বনী মুস্তালিক যুদ্ধাভিযান | আমার কথা
×

 

 

বনী মুস্তালিক যুদ্ধাভিযান

coSam ২৪০


মক্কায় খোযাআ গোত্রেরই একটি শাখা গোত্রের নাম বনী মুস্তালিক। এ গোত্রের নিকটবর্তী কোদায়দ এলাকায় নিকটস্থ একটি কূপের নাম ছিল মিরাইসী। এ কূপের নিকট বনী মুস্তালিকের সাথে মুসলিম বাহিনীর যুদ্ধ সংঘটিত হয় বলে ইতিহাসে একটি মুরাইসী অভিযান নামেও খ্যাতি লাভ করে।

পঞ্চম হিজরী সালের শাবান মাসে মদীনায় খবর আসে যে, বনী মুস্তালিক গোত্রের সব লোক বিপুল রণসজ্জায় সজ্জিত হচ্ছে। অন্যান্য গোত্রেরও বহু লোক তাঁদের সাথে যোগদানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাঁদের রণসজ্জার খবরে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সম্যক উপলব্ধি করলেন, এসবই মুসলমানদের উপর মক্কার পৌত্তলিক, মদীনার মুনাফিক এবং ইহুদী, খ্রীষ্টানদের সাম্মিলিত আক্রমণের পূর্বাভাস মাত্র।

বনী মুস্তালিকের রণসজ্জার সংবাদ পেয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তৎক্ষাণাৎ কোন সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বিষয়টা তদস্ত করতে পাঠান। তিনি রিপোট দিলেন-বনী মুস্তালিকের রণসজ্জার সংবাদ সত্য। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কয়েশ' মুসলমানকে নিয়ে বনী মোস্তালিকের বস্থিপানে অগ্রসর হন।

২রা শাবান তারিখে মুস্তালিকের মুসলিম বাহিনী মদীনা ত্যাগ করে। এ সময় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মদীনার শাসনভার হযরত আবূযর গিফারী (রাঃ) এর উপর অর্পণ করেন। এবার মুসলিম বাহিনীর মাঝে কতগুলো মুনাফিকও প্রবেশ করে। বনী মোস্তালিক গোত্রীয়রা এ অভিযান সম্পর্কে পূর্বে কোন সংবাদই লাভ করতে পারে নি। কেনন, মদীনার সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্য তাঁরা যে গুপ্তচর নিয়োগ করেছিল। সে মুসলিম বাহিনীর হাতে বন্দী হয়।

মুসলিম বাহিনী অকস্মাৎ তাঁদের শিরোপরি হাজির হয়। এ অতর্কিত অভিযানে বনী মুস্তালিকের সহযোগী অন্যান্য গোত্রসমূহ কেটে পড়ে। কিন্তু বনী মুস্তালিকের কয়েকশ লোক মুরাইসী কুপের নিকট জড় হয়ে মুসলমানদের উপর আক্রমণ চালায়। তাঁদের কয়েকশ তীরন্দাজা যোদ্ধা তীর নিক্ষেপ করে মুসলিম বাহিনীকে ব্যতিব্যস্থ করে তোলে।

পরিস্থিতি অনুসারে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মুসলিম বাহিনীকে যথাযথ সুবিণ্যস্ত করে অল্পক্ষণের মধ্যেই সাধারণ আক্রমণ পরিচালনায় নির্দেশ দেন। বনী মুস্তালিকের যোদ্ধারা মুসলিম বাহিনীর আক্রমণের ধার সইতে না পেরে পালাতে শুরু করে। তাঁদের শতাধিক পরিবারের ছয়শত নরনারী মুসলিম বাহিনীর হাতে বন্দী এবং শতাদিক নিহত হয়। তাঁদের দু' হাজার উট পাঁচ হাজার ছাগ ও মেষাদিও মুসলমানদের হস্তগত হয়। বনী মুস্তালিকের সর্দার হারেসের কন্যা জুওয়ারিয়াও মুসলিম বাহিনীর হাতে বন্দিনী হন।

বনী মুস্তালিকের যুদ্ধবন্দীদের যথাসময়ে মদীনায় আনা হয় এবং তাঁদেরকে মুসলিম সৈন্যদের মাঝে বিতারণ করে দেয়া হয়। এভাবে বনী মুস্তালিক মুসলমানদের দাসদাসীতে পরিণত হয়। বন্দীদের দুরবস্থা দর্শনে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) খুবই ব্যথিত হন। তিনি বনী মুস্তালিক সর্দার হারেসের কন্যা জুওয়াইরিয়া বন্টনে সাহাবী সাবেত বিন কায়স (রাঃ) এর ভাগে পড়েন।

জুওয়াইরিয়া হযরত সাবেত বিন কায়স (রাঃ) এর নিকট মুক্তি প্রার্থনা করলে তিনি নয় উকিয়া স্বর্ণ মুক্তিপণ দাবী করেন। কিন্তু এ মুক্তিপণ আদায়ের সামর্থ তাঁর নেই। কেননা, সর্দার কন্যা হলেও এখন তিনি কপর্দকশূন্য। তাই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সমীপে এসে নিজের অবস্থায় কথা জানালেন, সাবেত বিন কায়স (রাঃ) এর দাবীকৃত মুক্তিপণ আদায়ের সামর্থ আমার নেই।

অধিকন্তু তিনি নিজেকে মুসলমান বলেও প্রকাশ করেন। তিনি মুক্তিলাভে সাহায্য কারার জন্য রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সমীপে নিবেদন জানান।

পরবর্তী গল্প
হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) এর আমীরের দায়িত্ব গ্রহণ করিতে অস্বীকার করা

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত ওমর (রাঃ)-এর ঋণ, দাফন ও ছয়জনকে খলীফা নিযুক্তকরণ

ক্যাটেগরী