পরিখা খনন | আমার কথা
×

 

 

পরিখা খনন

coSam ২৫


সর্বশেষে সালমান ফারসী (রাঃ) আসন ছেড়ে দন্ডায়মান হলেন এবং বক্তব্য পেশ করেন৷ তিনি বলেন হে আল্লাহ্‌র রাসূল (সাঃ)। পারস্যে আমরা লক্ষ্য করেছি যখন শত্রু দলের শক্তিশালী অশ্বারোহী বাহিনী থাকে-আমরা নগরীর চারিদিকে পরিখা খনন করি।

যা অতিক্রম করা এবং প্রয়োজন বোধে দ্রুত পিছে হেটে যাওয়া অশ্বারোহী বাহিনীর পক্ষে কষ্টকর হয়। এই ধারণাটি অনেকের কাছে অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত, বাস্তবধর্মী এবং অভিনব মনে হল। পরিখা বা খন্দকের প্রশস্ততা ও গভীরতা কতটুকু হবে এ সম্পর্কে সালমানের পরামর্শ নেয়া হল। নগরীর বিভিন্ন অংশ পরিখা খননের লক্ষ্যে সাহাবীদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হল।

এটা ছিল একটা অতি বিরাট কাজ। এ কষ্টকর কাজে মহানবীসহ সকলেই অংশ গ্রহণ করতে হয়েছে। গর্ত খনন করতে হয়েছে। মাটি পাথর সরাতে হয়েছে। যুদ্ধ সঙ্গীত গেয়ে কর্মীদের মনোবল এবং উৎসাহ উন্নতমানের সংরক্ষণ করতে 'হয়েছে। সালমান ফারসী (রাঃ) শক্তি সাধনায়, শ্রমে এত নিবেদিত প্রাণ ছিলেন যে, বলা হত তিনি একাই ১০ জনের কাজ করতে পারেন। মদীনা নগরীর চারিদিকে পরিখা খননের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাহাবীদের প্রত্যেক দল সালমান ফারসীকে তাদের একজন দাবী করে তার উপস্থিতি প্রত্যাশা করতেন।

খন্দক যুদ্ধের সময়ে মুহাজীর এবং আনসারদের মধ্যে সালমানকে পাওয়ার জন্য রীতিমতো প্রতিযোগীতা হতো।

মুহাজীরগণ বলতেন সালমান আমাদের লোক। আনসারগণ বলতেন, সালমান আমাদের দলভুক্ত। (সিয়ারুস সাহাবা, ২য় খন্ড, পৃঃ ৯৬)। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তখন মুগ্ধ চিত্তে বলতেন “সালমান আমাদের মধ্যে একজন। সালমান আমার আহল বা পরিজনের অন্তর্ভূক্ত।” ৬ দিনের মধ্যে মদীনার ৪ দিকে সুদীর্ঘ পরিখা খনন করা হয়েছিল।

এ সময় সাহাবীদের বিশ্রাম ছিল না বললেই চলে। কুরাইশ এবং তাদের মিত্রদের সৈন্য বাহিনী মদীনার উপকণ্ঠে এসে উপস্থিত হল।

মুসলিমদেরকে পরিখার অপর দিকে দেখে তারা খুবই আনন্দিত হলো। ভাবল, অতি দ্রুত তীব্র আক্রমণের মাধ্যমে মুসলিমদেরকে নিশ্চিহ্ন করা যাবে।  

সুত্রঃ ক্রিতদাস থেকে সাহাবী

পরবর্তী গল্প
পরিখা অতিক্রম অসম্ভব

পূর্ববর্তী গল্প
চাদরের মালিকানা

ক্যাটেগরী