পারস্যবাসীদের প্রতি হযরত খালিদ (রাঃ) এর পত্র | আমার কথা
×

 

 

পারস্যবাসীদের প্রতি হযরত খালিদ (রাঃ) এর পত্র

coSam ২০৭


হযরত আবু ওয়ায়েল (রাঃ) বলেন, হযরত খালিদ ইবনে ওলীদ (রাঃ) পারস্যবাসীদের নিকট ইসলামের প্রতি দাওয়াত দিয়া এই পত্র লিখিলেন-

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

খালিদ ইবনে ওলীদের পক্ষ হইতে রুস্তম, মেহরান ও পারস্যের সর্দারগণের প্রতি, শান্তি বর্ষিত হউক তাহার প্রতি যে হেদায়াতের অনুসরণ করিয়াছে। আম্মাবাদ, আমরা তোমাদিগকে ইসলামের প্রতি দাওয়াত দিতেছি। যদি তোমরা (ইসলাম গ্রহণ করিতে) অস্বীকার কর তবে বশ্যতা স্বীকার করিয়া জিযিয়া প্রদান কর। অন্যথা আমার সহিত এমন এক কওম রহিয়াছে যাহারা আল্লাহর রাহে মৃত্যুবরণকে এরূপ ভালবাসে যেরূপ পারস্যবাসীগণ শারাবকে ভালবাসে। শান্তি বর্ষিত হউক তাহার প্রতি যে হেদায়াতের অনুসরণ করিয়াছে। (তাবারানী)

শাবী (রহঃ) বলেন, বনু বুকাইলার লোকেরা মাদায়েনবাসীর নাম লিখিত হযরত খালিদ ইবনে ওলীদ (রাঃ)-এর পত্র আমাকে পড়িতে দিয়াছিল। (পত্রটি নিম্নরূপ ছিল)

খালিদ ইবনে ওলীদের পক্ষ হইতে পারস্য সর্দারগণের প্রতি। শান্তি বর্ষিত হউক তাহার প্রতি যে হেদায়াতের অনুসারী হইয়াছে। আম্মাবাদ, সকল প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্য যিনি তোমাদের ঐক্যজোটকে ছত্রভঙ্গ করিয়া দিয়াছেন, তোমাদের রাজত্বকে ছিনাইয়া লইয়াছেন এবং তোমাদের সকল প্রচেষ্টাকে দুর্বল করিয়া দিয়াছেন।

আসল কথা এই যে, যে ব্যক্তি আমাদের ন্যায় নামাজ আদায় করিবে, আমাদের কিবলার দিকে মুখ করিবে এবং আমাদের জবাই করা পশুর গোশত খাইবে সে মুসলমান বলিয়া গণ্য হইবে। আমরা যে সকল অধিকার লাভ করিয়াছি সেও সেই সকল অধিকার লাভ করিবে এবং আমাদের উপর যে সকল দায়িত্বভার রহিয়াছে তাহার উপরও সে সকল দায়িত্বভার আসিবে।

অতঃপর তোমাদের নিকট আমার এই পত্র পৌঁছিবার পর তোমরা আমার নিকট বন্ধকের জিনিসপত্র পাঠাইয়া দিবে এবং তোমাদের (এই বন্ধকী জিনিসের) দায়িত্ব পালনে আমার প্রতি আস্থা রাখিবে। অন্যথা সেই পাক যাতের কসম যিনি ব্যতিত কোন মাবুদ নাই, আমি তোমাদের প্রতি এমন বাহিনী প্রেরণ করিব যাহারা মৃত্যুকে এরূপ ভালবাসে যেরূপ তোমরা জীবনকে ভালবাস।

পারস্য সর্দারগণ হযরত খালিদ (রাঃ) এর এই পত্র পাঠ করিয়া অবাক হইয়া গেল। ইহা দ্বাদশ হিজরীর ঘটনা। (হাকেম)

অপর এক রেওয়াতে শা'বী (রহঃ) বলেন, ইয়ামামার অধিবাসী যাবাযিয়ার পিতা আযাযিবার সহিত হুরমুযের রওয়ানা হইবার পূর্বে হযরত খালিদ ইবনে ওলীদ (রাঃ) তাহার (অর্থাৎ হুরমুযের) নামে পত্র লিখিলেন। হুরমুয সে সময় সীমান্তে রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল।

(পত্রটি নিম্নরূপ ছিল)

আম্মাবাদ, ইসলাম গ্রহণ কর নিরাপদ থাকিবে। অথবা নিজেকে ও নিজের কওমকে জিম্মি মনে করিয়া জিজিয়া প্রদান করিবে বলিয়া স্বীকার কর। অন্যথা নিজেকে নিজে তিরস্কার করিও, কারণ আমি তোমাদের নিকট এমন বাহিনী লইয়া আসিয়াছি যাহারা মৃত্যুকে এরূপ ভালবাসে যেরূপ তোমরা জীবনকে ভালবাস।

