বনু শাইবান গোত্রকে দাওয়াত প্রদান – পর্ব ১ | আমার কথা
×

 

 

বনু শাইবান গোত্রকে দাওয়াত প্রদান – পর্ব ১

coSam ৭৩


হযরত আলী (রাঃ) বলেন, আল্লাহ তায়ালা যখন আপন নবী কারীম (সাঃ)-কে হুকুম দিলেন যে, আপনি নিজেকে আরব গোত্রসমূহের নিকট পেশ করুন। তখন তিনি মিনার উদ্দেশ্যে বাহির হইলেন। আমি ও হযরত আবু বকর (রাঃ) তাঁহার সঙ্গে ছিলাম। আমরা আরবদের এক মজলিসের নিকট গেলাম।

হযরত আবু বকর (রাঃ) অগ্রসর হইলেন এবং সালাম দিলেন। হযরত আবু বকর (রাঃ) সর্বদা (নেককাজে) অগ্রগামী থাকিতেন এবং তিনি আরবদের বংশ পরিচয় সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন। সুতরাং তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমরা কোন কওমের লোক? তাহারা বলিল, আমরা রাবীআহ কওমের লোক। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, রাবীআহ কোন বংশ? অতঃপর আবু নুআঈম (রহঃ) দীর্ঘ হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন।

উক্ত হাদিসে বর্ণিত হইয়াছে যে, হযরত আলী (রাঃ) বলিয়াছেন, তারপর আমরা শান্তি ও গাম্ভীর্যপূর্ণ এক মজলিসে উপস্থিত হইলাম। সেখানে অনেক উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ উপবিষ্ট ছিলেন। হযরত আবু বকর (রাঃ) অগ্রসর হইয়া সালাম দিলেন। হযরত আলী (রাঃ) বলেন, তিনি সর্বদা (নেককাজে) অগ্রগামী থাকিতেন।

অতঃপর হযরত আবু বকর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করিলেন, আপনারা কোন কওমের লোক? তাহারা বলিলেন, আমরা বনু শাইবানা ইবনে সা’লাবার লোক। হযরত আবু বকর (রাঃ) রাসূল (সাঃ)-এর প্রতি চাহিয়া বলিলেন, আমার পিতামাতা আপনার উপর কোরবান হউক, এই কওমের মধ্যে ইহাদের অপেক্ষা সম্মানিত আর কেহ নাই।

উক্ত মজলিসে মাফরুক ইবনে আমর, হানী ইবনে কাবীসাহ, মুসান্না ইবনে হারেছা ও নোমান ইবনে শরীফ উপস্থিত ছিল এবং তন্মধ্যে মাফরুক ইবনে আমর হযরত আবু বকর (রাঃ) এর সর্বনিকটবর্তী ছিল। তাহাদের মধ্যে মাফরুকই কথাবার্তায় সকলের উপরে ছিল। তাহার চুলের দুইটি দীর্ঘ ঝুটি বুকের উপর ঝুলিয়া ছিল।

যেহেতু মাফরুকই সকলের মধ্যে হযরত আবু বকর (রাঃ) এর নিকটবর্তী ছিল, সুতরাং হযরত আবু বকর (রাঃ) তাহাকেই জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমাদের সংখ্যা কিরুপ? মাফরুক বলিল, আমরা হাজারের অধিক, তবে এক হাজার তেমন কম সংখ্যা নহে যে, পরাজিত হইবে।

তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কীরূপ? মাফরুক বলিল, আমাদের কাজ হইল চেষ্টা করা, আর বিজয় লাভ করা তো প্রত্যেক কওমের আপন ভাগ্যের উপর নির্ভর করে। হযরত আবু বকর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমাদের ও তোমাদের শত্রুর মধ্যে যুদ্ধের অবস্থা কীরূপ হয়? মাফরুক বলিল, যুদ্ধের সময় আমরা সর্বাধিক ক্রোধান্বিত হইলেই আমাদের আক্রমণ প্রচণ্ড রূপ ধারণ করে। আমরা উন্নতমানের যুদ্ধকে ঘোড়াকে সন্তানের উপর এবং যুদ্ধাস্ত্রকে দুগ্ধবতী উটের উপর প্রাধান্য দিয়া থাকি। তবে সাহায্য আল্লাহর পক্ষ হইতে আসিয়া থাকে, কখনও আমাদিগকে সাহায্য করেন আবার কখনও আমাদের বিপক্ষকে করেন। আপনি মনে হয় কোরাইশ বংশীয়।

বনু শাইবান গোত্রকে দাওয়াত প্রদান – পর্ব ২ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
বনু শাইবান গোত্রকে দাওয়াত প্রদান – পর্ব ২

পূর্ববর্তী গল্প
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কর্তৃক বাজারে দাওয়াত প্রদান

ক্যাটেগরী