নিহত ব্যক্তির কথা বলার ঘটনা - পর্ব ২ | আমার কথা
×

 

 

নিহত ব্যক্তির কথা বলার ঘটনা - পর্ব ২

coSam ১৮০


নিহত ব্যক্তির কথা বলার ঘটনা - পর্ব ৩ পড়তে এখানে ক্লিক করুন  সম্পদ আত্মসাতের লোভে চাচাকে খুন করেই সে তার সুষ্কর্মের পরিসমাপ্তি ঘটায়নি, যখন পার্শ্বপর্তী লোকদেরকে তার চাচার খুনের অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত করে রক্তপণ দাবী করে। কেননা, সে সময় বনীইস্রাইলের মধ্যে এ নিয়মও আইনরুপে প্রচলিত ছিল যে, যদি কারো দেহ কোন লোকালয়ের নিকট পাওয়া যেত আর হত্যাকারী অজ্ঞাত, হত, তাহলে লোকালয়ের অধিবাসিদেরকে নিহত ব্যক্তির উত্তারাধিকারীদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে রক্তপন দিতে হত। প্রচলিত আইনের সুযোগ নিয়ে প্রকৃত হত্যাকারী ভ্রাতুষ্পত্রই আবার লোকালয়ের অধিবাসিদের নিকট থেকে রক্তপণ দাবী করে বসে। এ এলাকার বাসিন্দারা এ দাবীতে তহবিহ্বল হয়ে পড়ে। কেননা, হত্যা ঘটনার সাথে তারা কোণভাবেই জড়িত নয়। তারা কেন রক্তপণ আদায় করতে যাবে। তখনকার দিনেও কোন ঘটনা অস্বীকার করতে হলে আল্লাহর নামে শপথ করেই করতে হত এবং শপথকারীরা সংশ্লিষ্ট ঘটনা থেকে মুক্ত হয়ে যেত। লোকালয়বাসী আল্লাহর নামে কসম করে বলল, এ হত্যার ঘটনা আমরা ঘটাইনি, এর সাথে আমাদের কোনই  সম্পর্ক নেই এবং এ সম্পর্কে আমরা কিছু অবগতও নই, হত্যাকারী কে তাও আমরা জানি না। সকালে আমাদের পল্লীর প্রধান ফটক খুলে বাইরে এসেই আমরা মৃত দেহ দেখতে পাই। আমরা সবসময়ই রাতে আমাদের এলাকার প্রধান ফঠক বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ি এবং ভোর না হওয়া পর্যন্ত ফটক খোলা হয় না। কাজেই খুনের ঘটনার ব্যাপারে আমাদেরকে অপধারী সাম্যস্ত করা অবান্তর। কিন্তু অভিযুক্তদের অস্বীকৃতি এবং আল্লাহর নামে কসম করে এ ঘটনার কিছুই জানি না বলা সত্ত্বের প্রকৃত হত্যাকারীভ্রাতুষ্পত্র কিছুতেই দাবী প্রত্যাহার করছে না। অবশেষে উভয় পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্য বেঁধে যাওয়ার উপক্রম হয়। উভয় দলই সশস্ত্র হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। তখন তাদের মধ্যকার এক জ্ঞানী লোক বলল, আমাদের মাঝে আল্লাহর মমেনানীত রাসূল হযরত মূসা (আঃ) আছেন। তাই শুধু শুধু সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে আহত নিহত হবার বা রক্তপাত ঘটনর কোন প্রয়োজন নেই। তোমরা উভয় দলই হযরত মূসা (আঃ) এর নিকট যাও। তিনি নিশ্চয়ই একটা গ্রহণযোগ্য এবং সন্তোসজনক সমাধান দিবেন। জ্ঞানী ব্যক্তির প্রস্তাবে উভয় পক্ষই সম্মত হয়ে আল্লাহর রাসূল হযরত মূসা (আঃ) এর নিকট গমণ করে। নিহত ব্যক্তির ভ্রাতুষ্পত্র প্রতিপক্ষের নিকট চাচার রক্তপণ দাবী করে। তার যুক্তি-আমার চাচার মৃত দেহ তাদের নিকট রক্তপণ দাবী করা হল তারা আগের মতই আল্লাহর নামে শপথ করে, তারা এ হত্যা ঘটনার সাথে কোন প্রকারের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করে এবং প্রকৃত খুনী কে তাও অবগত নয় বলে তারা জানায়। তদপুরি তারা বলল, যে জায়গায় আমাদের বসবাস, রাতে আমরা সে জায়গায় প্রধান ফটক বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ি এবং ভোর হওয়ার পূর্বে খুলি না, সুতরাং এ ঘটনার সাথে আমাদের সম্পৃতা কোন ভাবেই সম্ভব হতে পারে না। তাই এ হত্যার রক্তপণ আমাদের ঘাড়ে চাপতে পারে না। এ ব্যাপারে এটা সমাধান লাভের জন্য আপনি আল্লাহর দরবারে দোয়া করুন। মূসা (আঃ) এর দোয়ার পর আল্লাহ পাক উদ্ভুত সমস্যার সমাধান জানিয়ে হযরত জিব্রাইল (আঃ) কে পাঠান। জিব্রাইল (আঃ) এসে হযরত মূসা (আঃ) এর নিকট জানালেন। এ ঘটনার মীমাংসার উদ্দেশে তারা একটি গাভী জবাই করে সেটির একাংশ নিহত ব্যক্তির দেহে ষ্পর্শ করালে নিহত ব্যক্তিই বলে দেবে কে হত্যাকারি। কিন্তু বনী ইস্রাইলদের স্বভাবগত বক্রতা এ খানেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করল তারা বেঁকে বসেছে, তারা বলল, আপনি কি আমাদের সাথে কৌতুক করছেন নাকি? আমরা চাচ্ছি দূরত উদ্ভুত সমস্যার সমাধান। আর আপনি বলছেন কি? এসব কি অযুক্তিক আর অসম্ভব কথাবর্তা নয়। তাদের কথার জবাবে মূসা (আঃ) বলেন, কৌতুক তো মূর্খদের কাজ। মূর্খদের কর্মে জড়ান হতে আমি আল্লাহর আশ্রয় কামনা করি। আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন- অর্থঃ আর যখন মূসা (আঃ) স্বীয় সষ্প্রদায়কে বলেন, আল্লাহ তোমাদের আদেশ করছেন তোমরা একটি গাভী জবাই কর, তারা বলল, আপনি কি আমাদের সাথে কৌতুক করছেন। নিহত ব্যক্তির কথা বলার ঘটনা - পর্ব ৩ পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

পরবর্তী গল্প
নিহত ব্যক্তির কথা বলার ঘটনা - পর্ব ৩

পূর্ববর্তী গল্প
নিহত ব্যক্তির কথা বলার ঘটনা - পর্ব ১

ক্যাটেগরী