নিহত ব্যক্তির কথা বলার ঘটনা - পর্ব ১ | আমার কথা
×

 

 

নিহত ব্যক্তির কথা বলার ঘটনা - পর্ব ১

coSam ১৯৯


বনী ইসরাইলের সম্পদশালী এক ব্যক্তি ছিল। এক বর্ণনায় তার নাম আমীল বিন সুলাইয়মান বলে উল্লেখ রয়েছে। এ ধনাঢ্য ব্যক্তির অপরুপ রুপসী কন্যাছিল। এ কন্যা ছাড়া তার আর কোন সন্তান ছিল না। তার এক ভ্রাতুস্পুত্র ছিল। সে ছিল খুবই দরিদ্র সে অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল। সে চেয়েছিল চাচার অঢেল ধনসম্পদ কুক্ষিগত করতে। আর তাই সে চাচাত বোনকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, কিন্তু চাচা তার সাথে স্বীয় কন্যা বিয়ে দিতে রাজি নয়। সেও প্রতিজ্ঞা করে যেকোন মূল্যের বিনিময়ে সে চাচাত বোনকে বিয়ে করবেই। এক বর্ণনায় রয়েছে, আলোচ্য ধনাঢ্য ব্যক্তির কোন সন্তানই ছিল না। ভাত্রতুষ্পত্রের দৃষ্টি নিঃসন্তান চাচার অগাধ সম্পদের প্রতি। যে কোন ভাবেই সে এ সম্পদ কুক্ষিগত করতে চায়, কিন্তু সে কোন সুযোগ বের করতে পারছিল না। একদিন অভিশপ্ত ইবলীস ভ্রাতৃষ্পত্রকে বলল, তোমার চাচা দীর্ঘ দিন বেঁচে থাকবে। সহসা তার মৃত্যু বরণের কোন সম্ভবনা নেই। আর তুমি চাচ্ছ তার ধন সম্পদ । যদি তুমি স্বীয় আকাঙ্খা পূরর্ণার্থে তোমার চাচাকে হত্যা করতেই চাও, তবে কিভাবে তাঁকে হত্যা করবে আর হত্যা পরবর্তীকালে কিভাবেই বা চক্ষু থেকে নিজেকে নিরপরাধ রাখতে পারবে, সে পন্থাও আমি তোমাকে বলে দিতে পারি। ইবলীশ এভাবে তার কল্যাণকামী সেজে ভ্রাতুষ্পুত্রী পরামর্শ দিতে থাকে। শেষ পর্যন্ত সে ইবলীসের পরামর্শ মোতাবেক কাজ করতে আরম্ভ করে। ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে বনী ইস্রালের বারটি সম্প্রদায় ছিল এক গোত্রে কয়েক জন বনী ইস্রাইলের অমুক গোত্রের একদল লোক কিছু দ্রব্যসামগ্রী নিয়ে আমাদের পাশে গ্রামে এসেছেন দান করার জন্য। আপনিও যদি কষ্ট করে আমার সাথে যেতেন তা হলে কিছু দ্রব্য বেশি পাওয়া যেত। ফলে এর দ্বরা আমার দারিদ্র্যজনিত কষ্টের কিছুটা উপসম হত। বিশেষতঃ আমি যুবক। তাই আমি যদি একাকী যাই তবে হয়ত যুবক বলে আমাকে দিতে সম্মত নাও হতে পারে। আপনি যদি একটু স্বীকার করে আমার সাথে যান, তবে আপনার সাথে দেখলে আমাকেও দিতে কার্পণ্য করবে না। ভ্রুতুষ্পুত্রের প্রস্তাবে চাচা রাজি হয়ে যান। অবশেষে চাচা ভাতিজা মিলে রাতের অন্ধকারে নির্দিষ্ট পল্লীর দিকে চলতে আরম্ভ করে। দু, পল্লীর মাঝে দূরত্ব অনেক। নিজ পল্লী পার হয়ে পার্শ্ববর্তী সীমানায় পৌঁছার পর রাতের আঁধারে সে তার চাচা কে হত্যা করে। তার লাশ ফেলে রেখে বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করে। পরের দিন ভোরে ভ্রাতুষ্পূত্রই আবার চাচার খোজে বের হয়। খোজ করার ভান করতে করতে যেখানে গত রাতে চাচাকে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে দিয়েছিল। সেখানে গিয়ে উপস্থিত হয়। লাশের নিকট অনেক লোক ভিড় জমিয়ে আছে। সে গিয়ে মৃত সনাক্ত করে চাচার জন্য মায়াকান্না জুড়ে দেয়। যেন চাচার মৃত্যুতে সে শোকাহত। নিহত ব্যক্তির কথা বলার ঘটনা - পর্ব ২ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
নিহত ব্যক্তির কথা বলার ঘটনা - পর্ব ২

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত সুলাইমান (আঃ) কে পরীক্ষা

ক্যাটেগরী