পুনঃবদর অভিযান | আমার কথা
×

 

 

পুনঃবদর অভিযান

coSam ১১১


ওহুদ যুদ্ধে সাময়িক সাফল্য লাভের আনন্দে উৎফুল্ল ওহুদ ময়দান ত্যাগের সময় কুরাইশ নেতা আবূ সুফিয়ান দম্ভভরে মুসলমানদেরকে লক্ষ্য করে ঘোষণা করেছিল, তোমাদের সাথে আগামী বছর বদর প্রান্তরে আবার মোকাবিলা হবে। মুসলমানরাও আবূ সুফিয়ানের এ দাম্ভিক ঘোষনা গ্রহণ করে।

নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে আসলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যুদ্ধ প্রস্তুতি গ্রহণ করতে লাগলেন। ওহুদ ময়দান ত্যাগকালে যদিও আবূ সুফিয়ান বদর প্রান্তরে পরবর্তী বছর মুসলমানদের মুখোমুখি হবার ঘোষনা দিয়ে যায়। কিন্তু দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই সে ভাবাকুল হয়ে পড়ছে। সে গভীরভাবে ভাবতে লাগল, একের পর এক যুদ্ধ করেও ইসলাম এবং মুসলমানদের অগ্রযাত্রা প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না দেখে সে মুসলমানদের মনে ভয়ের সৃষ্টি করতে পারলে তাঁদেরকে যুদ্ধবিমুখ করে রাখা যাবে, ফলে তাঁরও মুখ রক্ষা হবে।

এরুপ ভাবনা তাড়িত হয়ে আবূ সুফিয়ানের পরামর্শ ও নির্দেশনুসারে নাঈম মদীনার অলিগলি ও রাজপথে বলে বেড়াতে লাগল, মক্কাবাসী বিপুল পরিমাণ অত্যাধিক অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত বিশাল বাহিনী নিয়ে মদীনায় অভিযানের উদ্দেশে আসছে। খুব শিগগিরই তাঁর বদর প্রান্তরে উপনীত হয়ে শিবির স্থাপন করবে।

আবূ সুফিয়ানের কুটনৈতিক চালে আশজায়ীর রুপ মুসলমানদের মধ্যে কিছুটা ভয়ের সৃষ্টি হয়, তাঁরা কিছুটা বিচলিত বোধ করতে থাকে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সর্বসাধারণ মুসলমানের বিচলিত ভাব লক্ষ্য করে চিন্তিত্ত হয়ে পড়েন। এ সময় হযরত আবূ বকর ও ওমর (রাঃ) রাসুলুল্ললাহ (সাঃ) সমীপে উপস্থিত হয়ে নিবেদন করেন। ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ অবশ্যই তাঁর রাসূল কে সম্মানজনক বিজয় দান করবেন। সুতরাং কিছুতেই অভিযান বন্ধ করা যাবে না।

নাঈম আশজায়ীর প্রচারণার ফলে মুসলমানদের বিচলিত ভাব দর্শনে মদীনার মুনাফিক ও ইহুদীরা পুলক বোধ করতে থাকে। তাঁরা স্থির নিশ্চিত হল, এবার আর মুহাম্মদ তার অনুসারীদেরকে যুদ্ধে নামাতে সক্ষম হবে না। আবূ বকর ও ওমর (রাঃ) এর কথায় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) অত্যন্ত খুশী হয়ে বলেন, আমার সাথে যদি একজন লোকও না থাকে, তবে আমি একাকী অভিযান পরিচালনা করব। তাঁর এ ঘোষণায় সুমলমানদের বিচলিত ভাব দূরিভূত হল এবং আল্লাহ তাআলা তাদের মনোবল বাড়িয়ে দেয়। তাঁরা যুদ্ধ প্রস্তুতি গ্রহণ করতে শুরু করেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

অর্থঃ সেসব লোক, যাদেরকে মানুষ বলেছে যে, তোমাদের মোকাবিলার উদ্দেশ্যে মানুষ খুব শিগগির একত্রিত হবে, তোমরা তাঁদেরকে ভয় কর, এ কথায় (আল্লাহ) তাঁদের ঈমান বাড়িয়ে দিলেন এবং তাঁরা বলে উঠল আল্লাহই আমাদের জণ্য যথেষ্ট আর তিনিই আমাদের উত্তম কার্যনির্বাহী।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) পনেরশ' মুজাহিদের এক বাহিনী নিয়ে বদর প্রান্তর অভিমুখে রওয়ানা দেন। এদিকে আবূ সুফিয়ান কুরাইশ বাহিনী নিয়ে কিছুদূর অগ্রসর হয়ে অবহিত হল যে, মুসলিম বাহিনী যুদ্ধযাত্রা করে যথারীতি বদর প্রান্তরে পৌঁছে শিবির স্থাপন করেছে। এ সংবাদে সে ভীত হয়ে পিছুটান দেয়। পিছুটানের যৌক্তিকতা দেখি সে বলল বর্তমানে দুর্ভিক্ষ চলছে।

সুতরাং দুর্ভিক্ষের বিপদ মাথায় নিয়ে আমাদের যুদ্ধে জড়ান ঠিক হবে না। এ বলে সে গোটা বাহিনীসহ মক্কা অভিমুকে ফিরে আসে। তাঁরা খাদ্য সামগ্রী হিসাবে যে ছাতু এনেছিল, ফেরার সময় বোজা হাল্কা করার উদ্দেশ্যে পথে তা ফেলে যায়। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কুরাইশ বাহিনীর দেখা না পেয়ে মদীনায় ফিরে আসেন। কুরাইশ বাহিনী এ অভিযান থেকে পিছুটান দেয়ার সময় ছাতু ফেলে গিয়েছিল বলে এ অভিযানকে গাযওয়ারে সাবীক বা ছাতুর অভিযান বলেও অভিহিত করা হয়েছে। এ অভিযান হিজরী চতুর্থ সনের যিলক্বদ মাসে পরিচালিত হয়েছিল।

পরবর্তী গল্প
দুমাতুল জন্দল অভিযান

পূর্ববর্তী গল্প
ইসলামের উদারতা

ক্যাটেগরী