বনি ইসরাইলদের চল্লিশ বছর তীহ ময়দানে অবস্থান—পর্ব ৪

বনি ইসরাইলদের চল্লিশ বছর তীহ ময়দানে অবস্থান—পর্ব ৩ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

অতএব আপনি আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন আমাদের জন্য শাক-সবজি তরিতরকারি, পেয়াজ-রসুন, ইত্যাদি জাতীয় খাদ্যর ব্যবস্থা করুক।  হযরত মুছা (আঃ) আল্লাহর নিকট এই খাবার বিষয়ে  আরজ করলেন আল্লাহ তায়ালা এ দাবি পত্যখান করে দেন এবং বলল যে, তাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য এ খাবার বরাদ্ধ  করা হয়েছে।  অতএব রুচি পরিবর্তনের জন্য কোন ব্যাবস্থা  করা হবে না।  হ্যাঁ! তারা যদি রুচি পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন  খাবারের দাবি করে তবে তাদেরকে পার্শ্ববর্তী শহরে যেতে বলুন।  কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে তাদের পক্ষে চল্লিশ বছরের মধ্যে কোন শহরে যাওয়ার ক্ষমতা নেই।  বনি ইসরাইলরা তখন হযরত মুছা (আঃ) এর উপর  অনেক উত্যক্ত করেছে।  দাবির পরে  দাবি আদায় করে অনেক সুযোগ সুবিধা তার ভোগ করেছে।  যদি হযরত মুছা (আঃ) তাদের প্রতি আন্তরিক না রাখতেন এবং তাদের দাবি সমুহ আল্লাহার দরবারে মঞ্জুর না করে দিতেন, তাহলে তারা শেয়াল কুকুরের ন্যায় অল্প দিনের   মধ্যে সমূলে ধ্বংস হয়ে যেত।  

হযরত মুছা (আঃ) ইচ্ছা করলে তাদের থেকে পৃথক হয়ে ভাল ভাবে জিবন-যাপন করতেন।  কিন্তু সে চিন্তা কোন দিন তার  মাথায় উদায় হয়নি।  এভাবে তিনি ত্রিশ বছর অতিবাহিত করার পর ওখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন।  

চল্লিশ বছর পুর্ন হতে বাকি ছিল দশ বছর।  এই দশ বছর এর  মধ্যে বনি ইসরাইল  যাবতীয় নাফার মান ব্যক্তিরা মারা গেল। বাকি থাকল তাদের সন্তান আর সন্ততিরা।  যারা এই ময়দানে জন্ম গ্রহন করছে তাদের বয়স চল্লিশ বছর।  এখন তারা যুবক।  

যে দিন চল্লিশ বছর পূর্ণ হল সেদিন তারা তিয়া ময়দান থেকে বের হওয়ার পথ খুজে পেল।  চল্লিশ বছর পর এক দিনও আর তাদের সেখানে অবস্থান করতে হয় নি।  তারা ওখান থেকে বের হয়ে নিজের দেশে মিশরে চলে গেলেন।  আর কতকে কালুত ও ইউছার সাথে সিরিয়া বিজয়ে জন্য রওয়ানা করল।  কালুত ও ইউসা উভয়ই আল্লাহর পক্ষ থেকে নবুয়াতী লাভ করেন।  তারা হযরত মুছা (আঃ) এর কাঙ্ক্ষিত আশা সিরিয়া বিজয় বাস্তবায়িত করল।  যে বিজয় অর্জনের  কথা ছিল চল্লিশ বছর পূর্বে।  বনি ইসরাইলদের নাফারমানীর জন্য তা অর্জন  হল চল্লিশ বছর পরে।  ইউসা (আঃ) ছিলেন হযরত ইউছুপ (আঃ) এর বংশধর।  ইউসা (আঃ) এর পরে  কালুত (আঃ) নবুয়তী লাভ করেন।  তিনি ছিলেন এহুদ বিন ইয়াকুব (আঃ)  এর-বংশধর।  

সূত্রঃ কুরআনের শ্রেষ্ঠ কাহিনী

বনি ইসরাইলদের চল্লিশ বছর তীহ ময়দানে অবস্থান—পর্ব ১ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।