বনি ইসরাইলদের চল্লিশ বছর তীহ ময়দানে অবস্থান—পর্ব ৩

   বনি ইসরাইলদের চল্লিশ বছর তীহ ময়দানে অবস্থান—পর্ব ২ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

তিয়া ময়দানটি ছিল একটি মরু ময়দান।  সেখানে কোন গাছপালা খাদ্য কিছুই ছিল না।  এক প্রান্তে কাটা গাছের এক জঙ্গল ছিল।  সে সেখানে কোন খাদ্য বা পশু ছিল না।  বনি ইসরাইল দের মজুত খাদ্য  শেষ হয়ে গেল।  তারা হযরত মুছা (আঃ) এর নিকট গিয়ে বলল, হে নবী আমরা আপনাকে সঠিক নবী বলে বিশ্বাস করি এবং আল্লাহ তায়ালার উপর আমাদের ঈমান এর বহাল আছে।  আমরা আপনার অনুগত। আমরা এই জেহাদের হুকুম ব্যত্যিত আর সকল হুকুম পালন  করতে সম্মত আছি।  আমরা সকলে আপনার আত্নীয়-স্বজন ও বংশীয় লোক।  এখন আমরা খাদ্যর অভবে মৃত্যু বরন করব আর আপনি তা নিরবে সহ্য করবেন।  আপনি আমাদের খাদ্যর জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করুন।  হযরত  মুছা (আঃ) বনি ইসরাইল এর কথা অপেক্ষা করতে পারলেন না। তিনি তাদের মহব্বতে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করলেন এবং খাদ্যর ব্যবস্থা চাইলেন।

আল্লাহ তায়ালার নবীর দোয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বলেন,হে  নবি! তুমি তোমার অবাধ্য কওমের জন্য বদ দোয়া করেছিলে।  আল্লাহ তা কবুল করেছে।  এখন তাদের জন্য দোয়া করছ। এটা  তোমার আল্লাহ কবুল করবে না।  তোমার বংশের লোকেরা এ তিয়া ময়দানে চল্লিশ বছর কাটাবে।  এটাই  তাদের শস্তি হিসাবে মঞ্জুর করা হয়েছে।  হ্যাঁ তাদের আহার এর ব্যবস্থা টা করে দেওয়া হবে।  তাদের জন্য মান্না ও ছালোয়া নামের দুই রকমের খাবারের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। পরের দিন ভোর বেলা থেকে ধনিয়া ফলের ন্যায় একপ্রকার   ফল বৃষ্টি ধারার ন্যায়  আকাশ থেকে পতিত হতে থাকে। ফলগুলা খুব মিষ্টি ও তৃপ্তিদায়ক।  বনি ইসরাইল এর লোকেরা এ ফলগুলো কুড়িয়ে নিয়ে খেত, বিকেল বেলা এক প্রকার ছোট ছোট পাখি ঝাকে ঝাকে এসে তাদের কাছে বসত।  তারা এ পাখি জবেহ করে তার গোস্ত ভুনা করে খেত।  এভাবে তাদের দিন গুজরান হতে থাকে।  প্রখর রোদে পানির অভাবে  বনি ইসরাইলরা খুবই যন্ত্রণার সম্মুখীন হল।  তখন তারা নবীর  নিকট গিয়ে পানি এবং ছায়া প্রাপ্তির আবেদন করল।  নবী দোয়া পরাবশ হয়ে আল্লাহ তায়ালার নিকট ফরিয়াদ  জানালেন।  আল্লাহ তায়ালা তখন তাদের জন্য স্থায়ীভাবে  মেঘমালার ব্যবস্থা করে দিলেন।  যাতে তারা রোদের তাপ  থেকে  মুক্তি লাভ করতে  সক্ষম হয়।

 পানির ব্যবস্থার জন্য আল্লাহ তায়ালা হযরত মুছা (আঃ) কে তার হাতের আষা দ্বারা নির্দিষ্ট এক পাথরের উপর আঘাত করতে বলল, হযরত মুছা (আঃ) আল্লাহর আদেশ অনুসারে উক্ত পাথরের উপর লাঠি দ্বারা আঘাত করলেন।  অমনি সেখান থেকে বারটি পানির নহর প্রাবাহিত হতে আরম্ভ করল।  বনি ইসরাইল বার গোত্র  এর মধ্যে ঐক্য ছিল না।  তারা প্রত্যেকে অপরের চাইতে বনিয়াদি বলে দাবি করত।  যার ফলে একদল লোকেরা  অপর দলের খাদ্য ও পানির মুখাপেক্ষীত হতে চাইত না।  এ অন্তর্দ্বন্দ তাদের মাঝে দির্ঘ কাল থেকে বলবত ছিল।

