রুটি দুখানি খেয়ে সে বলল, ক্ষুধা তো নিবৃত্ত হল না। আরও দু'একখানা রুটি দিন। ঘরে তখন রুটি ছিল না। এমন কি আটাও ছিল না যে, রুটি প্রস্তুত করে দিব। গৃহে কিছু গম ছিল অগ্যতা ভিক্ষুককে বললাম, বাবা তুমি একটু অপেক্ষা রক গম পিশে আনতেছি। একটু পরেই তোমাকে রুটি প্রস্তুত করে দিতে পারব। তখন ভিক্ষুক অপেক্ষা করল। আমি গিয়ে গম পিশে আটা নিয়ে গৃহে প্রত্যাবর্তন করছিলাম। আমার সে আটাগুলোই বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে গেল যার বিচার আমি আপনার দরবারে দিয়েছি। আমি এখন বুঝতে পারলাম মহান আল্লাহ আমাকে এ আটার পরিবর্তেই দয়াপরবশ হয়ে এ মালগুলো দান করলেন।

পরবর্তী গল্প
হযরত দাউদ (আঃ)

পূর্ববর্তী গল্প
প্রবল আল্লাহভীতি

ক্যাটেগরী