প্রথম ওহী | আমার কথা
×

 

 

প্রথম ওহী

coSam ১২৮


বুখারী শরীফে হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর সূত্রে জিবরাইল (আঃ)-এর প্রথমে হেরা গুহায় আগমনের অবস্থা নিম্নে উল্লেখিত ভাষায় বর্ণনা করেন - রাসূল (সাঃ)-এর উপর প্রথম দিকে সত্য খাবের ধারাবাহিকতা বিদ্যমান থাকে। যে খবই তিনি দেখতেন তার ব্যাখ্যা এতটা সুস্পষ্ট, উজ্জ্বল এবং সঠিক প্রমাণিত হত, যেমন শেষ রাতে পূর্বাকাশে শুভ্র আলোকে রেখা প্রকাশিত হয়ে প্রভাতের ঘোষণা দিয়ে যায়। অনন্তর নির্জনতা তাঁর খুব প্রিয় হতে থাকে এবং তিনি হেরা গুহায় ইবাদতে মশগুল হন।

কখনও কখনও তিনি হেরা গুহার ইবাদতে বিরতি দিয়ে পরিবার পরিজনের কাছে ফিরে আসতেন। এ সময় হযরত খাদিজা (রাঃ) কিছু খাদ্যদ্রব্য তৈরি করে দিতেন এবং তা নিয়ে আবার হেরা গুহায় প্রত্যাবর্তন করে ইবাদতে মশগুল হতেন। একদিন তিনি হেরা গুহায় ইবাদতে মশগুল রয়েছেন, এ সময় হঠাৎ ফেরেশতা হযরত জিবরাইল (আঃ) অবতরণ করে বলতে লাগলেন ইক্বরা পড়ুন, রাসূল (সাঃ) বলেন- আমি পড়তে জানি না।

জিবরাইল (আঃ)-এভাবে তিন বার বলেন এবং রাসূল (সাঃ) ও প্রতিবারই একই উত্তর দেন মা- আনা বিকরিয়িন –আমি পড়তে জানি না, তখন তিনি আমাকে এমনভাবে জড়িয়ে ধরেন যে, তাঁর ধরার কঠোরতা হেতু আমার কষ্ট অনুভব হচ্ছিল। অতঃপর আমাকে ছেড়ে দিয়ে বলেন, পড়ুন। আমি উল্লেখিত জবাবই দিলাম –আমি পড়তে জানি না। তখন ফেরেশতা পুনরায় আমাকে জড়িয়ে ধরেন এবং উল্লেখিত বাক্যের পুনরাবৃত্তি করেন। আমিও একই জবাবের পুনরাবৃত্তি করি।

তৃতীয় বার ফেরেশতা আমাকে জড়িয়ে ধরার পর ছেড়ে দিয়ে বলেন- পড়ুন। আমার একই জবাব- আমি পড়তে জানি না। তিন বার উল্লেখিত রূপ প্রশ্নোত্তর চলতে থাকে। চতুর্থবার ফেরেশতা কোরআন শরীফের ত্রিশতম পারার সূরা আলাকের নিম্নোক্ত কয়েকটি আয়াত তিলাওয়াত করেন-

অর্থঃ পড়ুন আপনার সেই রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন; সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্তবিন্দু হতে পড়ুন এবং আপনার রব অত্যন্ত দয়ালু, যিনি কলম দ্বারা মানুষকে বিদ্যা শিক্ষা দিয়েছেন। মানুষকে সে সব কিছু শিখিয়েছেন যা সে জানত না।

ফেরেশতা বলার রাসূলে পর পাক (সাঃ) উপরোক্ত আয়াতসমূহের পুনরাবৃত্তি করেন এবং এ আয়াতগুলো তাঁর স্মৃতিতে আত্মস্থ হয়ে যায়। এরপর তিনি হেরায় ওহী অবতরণের প্রথম ঘটনা হতে মুক্তি লাভ করেন। ওহীর কাঠিন্যহেতু তাঁর শরীর কাঁপছিল। শরীরে কম্পন নিয়েই তিনি হেরা গুহা থেকে গৃহাভিমুখ যাত্রা করেন।