 এ অবস্থা চলাকালীন সময়ে বনি ইসরাইলরা তিয়া ময়দান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখে।  কিন্তু কার পক্ষে তা সম্ভব হয় না।  সারাদিন সারা রাত হাটার পরে যেখানের মানুষ সেখানে ফির আসত।  হযরত মুছা (আঃ) আল্লাহ তায়ালার  আদেশ ক্রমে বনি ইসরাইলদের নিয়ে জেহাদের উদ্দেশ্য সিরিয়া যাত্রা করেছিলেন।  অতএব সে নবীর পক্ষে আল্লাহর আদেশের পরিপন্থী মিশর যাত্রার পক্ষে রায় প্রদান করা অথবা  বনি ইসরাইলদের মিশরের পথ প্রদর্শন করা কোন ক্রমে সম্ভব ছিল না।  তাই তিনি বনি ইসরাইলদের রক্ষার জন্য সিরিয়া গমনের কথা ছাড়া তার উপায় ছিল না।  আর সিরিয়া যাত্রার বিষয় বনি ইসরাইল দল আদৌ সম্মত ছিল না।

 এমতাবস্থায় বনি ইসরাইলদের সঙ্গে হযরত মুছা (আঃ) ও হযরত হারুন (আঃ) কে নিয়ে তিয়া ময়দনে বসাবস করতে হল।  যদিও কেয়েক বছর কষ্ট করে বনি ইসরাইলরা অতিষ্ট হয়ে যায়।  তখন হযরত মুছা (আঃ) নিকট সিরিয়া যাত্রার ওয়াদা করে।  কিন্তু এ সময় হযরত মুছা (আঃ) আল্লাহ তায়ালার অনুমতি প্রার্থনা করে।  তখনা আল্লাহ তায়ালা তাদের    সিরিয়া যাওয়ার অনুমতি দিলেন না বরং আল্লাহ তায়ালা  নবীকে জানিয়ে দিলেন যে, তিয়া ময়দানে তাদের কে এভাবে চল্লিশ বছর শাস্তি ভোগ করতে হবে।  তার পর মুক্তি পাবে এবং সিরিয়া বিজয় হবে।  হযরত মুছা (আঃ) আল্লহ তায়ালার  ঘোষণার পর আর কোন কথা বলতে সাহস পেলেন না।  বনি ইসরাইল এর সাথে তিনিও তিয়া ময়দানে থেকে গেলেন।  বনি ইসরাইল এর লোকেরা আসমানি খাদ্য মান্না ও ছায়েলা নিয়মিত খেত এবং বস্তা বন্দি করে জমা রাখত।  হযরত মুছা (আঃ) এ খাদ্য জমা করতে নিষেদ করত।  কিন্তু তারা শুনল না।  প্রায় এক মাসের খাদ্য জমা করে রেখে দিল।  তখন আল্লাহা তায়ালা উক্ত আসমানি খাবার বন্ধ করে দেন।

  তখন  তারা অস্থির হয়ে পড়ে এবং হযরত মুছা (আঃ) কে আল্লাহর দরবারে দোয়া করে খাদ্যের ব্যবস্থা করতে বলে।  হযরত মুছা (আঃ) তাদের খাদ্যর জন্য আলাহর কাছে দোয়া করেন।  তখন আল্লাহ তায়ালা তাদের খাদ্যর পরিমান কমিয়ে আবার     খাদ্য দিতে আরম্ভ করেন, আল্লাহ তায়ালা যে পরিমান খাদ্য  তাদের দিত।  সে খাবার তারা সংগ্রহ করে রাখতে পারত না। একদা বনি ইসরাইল এর লোকেরা হযরত মুছা (আঃ) এর নিকট বলল, হে নবী! আমরা একঘেয়ে খাবার আর কত দিন খাব।  আমাদের এই খাদ্য অরুচি ধরে গেছে।

সূত্রঃ কুরআনের শ্রেষ্ঠ কাহিনী

বনি ইসরাইলদের চল্লিশ বছর তীহ ময়দানে অবস্থান—পর্ব ৪ পড়তে এখানে ক্লিক করুন  

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।