প্রবল আল্লাহভীতি | আমার কথা
×

 

 

প্রবল আল্লাহভীতি

coSam ১৫৮


হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) এর আল্লাহ ভীতির প্রাবাল্য এত অধিক ছিল যে, তিনি বেশিরভাগ সময় কান্নাকাটি করতেন অধিক কান্নাকাটি করার দরুন তার মুখমণ্ডলে চোখের পানির দাগ পড়ে গিয়েছিল। একবার তার পিতা হযরত যাকারিয়া (আঃ) খুঁজতে খুঁজতে তাঁকে জঙ্গলে পান। পিতা হযরত যাকারিয়া (আঃ) বলেন, হে বৎস, আমরা তো তোমার জন্য অস্থির, তোমাকে খুজে খুজে হয়রান হচ্ছি আর তুমি এখানে বসে কান্নাকাটি করছ। তিনি জবাব দিলেন হে আমার শ্রদ্ধেয় পিতা! আপনি আমাকে বলেছেন জান্নাত জাহান্নামের মাঝখানে এক প্রান্তর রয়েছে, যা আল্লাহর ভয়ে অশ্রু বিসর্জন ছাড়া অতিক্রম করা যায় না। এবং জান্নাত পর্যন্ত পৌছা যায় না। পুত্রের এ জবাবে হযরত যাকারিয়া (আঃ) ও কাঁদতে শুরু করেন। শাহাদাত তিনি অবিরত দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ করে চলেছেন। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি মূলত হযরত ঈসা (আঃ) এর আর্বিভাবের সুসংবাদ দাতা। তিনি আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তার এ প্রচারে ইহুদীরা তার বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। তারা হযরত ঈসা (আঃ) এর আবির্ভাব সহ্য করতে পারল না। সুতরাং তার আবির্ভাবের সংবাদ দাতা। তিনি লোকদের বলেন, শীঘ্রই তোমাদের কাছে আল্লাহর এক রাসূলের আগমন ঘটবে। তিনি আমার চেয়ে শ্রেষ্ট। তার এ প্রচারে ইহুদীরা তার বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। তারা হযরত ঈসা (আঃ) এর আর্বিভাব সহ্য করতে পারল না। সুতরাং তার আবির্ভাবের সংবাদ দাতাকে কোন না কোনভাবে থামিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হল। তাই তারা একদিন তার কাছে সমবেত হয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করল যে, আপনি যে মহীহ (আঃ) এর সংবাদ দিতেই সে মসীহ কে? আপনি নিজে না আর কেউ? তিনি বলেন, আমি মসীহ নই। বরং অতি শীঘ্র মসীহের আগমন ঘটবে। তখন তারা বলল যে, তা হলে আপনাকে আমাদের কোন দরকার নেই। একথা বলে তারা তাঁকে আক্রমণ করল এবং শহীদ করে দিল। এক বর্ণনায় তার শহীদের ঘটনা নিম্নোক্তভাবে বর্ণিত হয়েছে। দামেস্কের বাদশাহ হাদ্দাদ বিন হাদ্দার তার স্ত্রীকে তিন তালাক প্রদান করেছিল। তালাক করার পর তাঁকে আবার স্ত্রীরুপে গ্রহণের ইচ্ছা করল। হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) এর কাছে এ সম্পর্কে ফতোয়া চাইতে তিনি ফতোয়া দিলেন, সে তো তোমার জন্য সম্পূর্ণ রুপে হারাম হয়ে গিয়েছে। তাঁকে ব্যবহার করা তোমার জন্য জায়েয হবে না। বাদশাহের তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী তার এ ফতোয়া মেনে নিতে অস্বীকার করল। সে হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) এর দুশমন হয়ে পড়ল। তালাকপ্রাপ্ত মহিলা তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হল। নানাভাবে বাদশাহকে প্রভাহিত করে হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) কে হত্যার অনুমতি লাভ করল। তিনি যখন মসজিদে ইবাদতে মশগুল ছিলেন তখন তাঁকে হত্যা করা হয়। বাদশাহর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী হত্যাকারীদের নির্দেশ দিয়েছিল যে, তাঁকে হত্যা করে তার শির মোবারক যেন তার সামনে উপস্থিত করা হয়। কিন্তু তখনও তার শির হতে অনবরত শব্দ আসছিল যে, বাদশাহের জন্য তুমি হালাল নও। এমতাবস্থায় আল্লাহর পক্ষ হতে আযাব অবর্তীণ হল এবং বাদশাহের তালাক প্রাপ্তা স্ত্রীকে মাটির ভিতরে ধ্বসিয়ে দেয়া হল।

পরবর্তী গল্প
বাতাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ

পূর্ববর্তী গল্প
নজরবন্দী অবস্থায় বনী ইসরাইলদের অকৃতজ্ঞ স্বভাবের প্রকাশ

ক্যাটেগরী