পৃথিবীর সর্ববৃহৎ প্লাবন-২য় পর্ব

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ প্লাবন-১ম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

অতএব তিনি জাহাজে নিরাপত্তার জন্য অন্য তলায় বসবাস রত বিড়ালকে ডেকে জাহজের তলদেশে পাঠিয়ে দিলেন । বিড়াল দেখে ইঁদুর আত্নসমর্পণ করল। বিড়াল তখন ইঁদুরকে এনে হযরত নূহ (আঃ)- এর সম্মুখে হাজির করে দিল। ইঁদুর কাকুতির সাথে হযরত নূহ (আঃ)- এর নিকট আরজ করে বলল, ইবলিস জাহাজের একজন দায়িত্বপূর্ন ব্যক্তি। অতএব তার আদেশকে আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে জাহাজ কাটা আরম্ব করি। এখন আমরা আমাদের ভুলের জন্য আল্লাহ্‌র দরবারে ক্ষমা প্রার্থী ।

এতবড় সর্বনাশা প্লাবনের মাঝে উজবিন ওনক কিন্তু আদৌ ক্ষতিগ্রস্ত হয় নি। সে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে পাহাড়ে গিয়ে উঠে । যখন পানি বৃদ্ধি পেতে পেতে উজের মাথা পর্যন্ত পানি হল তখন সে চিৎকার দিয়ে বলল, হে নূহ (আঃ)- এর খোদা ! আমি তোমার অস্থিতে বিশ্বাসী। আমি  নূহ (আঃ)-এর সাথে কোন দিন অসৌজন্যমূলক আচরণ করি নি। আমি নূহ (আঃ) এর আদেশক্রমে তাঁর জাহাজের জন্য নীল নদ থেকে কাঠ সংগ্রহ করে দিয়েছি। এ কাজটির কল্যাণে তুমি আমার জীবন রক্ষা কর। উজের এ আবেদন আল্লাহ্‌র দরবারে মঞ্জুর হয়। যার জন্য প্লাবনের মাঝে এক পর্বত শৃঙ্গকে অনেক উঁচু করে দেয়া হয়। যাকে জড়িয়ে ধরে উজের জীবন রক্ষা পায়। প্লাবনের সময় উজের খাদ্য খাদকে কোন অসুবিধা হয় নি। প্রচুর মাছ সে তার অতি নিকেট পায়। যা খেয়ে জীবন ধারন করে।

দীর্ঘ চল্লিশ দিন যাবত আকাশ থেকে অবিরাম বৃষ্টি এবং মাটি ফেটে পানি উঠায় যখন সারা পৃথিবী পানির অতল তলে তলিয়ে গেল তখন শুধু মাত্র হযরত নূহ (আঃ)-এর জাহাজখানি ছোট একটি কচুরী পানার ন্যায় ভাসমান ছিল। দিগন্তহীন জলরাশির মাঝে আর কোন কিছুর অস্তিত্বের চিহ্ন ছিল না।

সাথে হযরত নূহ (আঃ)- এর জাহাজখানি একাধারে ছয় মাস আট দিন যাবত পানির ওপর ভেসে ছিল। তারপরে আল্লাহ্‌ তা’য়ালা আসমানকে বর্ষণ বন্ধ করতে এবং জমিনকে পানি উদগীরণ করতে নিষেধ করলেন । তখন থেকে ধীরে ধীরে পানি কমতে আরম্ভ হল। বাতাস বন্ধ হল এবং স্রোতের বেগ স্থিমিত হল। এ সময় জাহাজখানি জুদী পাহাড়ে এসে ঠেকল। আস্তে আস্তে অন্যান্য পর্বত চূড়া দৃশ্যমান হতে লাগল।

হযরত নূহ (আঃ)- জাহাজ পর্বতের উপর এমনভাবে আটকে গেল যাতে সকল প্রাণীর উঠা-নামা সহজ হয়।    হযরত নূহ (আঃ)- প্রথমে জুদী পাহাড়ের উপর অবতরণ করেন। অতএব তাঁর উম্মতেরা অবতরণ করেন । তাঁরা চতুর্দিকে চেয়ে দেখল পানিতে পৃথিবী ছেয়ে আছে। উম্মতেরা পাহাড়ের উপর অবতরণ করে সেখানে থাকার মত ঘর তৈরির কাজে আত্ননিয়োগ করল। কাঠের অভাবে পাথরের ওপর পাথর রেখে দেয়াল করল। অতপর ফোম দিয়ে ছাদের ব্যবস্থা করল। এভাবে খুব ছোট ছোট ঘর তৈরির কাজে সকলে ব্যস্ত হল । এ সমায়ের মধ্যে জমিনের পানি সবটুকু নিঃশেষ হল। তখন হযরত নূহ (আঃ) পক্ষীকুলকে জমিনের পানি মাপার জন্য প্রেরন করলেন । এগুলোর মধ্যে শুধু কবুতর এসে জনায় অতি সামান্য পানি বাকি আছে । তখন তিনি উম্মতদেরকে বিভিন্ন জাতের উদ্ভিদ নিয়ে জমিনে প্রেরণ করলেন । তারা যেন উদ্ভিদের উপযোগী স্যাঁতসেঁতে মাটিতে এগুলি পুতে আসেন। উম্মতেরা নবীর আদেশ অনুসারে বিভিন্ন উদ্ভিদ চারা নিয়ে জমিনে গেলেন এবং সেখানে স্বযন্তে পুতে রাখলেন। অতপর নবী সমস্ত জীব জানোয়ারকে জমিনে পৌছে দিতে আদেশ দিলেন। উম্মতেরা তখন

জীব-জানোয়ারগুলোকে ধরে ধরে পাহাড়ের উপর থেকে নামিয়ে দিলেন। কোন কোন জানোয়ার নিজেরাই নামতে সক্ষম হল।

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ প্লাবন-৩য় পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন   

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।