প্রত্যেক প্রাণির রূহ কবজ করার নির্ধারিত স্থান | আমার কথা
×

 

 

প্রত্যেক প্রাণির রূহ কবজ করার নির্ধারিত স্থান

coSam ১৬


যার যেখানে মৃত্যু হবে, সেস্থানে তার মৃত্যু নির্ধারিত এবং যেখানে তার কবর হওয়া নির্দিষ্ট আছে, সেস্থানেই তার কবর হবে। যদিও বা সে কোন দূরবর্তী স্থানে অবস্থান করুক না কেন, আত্মা কবজের পূর্বে সে সেখানে পৌছবেই।

কেননা আল্লাহু তা'আলা মালাকুল আরহাম নামক এক প্রকার ফেরেশতা সৃষ্টি করে রেখেছেন। শিশু মায়ের উদরে থাকাকলীন সময় ঐ ফেরেশতা আল্লাহর দরবারে আরজ করেন : হে আল্লাহ! এ শিশুর গঠন, হায়াত, মউত ও রিযিক কী হবে? তখন আল্লাহ তা'আলা তাকে লক্ষ্য করে বলেন ; তুমি লওহে মাহফুজে তাকিয়ে দেখ আমি তার ৫০০০০ বছর আগে এগুলাে তার জন্য লিপিবদ্ধ করে রেখেছি।

তখন তার মৃত্যুর স্থানের কিছু মাটি এনে ঐ শিশুর শরীরের গঠনের সময় নাভিতে মিশিয়ে দেন। ফলে জন্মের পর মানুষ যে জায়গায় ঘুরে বেড়াক না কেন, মৃত্যুর আগে যেখান থেকে রক্ত-মাংসের সাথে মিশ্রিত মাটি নেয়া হয়েছিল, সেখানে এসে সে উপস্থিত হয় এবং সেখানেই তার মৃত্যু সংঘটিত হয়।  

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর ঘােষণা হলাে : “হে নবী! আপনি বলে দিন : তােমরা যদি তােমাদের ঘরেও থাকতে তবু যার যে জায়গায় মৃত্যু (নির্ধারিত হয়ে আছে। তাকে অবশ্যই সে জায়গাতেই পৌছতে এ আয়াতের তাফসীরে বলা হয়েছে যে, একদিন আজরাঈল আ. সুলাইমান (আঃ), এর দরবারে আসেন এবং সেখানে উপস্থিত এক সুশ্রী যুবককে দেখে তিনি তার দিকে খুব কঠোর দৃষ্টিতে তাকান। এতে যুবকটি ভয় পেয়ে গেল।

আজরাঈল (আঃ) চলে যাওয়ার পর যুবকটি সুলাইমান (আঃ)-কে বলল : হে আল্লাহর রাসূল! আমার অনুরােধ, আপনার নির্দেশে বায়ু যেন আমাকে এখনই চীন দেশে নিয়ে যায়। যুবকটিকে কিছুক্ষণের মধ্যেই বায়ু চীন দেশে নিয়ে গেল।   

পুনরায় আজরাঈল (আঃ) সুলাইমান (আঃ) এর দরবারে আগমন করলে ঐ যুবকটির দিকে ঐভাবে তাকানাের কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন : আমি এ যুবকের আত্মা চীন দেশেই কবজ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি। সে ভয়ে আপনাকে অনুরােধ করে তাকে চীন দেশে পৌঁছে দেয়ার জন্য। আর আমি সেখানেই তার রূহ কবজ করতে পারবাে। 

পরবর্তী গল্প
মৃত্যুর যন্ত্রণা

পূর্ববর্তী গল্প
রূহ কবজের পদ্ধতি

ক্যাটেগরী