ফেরাউনের পরাজয়ের পর – পর্ব ৩ | আমার কথা
×

 

 

ফেরাউনের পরাজয়ের পর – পর্ব ৩

coSam ১০৫


ফেরাউনের পরাজয়ের পর – পর্ব ২ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

দীর্ঘ দিন পর্যন্ত আমরা নবীর আগমনের পথের দিকে চেয়ে থেকে কিবতীদের সমস্ত জুলুম নির্যাতন সহ্য করেছি। অতঃপর আপনি নবী হয়ে আমাদের মধ্যে আগমন করেছেন। আপনাকে পেয়ে আমরা ফেরাউনের জুলুম হতে আশু মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু আপনার আবির্ভাবের পর এক দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হতে চলেছে অথচ আমাদের কাঙ্খিত মুক্তির কোন আভাষ দেখছি না বরং দিন দিন ফেরাউনের নব নব জুলুমের সম্মুখীন হতে চলছি। এখন আমরা কি করব? আমাদের কি আশু মুক্তির কোন পন্থা বের হয়ে আসবে না?

কোরআনের ভাষায়-

তারা বলল, আমরা তো সর্বদা মছিবতেই গ্রেপ্তার হয়ে রইলাম আপনার আবির্ভাবের পূর্বেও আবার আপনার আবির্ভাবের পরেও। (সূরা আরাফ)

তাদের এ করুণ হৃদয়স্পর্শী বক্তব্য শুনে হযরত মূসা (আ) আবার তাদের সম্মুখে শূভ শেষ ফলের কথা উল্লেখ করলেন। বলেন, যে, হে আমার জাতি! যদি তোমরা আমার উপদেশ মেনে চল তবে জানবে যে, অতি সত্বর তোমাদের শত্রুরা ধ্বংস হয়ে যাবে। এ দেশ তোমাদের করতলগত হবে।

তবে এও জেনে রেখ যে, আল্লাহ্‌ পাক অনেককে যমীনের কোন অংশের আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ দান করার দ্বারা শুধু তাকে এ অংশের অধিপতি বানানো নয় বরং মূল উদ্দেশ্য হল যে অধিপতি হয়ে সেখানে ইনসাফ কায়েম করবে, আল্লাহ্‌ তায়ালার প্রদত্ত বিধানের প্রচার ও প্রসার ঘটাবে। সুতরাং যখন তোমরা মিশরের আধিপত্য লাভ করবে তখন এসকল বিষয়ের দিকে খুব সতর্ক নজর রাখবে। এমন যেন না হয় যে তোমরা ক্ষমতা অধিষ্ঠিত হওয়ার পর এ উপদেশ ভুলে গিয়ে নিজেদের জন্য ধ্বংস ডেকে যান। কোরআনের ভাষায়-

“মূসা বলেন অতি সত্বর তোমাদের রব তোমাদের শত্রুদেরকে ধ্বংস করবেন এবং তাদের স্থলে তোমাদেরকে এ ভূখণ্ডের অধিকারী করবেন। অনন্তর তিনি তোমাদের কার্যের ধারা দেখবেন।” (সূরা আরাফঃ আয়াত ১২৯) হযরত মূসা (আ) পরিষ্কারভাবে ইসরাইলীদেরকে তাদের ভবিষ্যৎ বিজয়ের সংবাদ অবগত করালেন। তারা তার আদেশ শুনে সান্ত্বনা লাভ করল। আরও অধিক ধৈর্যধারণের পাকাপোক্তা নিয়ত করল। এদিক ফেরাউব বনী ইসরাইলীদের প্রতি বিভিন্ন দিক থেকে জুলুম নির্যাতনের ফন্দী বের করতে থাকল।

পূর্ববর্তী নবীদের উম্মতদের জন্য সব জায়গায় নামায আদায় করবার অনুমতি ছিল না। বরং তাদের জন্য নির্দেশ ছিল তারা যেন এবাদতখানায় গিয়ে ইবাদত করে, নিজ নিজ গৃহ নামায আদায় না করে। তাই বনী ইসরাঈলীরাও স্বীয় নামায আদায় করার জন্য বিশেষ বিশেষ ইবাদত খানা বানিয়ে রেখেছিল। আর সেখানে গিয়ে আল্লাহ্‌ তায়ালার এবাদত বন্দেগী করত। এবার ফেরাউনের কুনজর পড়ল তাদের ইবাদতখানার প্রতি। বনী ইসরাঈলীরা যেন তাদের আল্লাহর ইবাদত না করতে পারে সে জন্য সে তাদের ইবাদতখানাসমূহ ধ্বংস করে দেয়ার নির্দেশ জারী করল। ফেরাউনের নির্দেশ অনুযায়ী বনী ইসরাঈলীদের সমস্ত ইবাদত খানা মাটির সাথে মিশিয়ে দিন।

ফেরাউনের পরাজয়ের পর – পর্ব ৪ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
ফেরাউনের পরাজয়ের পর – পর্ব ৪

পূর্ববর্তী গল্প
ফেরাউনের পরাজয়ের পর – পর্ব ২

ক্যাটেগরী