পারস্য রাজের দরবারে ইসলামের দাওয়াতে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর | আমার কথা
×

 

 

পারস্য রাজের দরবারে ইসলামের দাওয়াতে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর

coSam ১৬৪


রাসূলুল্লাহ (সাঃ) পারস্য রাজাকেও ইসলামের ছায়াতলে আসার আহবান জানিয়ে দূত মারফত পত্র প্রেরণ করেন। পারস্যের রাজার উপাধি কিসরা রাজা ছিল খসরু পারভেজ। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর চিঠি পাঠ করে ক্রোধে ও অহংকারে পারস্য সম্রাটের আপদমস্তকে কম্পন ধরে যায়। তাঁর উক্তি স্পর্ধা, আমার এক গোলাম, একটি সামান্য প্রজা আজ আমাকে স্বর্ধম ত্যাগের আহবান জানিয়ে পত্র লেখার স্পর্ধা প্রদর্শন করছে। কত বড় স্পর্ধা আমার নামের আগে তাঁর নাম বসিয়েছে। এসব প্রলাপ বকতে বকতে খসরু পারভেজ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর পত্রখানা ছিড়ে ফেলে।

এখানেই শেষ নয়, পারভেজ তাঁর শাসনাধীন ইয়ামান অঞ্চলের শাসক, বায়নকে পত্র মারফত কড়া নির্দেশ দিল, অবিলম্বে মুহাম্মদকে গ্রেপ্তার করে যেন তাঁর দরবারে পাঠান হয় এবং এ নির্দেশের যেন কোন অন্যথা না হয়।

ইয়ামানের শাসনকর্তা বাযান রাজার পরওয়ানা তামিল করে অবিলম্বে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নামে গ্রেপ্তারী পরওয়ানা লিখে তা দু'জন রাজকর্মচারী হাতে দিয়ে মদীনায় প্রেরণ করেন। তাঁরা মদীনায় পৌঁছে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর দরবারে উপস্থিত হয়। তিনি পারস্য রাজ্যের কর্মচারী দু জনকে যথেষ্ট যত্ন করলেও গ্রেপ্তারী পরওয়ানার প্রতি আদৌ ভ্রুক্ষেপ করেননি।

এতে তাঁরা যুগপৎ বিষ্মিত ও ক্রোধান্বিত হয়ে বলল, আপনি যদি আদেশমত হাযির হন তবে শাসনকর্তা বাযান আপনার জন্য সুপারিশ করতে পারেন। অন্যথায় রাজাধিরাজের ক্রোধানলে আপনাকে স্বজনবর্গ সহ ভস্মীভূত হতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বাযান প্রেরতি দূতদ্ব্যের এসব উক্তির প্রতি আদৌ ভ্রুক্ষেপ না করে তাঁদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা, তোমরা এমন করে দাড়ি গোঁফ সব মুণ্ডিয়ে ফেলেছ কেন?

দূতদ্বয় বলল, এটি আমাদের প্রভুর (সম্রাটের) নির্দেশ, তাই। এ উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, আল্লাহর প্রভূর (আল্লাহর) নির্দেশ দাড়ি বড় এবং

গোঁফ ছোট করার। এরুপ কথোপকথনের পর তিনি দূতদ্বয়কে পরের দিন আসতে বলে বিদায় করেন। পরের দিন দূতদ্বয় এসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, কার হুকুম, কার পরওয়ানা নিয়ে তোমরা এসেছ। তাঁরা পুনশ্চ উক্তি করল-সম্রাট খসরু পারভেজের পরওয়ানা।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) জবাবে বলেন, খসরু তো গত রাতে তাঁর পূত্র শেরওয়ায় কর্তৃক নিহত হয়েছে। এবার তোমরা যেতে পার। বাযানকে গিয়ে এ সংবাদ দাও।

অবশ্য মনে রাখবে, ইসলাম অবিলম্বে পারস্য রাজের উপরে আধিপত্য। বিস্তার করবে। এ কথাবার্তায় দূতদ্বত বিষ্ময়ে বিমূঢ়। তাঁরা বিদায় গ্রহন করতে উদ্যত। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁদের সাথে পাথেয়াদির ব্যবস্থা করে দেয়ার পর বলেন, বাযানকে বলবে, যদি সে ইসলাম গ্রহণ করে তবে আমি তাকে তার পদে বহাল রাখব। দূতদ্বয় ইয়ামান পৌঁছে শাসনকর্তা বায়ানকে পূর্বাপর সকল বিষয় অবগত করে। দূতদ্বয়ের কথায় সে তো রীতিমত বিস্মিত স্তম্ভিত। তাঁর স্বগতোক্তি-শাহানশাহ খসরু পারভেজের নির্দেশ-মুহাম্মদকে গ্রেফতাঁর করে রাজধানীতে পাঠাও

এ নির্দেশ তামিলে কোন ক্রিটি করা হয়নি। তাঁকে গ্রেফতাঁর উদ্দেশ্যে লোকও প্রেরিত হল। আর তিনি বলে পাঠাচ্ছেন তোমার সম্রাট গত রাতে তাঁর পুত্র কর্তৃক নিহত হয়েছে। বাইবেল কোথাও তো এমন সুষ্পষ্ট ভবিষদ্বাণী খুঁজে পাওয়া ভার। অধিকন্তু আমাকে ইসলাম গ্রহণের উপদেশ দিচ্ছেন, তা হলে আমাকে আমার পদে বহাল রাখবেন, তাঁর অর্থ হল এখন থেকে আরব উপদ্বীপ সম্পূর্ণ স্বাধীন স্বতন্ত্র রাষ্ট্রসত্তার অধিকারী। কোন রাজ্য বা সম্রাটের তাঁরা পরওয়া করে না। নিজের সংকল্প বাস্তবায়ন সম্পর্কে মুহাম্মদের অন্তরে কোন সভাসদ ও জনসাধারণকে সমগ্র ব্যাপারে জানিয়ে বলেন, এ ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হলে নিঃসন্দেহে বুঝতে হবে, মুহাম্মদ যথার্থই আল্লাহর সত্য নবী সুতরাং কি ঘটে তা দর্শণের জন্য কয়েক দিন অপেক্ষা করাই শ্রেয়।

পরবর্তী গল্প
রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের দরবার

পূর্ববর্তী গল্প
খালেদ, ওসমান ও আমরের ইসলাম গ্রহণ

ক্যাটেগরী