ফেরাউনের স্ত্রী | আমার কথা
×

 

 

ফেরাউনের স্ত্রী

coSam ১৩১


সমগ্র মিসরে বনি ইস্রাইল কওমের মধ্যে মাত্র একজন স্ত্রীলোকই নিজের মান-সম্মান ও ইযযত বাঁচিয়ে চলতে পেরেছিলেন। তিনি হলে ফেরাউনের স্ত্রী হযরত আছিয়া। বনি ইস্রাইল বংশোদ্ভুত রমনী হওয়া সত্তেও ফেরাউনের স্ত্রী হওয়ার কারণে তার মান-সম্মান ও মর্যাদা ঠিক মহারানীর মতই ছিল। তিনি ছিলেন সমগ্র মিসরের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ট সুন্দরী ও গুনবতী নারী। তার মত বিদূষী, চরিত্রবতী ও সুন্দরী রমনী সমগ্র মিসরে দ্বিতীয়টি ছিল না। তিনি অত্যন্ত ধর্মনুরাগীও ছিলেন। তিনি ছিলেন হযরত ইউসুফ (আঃ) এর প্রচারিত খাটি ধর্মের অনুসারী। ফেরাউন হযরত আছিয়াকে তার রুপ ও গুনে মুগ্ধ হয়ে বিয়ে করেছিল।

ফেরাউন যখন প্রথম খোদাই দাবী করে সমগ্র মিসরে প্রচার করে দিল তখন তার ধারণা ছিল যে, হযরত আছিয়া তার অর্ধাঙ্গিনী হিসেবে তো অবশ্যই তার অনুগত থাকবে। তার নির্দেশ মান্য করবে, তাঁকে খোদা মানবে ও তার উপাসনা করবে।

কিন্তু বিবি আছিয়ার ক্ষেত্রে ফেরাউনের এ ধারণা মিথ্যা প্রমাণিত হল। বিবি আছিয়া স্বামী হিসেবে ফেরাউনকে তিনি যথেষ্ট মর্যাদা দিতেন। তার সাথে স্ত্রীসূলভ আচরণে সামান্য অবহেলাও করতেন না। তাঁকে মনে প্রাণে-ভালবাসতেন এবং ভক্তি-শ্রদ্ধা করতেন। সদা-সর্বদা তার কল্যাণ ও মঙ্গল কামনা করতেন। কিন্তু এতদসত্ত্বেও তিনি ফেরাউনকে কখনও স্বীয় উপাস্য হিসাবে মানতেন না এবং তার উপাসনা করতেন না। ফেরাউনের অবশ্য এটা অজানা ছিল না। কিন্তু তা সত্ত্বেও তার সাথে প্রথম কোন রুক্ষ ব্যবহাহার বা কঠিন আচরণ করেননি। এর একমাত্র কারণ হযরত আসিয়ার রুপ ও গুনে সে মুগ্ধ ছিল। এবং মনে মনে সে এ আশা পোষণ করত যে, একদিন সে তার অনুগত হবেই। স্ত্রী হিসাবে কতদিন আর অবাধ্য থাকতে পারবে।

কিত্নু শেষ পর্যন্ত বিবি আছিয়া ফেরাউনের এ আশা কোনদিনই সফল হয়নি। হযরত আছিয়া তার সত্য ও খাটি দ্বীনের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থাকে সারাজীবন সগৌরবে রক্ষা করে নারী জগতে নিজেকে অতুলনীয় মর্যাদার আসনে সুপ্রতিষ্ঠিত করে গিয়েছে।

বনি ইস্রাইল ফেরাউন এবং কিবতীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে মিশর হতে অন্যত্র চলে যাওয়ার চেষ্টা করত। কিন্তু তাতে স্বয়ং ফেরাউন এবং কিবতীদের অসুবিধা হবে ভেবে যাতে একজন বনি ইস্রাইল দেশত্যাগ করতে না পারে তজ্জন্য কোঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা হত।

বনি ইস্রাইল এত জুলুম ও দুঃখ-কষ্ট ভোগ করা সত্ত্বেও তারা তাদের ধর্মবিশ্বাসকে অক্ষুণ্ণ রেখে ফেরাউনের প্রচারণার নিকট আত্মসমর্পণ করেনি। তারা সর্বদা আল্লাহর দরবারে ফেরাউনের কবল হতে মুক্তিলাভের জন্য কায়মবাক্যে প্রার্থনা করে।

পরবর্তী গল্প
গোরস্তানের প্রহরী রুপে কাবুস

পূর্ববর্তী গল্প
মাদইয়ানের দিকে যাত্রা - পর্ব ১

ক্যাটেগরী