পুনরায় মায়ের স্নেহনীড়ে মূসা (আঃ) – পর্ব ১

আল্লাহর অপার মহিমায় হযরত মূসা (আঃ) ফেরআউনের হেন দৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার পর বিবি আছিয়া তাঁকে তাঁর মাতার নিকট পাঠিয়ে দিলেন। মাতার স্নেহ নীড়ে থেকে শাহী তদারকিতে এবং রজকীয় খরচে তিনি রাজপুত্রের মর্যাদায় গড়ে উঠতে লাগলেন।

আছিয়ার পুনঃপুন বুঝদেয়ার পর ভবিষ্যত উত্তরাধিকার চিন্তা করে ফেরআউনও এখন মূসার প্রতি অনুরাগী হয়ে পড়ল। আপন সন্তানের ন্যায় তাঁকে পোষাক পরিচ্ছদ পরিধান করাতে লাগল আর অনুরূপভাবে রাজকীয় চালচলনে অভ্যস্ত করে তুলল।

হযরত মূসা (আঃ) এর প্রতি ফেরআউনের অনুরাগ, স্নেহ আদর, সম্মান প্রদর্শন এবং রাজপুত্র হিসেবে তাঁর লালন পালনের- দিকে লক্ষ্য করে রাজকর্মচারীরা এবং অন্যান্য কিবতীরাও বনী ইসরাঈলের প্রতি পূর্বের ন্যায় জোর যুলুম করতে সাহস পেত না আর পূর্বের ন্যায় প্রকাশ্যে ঠাট্টা বিদ্রুপ করা থেকেও অনেক ক্ষেত্রেই কিবতীরা বিরত থাকত।

হযরত মূসা (আঃ) স্বীয় মাতার তত্ত্বাবধানে থেকে বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতে থাকেন। হযরত মূসা দেখতে দেখতে শৈশব থেকে কৈশরে পদার্পন করলেন। এখন তার বয়স প্রায় সতের বছর। আছিয়া মূসাকে (আঃ) কে এখন আর দাইয়ের নিকট না রেখে রাজমহলে এনে রাজ কাজকর্ম।

রাজকীয় চালচলন ও আচার আচরণ শিক্ষা দেয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে তাঁর মায়ের নিকট হতে নিজের নিকট নিয়ে আসলেন। স্বর্ণ খচিত পোশাক পরিচ্ছদ এবং মনিমানিক্য খচিত শাহী তাজ এবং শাহী ঘোড়াসহ চারশ দাস তাঁর খেদমতে রাখলেন।

তিনি এ সব পোশাক পরিধান করে রাজকীয় অশ্বে চড়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতেন। তিনি যখন এভাবে রাজকীয় পোশাকে চলাফেরা করতেন মানুষ তাকে ফেরআউনের পুত্র বলে জানত। এ সময়ের মধ্যে তিনি আছিয়ার দ্বারাই হউক বা অন্য কাহারো দ্বারাই হউক তিনি ইলম ও হিকমতের অধিকারী হলেন। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন –

অর্থঃ আর যখন তিনি উপযুক্ত পরিচর্চা পেয়ে পূর্ণ যৌবনে পদার্পণ করেন এবং দৈহিক শক্তি ও বিবেক বুদ্ধির পরিপক্ষতা অর্জন করেন তখন আমি তাঁকে ইলম ও হিকমত শিক্ষাদান করলাম।

পুনরায় মায়ের স্নেহনীড়ে মূসা (আঃ) – শেষ পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।