বরফের ব্যবসা | আমার কথা
×

 

 

বরফের ব্যবসা

coSam ৯৬


এক গোয়ালা অনেক দিন যাবত দুধ বিক্রি করে জীবন যাপন করছিল। হঠাৎ একদিন তার ধনী হওয়ার বড় সাধ জাগল। সে চিন্তা করতে লাগলো - কিভাবে ধনী হওয়া যায়। ভাবনার শেষে স্থির করলো - সে ব্যবসা করবে।

যাক, একদিন সে গোয়ালিণীর কাছে ব্যবসার কথা প্রকাশ করল। গোয়ালিণী জিজ্ঞাসা করল -কিসের ব্যবসা করবে? গোয়ালা উত্তর দিল -বলা যাবে না। গোয়ালিণী বলল, আপনি তো আমার কাছে কোন কথা গোপন করেন না। বলুন না, কিসের ব্যবসা করবেন? সে বলল, ব্যবসার সব কথা সবার কাছে বলা যায়।

এরপর গোয়ালা তার সমস্ত গরুর গুলো বিক্রি করে ব্যবসার উদ্দেশ্যে শহরে পাড়ি জমাল। তখন ছিল শীতকাল। সমস্ত শহর ঘুরে ফিরে দেখল -বরফ সবচেয়ে সস্তা। তখন গোয়ালা চিন্তা করল- এই বরফ যদি গুদামজাত করে রাখা যায়, তাহলে অনেক লাভবান হওয়া যাবে। তার সাথে ধনী হওয়ার সাধটাও মিটবে।

যেই ভাবা সেই কাজ। গোয়ালা একটি গুদাম ভাড়া করল। এরপর বরফ কিনে গুদাম ভর্তি করে রেখে দিল।

শীত ও বসন্ত পার হয়ে আসল গ্রীষ্ম। অত্যন্ত গরমে চারদিকে হাহাকার পড়ে গেল। পানিরও অভাব দেখা দিল। বরফের দাম গেল বেড়ে। এখন গোয়ালার মন খুশীতে আটখানা। সে মনে মনে ভাবল- এই গরমে যদি বরফগুলো বাজারজাত করা যায়, তাহলে বেশ লাভবান হওয়া যাবে। এরপরের দিন গোয়ালা ধনী, হওয়ার এক বুক আশা নিয়ে শহরে গেল। ব্যবসায়ী পার্টি নিয়ে গুদামের নিকট দিল অমনি করে গেল। যখন গুদামের দরজা খোলা হল, তখন গোয়ালা দেখল - সেখানে বরফের কোন নাম -নিশানাও নেই। শুধুখালি গুদাম পড়ে আছে।

কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে সে চোর চোর বলে আর্তনাদ করতে লাগল। ফলে চারদিক থেকে অনেক লাখো লোক জড় হল। লোকেরা তাকে আর্তনাদের কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলল- আমি অনেক আগে বরফ কিনে এই গুদামে রেখেছিলাম, সেগুলো চোরে নিয়ে গেছে। লোকেরা একথা শুনে হাসিতে ফেটে হযরতছাড়ল মাওলানা পড়ল এবং বোকামীর জন্য গোয়ালাকে ভৎর্সনা করতে লাগল।

সূত্রঃ মুসলমানের হাসি  

পরবর্তী গল্প
ইক্ষু ক্ষেত্রে দন্ড

পূর্ববর্তী গল্প
ছাগল - ভেড়ার বুদ্ধি

ক্যাটেগরী