ইবনে জারীর (রহঃ) অপর এক সনদে বর্ণনা করিয়াছেন যে, হযরত খালিদ ইবনে ওলীদ (রাঃ) ইরাকের শস্য-শ্যামল দুইদিকের একদিক অধিকার করিবার পর হীরা নিবাসী এক ব্যক্তিকে ডাকিয়া তাহার হাতে পারস্যবাসীর নামে একটি পত্র দিলেন। পারস্য সম্রাট আরদশীরের মৃত্যুর কারণে সে সময় পারস্যবাসীগণ ছত্রভঙ্গ অবস্থায় ভিন্ন ভিন্ন ঝাণ্ডার নীচে সমবেত হইয়া মাদায়েনে অবস্থান করিতেছিল। শুধু বাহমান জাযাওয়ায়কে তাহারা অগ্রবর্তী বাহিনীর দায়িত্ব দিয়া বুহরসীর শহরে মোতায়েন করিয়া রাখিয়াছিল।

বাহমানের সহিত আযাযিবাহ ও এরূপ আরো অন্যান্য সর্দারগণও ছিল। হযরত খালিদ (রাঃ) সালুবা শহর হইতে অপর এক ব্যক্তিকে ডাকিয়া আনিলেন এবং এই দুই ব্যক্তির হাতে দুইখানা পত্র দিলেন। একটি বিশেষ সর্দারদের নামে ও অপরটি সাধারণ লোকদের নামে। পত্রবাহক দুইজনের একজন হীরানিবাসী ও অপরজন নাবাতী (অর্থাৎ ইরাকে বসবাসকারী বহিরাগত লোক) ছিল। হযরত খালিদ (রাঃ) হীরানিবাসী পত্রবাহককে জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার নাম কি? সে বলিল, মুররাহ।

(মুররাহ অর্থ তিক্ত) হযরত খালিদ (রাঃ) বলিলেন, এই পত্র লইয়া পারস্যবাসীর নিকট যাও। হযরত আল্লাহ তায়ালা তাহাদের জীবনকে তিক্ত করিয়া দিবেন, আর না হয় তাহারা ইসলাম গ্রহণ করিবে এবং (আল্লাহর দিকে) ফিরিবে। অতঃপর সালুবানিবাসী পত্রবাহককে জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার নাম কি? সে বলিল, হিযকীল। হযরত খালিদ (রাঃ) বলিলেন, পত্র লও, (এবং এই দোয়া করিলেন,) আয় আল্লাহ, পারস্যবাসীদের প্রাণ বাহির করিয়া দিন। ইবনে জারীর (রহঃ) বলেন, পত্র দুইটি নিম্নরূপ ছিল-

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

খালিদ ইবনে ওলীদের পক্ষ হইতে পারস্যের রাজাদের প্রতি আম্মাবাদ, অতঃপর সকল প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্য যিনি তোমাদের সকল ব্যবস্থাপনাকে তছনছ করিয়া দিয়াছেন, তোমাদের সকল প্রচেষ্টাকে দুর্বল করিয়া দিয়াছেন এবং তোমাদের জোটকে ছিন্ন ভিন্ন করিয়া দিয়াছেন। আল্লাহ তায়ালা যদি তোমাদের সহিত এমন না করিতেন তবে তোমাদের জন্য তাহা বড় খারাপ হইত। অতএব তোমরা আমাদের দ্বীন গ্রহণ কর, আমরা তোমাদের দেশকে ছাড়িয়া অন্যদের প্রতি অগ্রসর হইব। আর যদি স্বেচ্ছায় আমাদের দ্বীন গ্রহণ না করে তবে তোমরা এমন কওমের হাতে পরাজয় বরণ করিতে বাধ্য হইবে যাহারা মৃত্যুকে এরূপ ভালবাসে যেরূপ জীবনকে ভালবাস।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

খালিদ ইবনে ওলীদের পক্ষ হইতে পারস্যের সর্দারগণের প্রতি আম্মাবাদ, ইসলাম গ্রহণ কর নিরাপদ থাকিবে। অন্যথা আমার অঙ্গীকার পালনের প্রতি আস্থা রাখিয়া জিজিয়া প্রদান কর। আর যদি ইসলাম গ্রহণ বা জিজিয়া প্রদান করিতে রাজী না হও তবে আমি তোমাদের নিকট এমন কওম লইয়া আসিয়াছি যাহারা মৃত্যুকে এরূপ ভালবাসে যেরূপ তোমরা শরাব পান করিতে ভালবাস।

সূত্রঃ হায়াতুস সাহাবা


পরবর্তী গল্প
হযরত আবু বকর (রাঃ) কে দাওয়াত প্রদান – পর্ব ১

পূর্ববর্তী গল্প
বনু কোরাইযার ঘটনা - পর্ব ৩

ক্যাটেগরী