ফেরাউনের পরাজয়ের পর – পর্ব ২ | আমার কথা
×

 

 

ফেরাউনের পরাজয়ের পর – পর্ব ২

coSam ১৬০


ফেরাউনের পরাজয়ের পর – পর্ব ১ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

হযরত সাঈদ বিন জুবাইর বলেন, হযরত মূসা (আ)-এর সাথে মোকাবেলায় পরাজয়ের পর ফেরাউনের অবস্থা এমন এক পর্যায়ে উপনীত হয়েছিল যে, যখন হযরত মূসা (আ)-কে দেখত তখন তার পেশাব পড়ে যেত। তাই সে তাদের সম্পর্কে কিছু কথা না বলে বনী ইসরাইল সম্পর্কে এক সিদ্ধান্তের কথা তার সভাসদদের জানাল কোরাআনের ভাষায়-

"আমি এখন থেকে তাদের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা করতে শুরু করব আর তাদের নারীদেরকে জীবিত রাখব। তাদের উপর আমার সর্ব প্রকারের ক্ষমতা রয়েছে।" (সূরা-আরাফঃ আয়াত-১২৭)

ফেরাউন তার সভাসদদের এ জবাব দেয়ার মাধ্যমে বুঝাতে চেয়েছিল যে, বনী ইসরাইলীদের পুত্র সন্তান হত্যা করে ফেললে তাদের মধ্যে ধীরে ধীরে পূরুষের সংখ্যা কমে যাবে আর নারীদিগকে জীবিত রাখার ফলে তাদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকবে।

আর যদি এভাবে চলতে থাকে তবে হযরত মূসা (আ)-এর কওম দুর্বল হয়ে পড়ে তবে তার কার্যকলাপ আপনা হতেই বন্ধ হয়ে যাবে। পরিষদের লোকদের দাবীর মুখে সে উক্ত বক্তব্য দিলেও মূসা (আ) সম্পর্কে কোন কথাই বলল না। এর কারণ, তার অন্তরে রয়েছে হযরত মূসা (আ)-এর ভয়।

অতঃপর স্বীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ জারী করল। বনী ইসরাইলের লোকেরা ফেরাউনের ঘোষণা শুনে আতংকিত হয়ে পড়ল যে, হযরত মুসা (আ)-এর জন্মের সময় যে আযাব বনী ইসরাইলের উপর নেমে এসেছিল আজ আবার তারই পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে। হযরত মূসা (আ) অনুভব করলেন।

ফিরাউনের ঘোষণা বনী ইসরাইলীদের মধ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। তাই তিনি নবী সূলভ স্নেহ মমতা নিয়ে সম্প্রদায়ের লোকদের সামনে হাযির হলেন এবং ফেরাউনের অত্যাচার হতে নাজাতের পন্থা বাতলালেন। এ সম্পর্কে তিনি দুটি কাজের কথা বলেন- এ সময় তোমরা সকল অবস্থায় আল্লাহ্‌ পাকের কাছে সাহায্য প্রার্থনা কর আর পূর্ণ নাজাত না হওয়া পর্যন্ত ধৈর্যাবলম্বন কর। আর এও বলে দিলেন যে, তোমরা আমার উপদেশ পালন করলে জেনে রেখ যে, এ দেশ তোমাদের, শেষ পর্যন্ত তোমরা জয়ী হবে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ্‌ পাক ইরশাদ করেন-

মূসা তার জাতীয় লোকদেরকে বলেন, তোমরা আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা কর এবং ধৈর্যাবল্বন কর। এ ভুমি আল্লাহ পাকের। তিনি স্বীয় বান্দাহদের মধ্যে হতে যাকে ইচ্ছা করেন। এর উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেন। আর শেষ পর্যন্ত মুত্তাকীরাই সফলতা লাভ করে।(সূরা-আরাফঃ আয়াত-১২৮)

হযরত মূসা (আ)-এর উপদেশ শুনে বনী ইসরাঈলীরা সন্তুষ্ট হতে পারে নি বরং তারা হযরত মূসা (আ)-কে বলল যে, হে নবী! আপনার আগমনের পূর্বে আমরা ফেরাউনের জুলুমের শিকার হয়েছিলাম। অমানষিক নির্যাতনের যাতাকলে আমরা নিষ্পেষিত হয়েছি। তখন আমাদের বড় আশা ছিল যে আমাদের মধ্যে কোন নবীর আবির্ভাব ঘটবে। তিনি আমাদেরকে ফেরাউনের জুলুম হতে নাজাতের দিকে নিয়ে যাবেন। আমরা জুলুম মুক্ত হব।

ফেরাউনের পরাজয়ের পর – পর্ব ৩ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
ফেরাউনের পরাজয়ের পর – পর্ব ৩

পূর্ববর্তী গল্প
ফেরাউনের পরাজয়ের পর – পর্ব ১

ক্যাটেগরী