ন্যায় বিচার | আমার কথা
×

 

 

ন্যায় বিচার

coSam ১৯৯


অনেক দিন আগের কথা। এক দেশে ছিলেন এক খৃষ্টান রাজা। একদিন রাজার ইচ্ছা হল মুসলিম রাষ্ট্র পর্যবেক্ষণ করার। মুসলিম রাষ্ট্র দেখার অভিপ্রায়ে তিনি দেশ হতে বের হলেন। তার উদ্দেশ্য হল, মুসলিম রাষ্ট্রের জনগণের আচার - আচরণ, নিয়ম -নীতি দেখা।

তখনকার যুগেও এক দেশ আরেক দেশের উপর দোষারোপ করতো। আর প্রতিপক্ষ দেশটি যদি মুসলিম রাষ্ট্র হতো, তাহলে তো আর কোন কথাই নেই। কিছু না পেলেও বড় করে প্রচার করতো খারাপ দিকগুলো খারাপ সামান্য। যাক, সেই রাজা বের হলেন কেন এক মুসলিম দেশ অনেকটা মনগড়া দেখবেন বলে।

রাজা বনের মাঝ দিয়ে পথ অতিক্রম করতে করতে সেদিনের মত সূর্য ডুবে গিয়ে রাত নেমে এলো। রাতটাও ছিল ঘুটঘুটে অন্ধকার। রাজা সেদিনের মতো পথ চলা বন্ধ করে একটি নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে লাগলেন।

বনের ধারে ছিল নাসির গাজির বাড়ী। রাজার পরিচয় পেয়ে নাসির গাজী তাকে সাদরে গ্রহণ করলেন। তাকে খাবার দিলেন। খাবার দেয়া হল আপেল, খেজুর ও কলার দ্বারা।

রাজা খেতে গিয়ে দেখলেন, আসলে সেগুলো সল নয়। সেগুলো সোনা দিয়ে তৈরি। রাজা জিজ্ঞেস করলেন- আপনার কি সোনার তৈরি ফল খান?

তা হবে কেন? আমরা তো আল্লাহর দেয়া রিজিক খাই।

তবে আমাকে যে সোনার তৈরি ফল দিলেন? নাসির গাজী হেসে জবাব দিলেন, আমার ধারণা - সোনার ফল যে দেশে রয়েছে, সে দেশ আপনি মনে মনে খুঁজে বেড়াচ্ছেন। নইলে আপনি সারা জীবন ধরে এই অশান্তির পৃথিবীতে এত রক্তপাত করে অশান্তির আগুন জ্বালাচ্ছেন কেন?

রাজা লজ্জিত হয়ে বললেন, সোনার ফল আমি চাই না। আপনাদের দেশের নিয়ম-নীতি জানার আগ্রহ নিয়ে আমি এসেছি।

সাধারণ খাওয়া-দাওয়ার পর নাসির গাজী ও রাজা বৈঠকখানায় বসে আলাপ করছেন। এমন সময় রাতের অন্ধকার ভেদ করে হাতে মশাল নিয়ে দুই ব্যক্তি নাসির গাজীর নিকট আসল বিচার নিয়ে।

একজন বলল, হুজুর! আমি একখণ্ড জমি তার কাছ থেকে ক্রয় করেছি। আজ ভোরে সেই জমি চাষ করতে গিয়ে লাঙ্গলের আঘাতে একটি সোনার হাঁড়ি পেয়েছি। হাড়িটি মাটির নিচে পোতা ছিল। কিন্তু জমি বিক্রেতা তা কিছুতেই নিতে রাজি হচ্ছে না। আমি ক্রয় করেছি জমি, হাঁড়ি তো ক্রয় করিনি। কাজেই তা আমি নিতে পারি না।

অন্যজন বিনীতভাবে বলল, হুজুর, জমিতে যা কিছু ছিল, সব তার কাছে আমি বিক্রি করেছি। আমি কি করে তা নিয়ে অপরাধী হব?

নাসির গাজী তাদের কথা শ্রবণ করে কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন। অতঃপর দুজনকে উদ্দেশ্যে করে বললেন, তোমাদের তো উভয়ের ছেলে-মেয়ে আছে, না? তারা বলল, জি হ্যাঁ, আছে। তখন নাসির গাজী বললেন, তোমাদের এ মামলার মীমাংসা হচ্ছে। একজনের ছেলের সাথে আরেকজনের মেয়ে বিয়ে দিবে। নাসির গাজীর এই সুন্দর রায়ে উভয়ে খুশী হয়ে বাড়িতে চলে গেল।

এই বিচার কার্য দেখে রাজা বললেন, এতো চমৎকার বিচার! আমার জীবনে এমন বিচার আর দেখিনি।  

নাসির গাজী রাজাকে বললেন, এ মামলার বিচার আপনি কিভাবে করতেন?

রাজা বললেন, এরকম মামলা আমাদের দেশে হতেই পারে না। নিজের ক্রয় করা জমিতে সোনার হাঁড়ি পেয়ে কেউ তা ফেরত দিতে আদৌ আসত না। সব নিজে ভোগ করতো। এমনকি জমি বিক্রেতাকে কখনো জানাতোই না।

নাসির গাজী বললেন, ভারী মজার দেশতো আপনাদের। কেউ এসে যখন টাকা বা কোন জিনিস পাওয়া খবর দেয়, তখন আপনারা কি বিচার করেন?

রাজা বলল, সেটা সরকার বাজেয়াপ্ত করে ফেলে। নাসির গাজী বললেন, কি আশ্চর্য! এতো দেখছি বড় জুলুম! প্রজার জিনিস নিজের করে নেয়া! রাজা মাথা নিচু করে ভাবতে লাগলেন, একটি মুসলিম রাষ্ট্রের প্রজারা যদি এমন হতে পারে, তাহলে না জানি রাজা কেমন হবেন! এতদিন যাদেরকে আমরা অসৎ, অশিক্ষিত  ভেবেছি, আজ তারাই তো দেখছি সত্যিকারের মানব।

যাদেরকে আমরা মূর্খ জাতি বলেছি এবং শত শত দোষ তাদের ঘাড়ে চাপিয়েছি, আজ তারাই তো সৎ ও ন্যায় বিচার করছে। রাজা তার জীবনের ভুল বুঝতে পেরে পরদিন বিদায় নিয়ে দেশে গিয়ে সৎ ও ন্যায়ের সাথে দেশ পরিচালনা করতে লাগলেন।

সূত্রঃ মুসলমানের হাসি

পরবর্তী গল্প
সত্যের সন্ধানে সালমান ফারসি (রাঃ)

পূর্ববর্তী গল্প
শিয়ালের শিক্ষা

ক্যাটেগরী