পাঠানের রেল সফর

আল্লাহ তায়ালের নির্দেশের পিছনে কোন কারণ খাঁজার অর্থ হলো যদি আপনি ডাক ঘরে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন, ১০ গ্রাম ডাক মাশুল কত; তখন যদি পোষ্টমাষ্টার আপনাকে ১ টাকা বলে দেয়, এরপর আপনি আবার জিজ্ঞেস করলেন যে ১ টাকা হওয়ার কারণ কি? তাহলে তার জবাবে আপনাকে কী বলবে?

জবাবে বলবে জনাব, আমি শুধুমাত্র আইন অনুযায়ী কাজ করি। যদি আপনি ১ টাকার কম টিকিট লাগান তবে আইন অমান্য করার শাস্তি পেতে হবে। আপনার চিঠি বেয়ারিং হয়ে যাবে দ্বিগুণ ডাক মাশুল দিতে হবে।

আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ সবার জন্যে সমানভাবে প্রযোজ্য। কিন্তু শোনা গেছে কেউ কেউ অযু ফরয হওয়ার পিছনে কারণ খোঁজ করে বলেছেন যে নামাজের জন্যে অযু এ জন্যে ফরয করা হয়েছিল যে তৎকালীন আরবের লোকেরা গ্রাম্য এবং উটের রাখাল ছিল। তাদের মুখ মন্ডল ধূলা এবং হাতে -পায়ে পেশাবের ছিঁটা লেগে থাকতো। এ জন্যে তাদেরকে হুকুম করা হয়েছিল যে নামাজের আগে অযু করবে। কিন্তু আমরা শহরে থেকে উন্নত জীবন যাপন করি। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কাঁচে ঘেরা বাড়িতে বসবাস করি। আমাদের হাতে পায়ে ধূলা লাগে না। সুতরাং আমাদের অযু না করলেও চলবে।

এ যুক্তিটি বেশ সুন্দর। সে পাঠানের যুক্তির মত।

সীমান্ত অঞ্চলের এক পাঠান রেলগাড়ি থেকে স্টেশনে নেমেছে। তার মাথায় দুই মন ওজনের একটি বোঝা। কিন্তু এ বোঝার লাগেজ বুকিং করা ছিল না। গেট পার হওয়ার সময় যখন নিজের টিকেট দেখাল তখন টিকেট কালেক্টর বললেন, মালের টিকিট কোথায়?

সে তখন নিজের টিকিটটি আবার বের করে দেখাল।

টিকিট কালেক্টর বললেন, এটা তো আপনার নিজের টিকিট। মালের টিকিট দিন।

পাঠান বললো, এটা আমারও টিকিট এবং আমার মালেরও টিকিট।

টিকিট কালেক্টর বললেন, প্রতিজন যাত্রীর পনর সেরের বেশী মাল বহন করার জন্যে নিজের টিকিট ছাড়াও আর একটি টিকিট ক্রয় করতে হবে।

পাঠান বললো, আমার জন্যে এ দুই মনই পনর সের। রেল বিভাগ পনর সেরের বেশি মাল বহন করার জন্যে নিজের টিকিট ছাড়াও আর একটি টিকিট করতে হবে।

পাঠান বললো আমার জন্যে এ দুই মনই পনর সের। রেল বিভাগ পনর সেরের যে-আইন নির্ধারণ করেছে তার অর্থ হলো-মানুষ যতটুকু বোঝা নিজে বহন করতে পারবে ততটুকু তার জন্যে ভারা লাগবে না। বাংলাদেশের মানুষ মাত্র পনর সের বহন করতে পারে। এ জন্যে আইনের বইয়ে পনর সের লিখেছে। আর আমি দুই মন বহন করতে পারি। সুতরাং আমার জন্যে এটাই পনর সের।

টিকিট কালেক্টর এ যুক্তি মেনে নিবেন?

কখনই না। তিনি বলবেন, আমার আইনের রহস্য চিরে দেখার প্রয়োজন নেই। আইনের বইয়ে পনর সেরের কথাই উল্লেখ আছে। সেখানে পাঠান-কাবুলী ওয়ালা বলে কোন ব্যক্তিকে পৃথকভাবে লেখা হয়নি। সুতরাং এ মালের টিকিট করতে হবে। টিকিট কালেক্টরের এ জবাব সমস্ত সভ্য জগত মানতে বাধ্য।

সুতরাং অযূর ব্যাপারেও আমরা একথাই বলবো যে আল্লাহ তায়ালা অযূ ফরজ করেছেন এখানে কোন গ্রাম্য বা শহরী ব্যক্তিকে আলাদাভাবে বলা হয়নি। আমরা কোরয়ানে এ নির্দেশ দেখাতে পারি। এর বেশী আমরা কিছু জানি না। এ নির্দেশের পিছনে কি কারণ থাকতে পারে তাও আমরা বলতে পারবো না।

(ইলম ও আমল, পৃষ্ঠা – ১৯০)

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।