পৃথিবীর সর্ববৃহৎ প্লাবন-শেষ পর্ব

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ প্লাবন-পূর্বের পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

এভাবে আদম সন্তান কাবিলকে আমি শুধু বলেছিলাম তোমার অপুরুপ সুন্দরী বোন আকলিমাকে তোমার সাথেই ভাল মানায় । অতএব ওকে ছেড়ে দেয়া তোমার ঠিক হবে না। দরকার বোধে হাবিলকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েও তোমার উদ্দেশ্য সফল করা উচিত । এর অতিরিক্ত কথা আমি তাকে বলি নি। যার পরিণাম সেখানে কি বিরাট দুঃখজনক ঘটনা ঘটে গেছে। এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করতে পারেন না। আনুরুপ বিবি হাওয়াকে বেহেস্তে বসে শুধু গন্ধম গাছটি দেখিয়ে দিয়েছি এবং ফলের উপকারিতা সম্বন্ধে দু’একটা কথা তাকে বলেছি। কিন্তু আমি নিজ হাতে ফল ধরি নি। বিবি হাওয়া নিজ হাতে ফল ছিঁড়েছেন। নিজে খেয়েছেন এবং আদমকে অচৈতন্ন করে ফল খাইয়ে দিয়েছেন । পরে ভাগ্য দোষে যা হবার তাই হয়েছে। এ জন্য আমাকে দোষী করতে পারেন না।

এভাবে কিয়ামত পর্যন্ত আমি বনি আদমকে কিছু পরামর্শ দানের কাজ করে যাবার নিয়ত করেছি। আমার জন্য দোয়া করবেন । আল্লাহ যেন সহজে আমার আশা পূর্ণ করেন।  হুজুর! আমার আর একটি আদর্শ আছে সেটা হল, আমি বাজে

মানুষের নিকট বেশি যাতায়াত করি না । আমি নবী-রাসূলগনের সঙ্গলাভ পুন্যের কাজ মনে করে তাদের সঙ্গেই অধিক সময় কাটানোর ইচ্ছা রাখি।  বাকি গাউছ, কুতুব ও অলীদেরও কিছু সময় দেবার চিন্তা করেছি । সাধারণ মানুষের সঙ্গে চলা-ফেরাই আমার মান-ইজ্জত রক্ষা পাবে না বলে আমি তাদের থেকে একটু দুরুত্ব বজাই রেখে চলি।

হুজুর! আমার কথায় কিছু মনে করবেন না। বর্তমানএ দীর্ঘদিন যাবত আপনার সঙ্গে আছি। এতা কোন অসৎ নিয়তে নয়। একমাত্র আমার জীবন রক্ষার জন্য। অতএব এখন বলুন, হুজুর! আমি আপনার কি খেদমত করতে পারি।

হযরত নূহ (আঃ) বললেন, আচ্ছা নবীদের সঙ্গে থেকে যখন কাউকে রেহাই দাওনি তখন আমাকে কবে কি করেছ। শয়তান বলল, হুজুর! আপনার কোন ক্ষতি সাধনের চেষ্টা কখনই আমি করি নি। তবে একদা রাত্রি বেলায় উটের গোস্ত দিয়ে উত্তমরুপে খাওয়া দাওয়া সেরে ঘুমিয়েছিলেন। ঐ দিন আমি আপনার ঘুমের গভীরতা সৃষ্টির জন্য নান রঙের স্বপ্নে আপনাকে বিভোর করে রেখেছিলাম। যাতে করে আপনার ফরজ নামাজ কাযা হয়েছিল। হযরত নূহ (আঃ) এ কথা শুনে বললেন “আস্তাগফেরুল্লাহ, আমি আর জীবনে পেটভরে খানা খাব না ।” শয়তান নবীর কথা শুনে বলল, “আস্তাগফেরুল্লাহ আমিও আর জীবনে উচিত কথা কারো নিকট বলব না।”

হযরত নূহ (আঃ) তখন বললেন, এখন তুই বিদায় হও । তোর আর কোন খেদমত আমার প্রয়োজন নেই। আগামীতেও প্রয়োজন হবে না। শয়তান তখন নিরবে সেখান থেকে কেটে পড়ল। দ্বিতীয়বার আর কোন দিন নবীর সম্মুখে হাজির হয়নি।

হযরত নূহ (আঃ) জুদী পাহাড়ের মসজিদ, বসত বাড়ি স্থাপন করে চতুর্দিকে হেদায়েতের বানী প্রচার করে বেড়াতেন । নবীর যে সব উম্মতেরা অনেক দূরে গয়ে বসতি স্থাপন করে জিবন-যাপন করতে আরম্ভ করে, তাদের সন্তানদেরকে শয়তান পরামর্শ দিয়ে পুনঃ মূর্তি পূজার প্রচলন শুরু করে। হযরত নূহ (আঃ)-এর উম্মতেরা এ পূজা বন্ধ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কিন্তু কোন চেষ্টা আদেী কার্যকারী হল না। ধর্মদ্রোহীদের সংখ্যা সর্বত্র বৃদ্ধি পেতে লাগল।

কথিত আছে শয়তান হযরত নূহ (আঃ)-এর ভাঙা জাহাজ থেকে কাঠের একটি তারকাটা চুরি করে এনে তা দিয়ে কিছু অলৌকিক ঘটনা মানুষকে প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়। যাতে করে এ কাজ দ্বারা মানুষকে সহজে সে পথ ভ্রষ্ট করতে পারে। উক্ত তারকাটাটি জনৈক বৃদ্ধ মানুষের হাতে নিয়ে শয়তান বলেছিল এটা দ্বারা তুমি মানুষের পূর্বের ও পরের মঙ্গল-অমঙ্গল বলে দিতে পারবে। ছোট-খাট বিপদাপদ টেকাতে পারবে এবং পীড়া থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে সক্ষম হবে। তবে এ কাজ করার জন্য সকলকে মূর্তি পূজা করতে বাধ্য করতে হবে। বৃদ্ধ শ্রদ্ধাভরে উক্ত তারকাটাটি শয়তানএর নিকট থেকে গ্রহন করে মানুষের মাঝে এক বিরাট আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। যার ফলে পরবর্তীতে দেশের প্রায় সকল মানুষকে মূর্তি পুজার প্রতি আসক্ত করে ফেলে। এটা ছিল হযরত নূহ (আঃ)-এর যুগে শয়তানের বিরাট বিজয়।

হযরত নূহ (আঃ) একাধারে সাড়ে নয় শত বছর জীবিত থেকে দ্বীনের প্রচার করে জুদী পাহাড়ে এন্তেকাল করেন। সেখানে মসজিদের পাশেই তাকে দাফন করা হয়। তার ভক্তবৃন্দেরা শুধুমাত্র জুদী পর্বত এলাকার ছামানীন শহর নিজেদের আদর্শ সমুন্নত রাখতে সক্ষম হয়েছিল। বাকি এলাকা আদর্শচ্যুত হয়ে শয়তানের পথ অনুসরন করে।

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ প্লাবন-১ম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।