তিনি ঘরে প্রবেশ করতেই হযরত খাদিজা (রাঃ)-এর উদ্দেশ্যে বলেন- আমাকে বস্ত্রাবৃত করে দাও। হযরত খাদিজা (রাঃ) তৎক্ষণাৎ তাঁর গায়ে চাদর জড়িয়ে দেন। তিনি যখন কিছু স্বস্থি ফিরে পান তখন হযরত খাদিজা (সাঃ)-কে ঘটনা বিস্তারিত শুনান এবং সাথে সাথে এও বলেন- আমি জীবন শংখা বোধ করছি।

রাসূল (সাঃ)-এর মুখে সমগ্র ঘটনা শুনে হযরত খাদিজা (রাঃ) নিবেদন করলেন -আল্লাহর কসম! আল্লাহ তায়ালা কখনো আপনাকে লজ্জিত করবেন না। কেননা, আপনি আত্মীয়দের সাথে সদাচরণ করেন, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন, মেহমানদারী করেন, নিরাশ্রয়কে আশ্রয় দেন, গরীব নিঃস্বের জন্য কর্মসংস্থান করেন, সত্যের প্রতিষ্ঠায় কঠোর থেকে কঠোর বিপদ মসিবত বরণ করেন। এসব কথাবার্তার পর হযরত খাদিজা (রাঃ) রাসূলে পাক (সাঃ)-কে তাঁর চাচত ভাই ওয়ারাকা বিন নওফেলের কাছে নিয়ে যান।

ওয়ারাকা বিন নওফেল জাহেলিয়াত যুগের ব্যক্তিবর্গের একজন, যারা সত্যিকারার্থেই হযরত ঈসা (আঃ)-এর দ্বীন কবুল করেন। তিনি ইবরানী ভাষা সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন এবং ইঞ্জিল কিতাবে লেখার কাজ করতেন। তিনি অত্যাধিক বয়স্ক এবং দৃষ্টিশক্তিহীন হয়ে পড়েছিলেন। হযরত খাদিজা (রাঃ) ওয়ারাকাকে বলেন, হে আমার ভাই! আপনার এ ভাতিজার কথা একটু খানি শুনুন। ঘটনা শুনে ওয়ারাকা বলেন- ইনি তো সেই ফেরেশতা, যিনি হযরত মূসা (আঃ)-এর কাছে ওহী নিয়ে আসতেন।

যদি আমি সে সময় পর্যন্ত জীবিত থাকতাম- যখন আপনার জাতি আপনাকে মক্কা থেকে বহিষ্কার করবে। রাসূল (সাঃ) বিস্ময়ের সুরে প্রশ্ন করলেন- আমার জাতি কি আমাকে দেশছাড়া করবে! ওয়ারাকা বলেন- নিঃসন্দেহে এমনটাই হবে। যে উদ্দেশ্যে আল্লাহ তায়ালা আপনাকে মনোনীত করেছেন, অতীতে এ উদ্দেশ্যে মনোনীতদের সবার সাথে এ আচরণই করা হয়েছে।

অতএব তখন যদি আমি জীবিত থাকি তবে পূর্ণ শক্তি সামর্থ সহকারে আপনার সাহায্য করব। কিন্তু ওয়ারাকা সে সুযোগ পাননি। এর পূর্বেই তাঁর ইন্তিকাল হয়ে গেছে। প্রথম ওহী অবতরণের পর কিছুদিন তা বন্ধ থাকে। 

 

পরবর্তী গল্প
আবু তালিবের কাছে কুরাইশদের প্রস্তাব

পূর্ববর্তী গল্প
হেরা গুহায় গমন

ক্যাটেগরী