নবী-করীম (স)-কে হত্যার আরেক ষড়যন্ত্র | আমার কথা
×

 

 

নবী-করীম (স)-কে হত্যার আরেক ষড়যন্ত্র

coSam ১৯৪


বদর যুদ্ধে সূচনীয় পরাজয়ের গ্লানি কাফের মুশরিকদেরকে তিব্রভাবে দাহন করছিল। তাই এ যুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ স্পৃহা তাদের তিব্র আকার ধারণ করে। এ যুদ্ধের প্রতিশোধের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তারা রাসূলুল্লাহ (স)-কে হত্যার আরেক ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে।

মক্কায় কয়েক নেতা ওমায়র বিন ওয়াহাব নামক দুর্ধর্ষ ব্যক্তিকে এ কাজের জন্য উত্তেজিত করে তোলে। অবশেষে সে পাপিষ্ঠও এ কাজের ভার গ্রহণ করে। সাফওয়ান বিন ঊমাইয়া নামক এক নেতৃস্থানীয় ধনাঢ্য ব্যক্তি ওমায়রের ঋণ পরিশোধ এবং তার পরিবার পরিজনের প্রতিপালনের সুদৃঢ় অঙ্গীকার করে।

ওমায়র তার বিষমিশ্রিত তরবারি নেয়, যেন দ্বিতীবার আঘাত না করতে পারলেও নিশ্চিত মৃত্যু হয়। এহেন ভাবনায় সে মদীনায় উপস্থিত হয়। রাসূলুল্লাহ (স) মসজিদে বসে সাহাবায়ে কিরামের সাথে বদর যুদ্ধসহ অন্যান্য ব্যাপারে আলোচনা করছিলেন। এমন সময় ওমায়র বিষাক্ত তরবারি গলায় ঝুলিয়ে মসজিদে নববীর দরজায় পৌচ্ছে।

ওমায়র মুসলামানদের মাঝে কুরাইশদের অন্যতম শয়তান বলে আলোচিত হত। তাকে দেখে হযরত ওমর (রাঃ) এর সন্দেহ হলে। তিনি উপস্থিত সকলকে সতর্ক করে কয়েকজন আনসারকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর চার পাশে বসার জন্য ইঙ্গিত করে স্বয়ং তাঁর সমীপে ওমায়েরের উপস্থিতির বিষয়টা নিবেদন করেন।

রাসূলুল্লাহ (স) সহাস্য তাকে সামনে নিয়ে আসার নির্দেশ করলেন- অনুমতি পেয়ে হযরত ওমর (রা) ওমায়েরের গলদেশে লটকান তরবারি ধরে টেনে তাকে রাসূলুল্লাহ (স) সমীপে হাযির করেন। তিনি হযরত ওমর (রা)-কে ওমায়রকে ছেড়ে দিতে বলেন। এরপর ওমায়রকে জিজ্ঞেস করলেন, কি হে ওমায়র! কি মনে এসেছ।

সে জবাব দিল- বন্দীদের জন্য এসেছি। আপনি তাদের প্রতি দয়া করুন। এবার জিজ্ঞেস করলেন, বন্দীদের প্রতি দয়া, তা ভাল কথা, কিন্তু তরবারি কেন? সে বলল, তরবারির কপালে ছাই। এ তরবারি আপনাকে কি বিগড়াতে পেরেছে। রাসূলুল্লাহ (স) যতই তাকে সত্য বলতে আদেশ করছেন, ততই সে নানা প্রকার বাহানার আশ্রয়ে অসত্য ভাষণ দিয়েই চলেছে।

অবশেষে রাসূলুল্লাহ (স) মক্কায় ষড়যন্ত্র এবং সাফওয়ান বিন উমাইয়ার সাথে তার প্রতিজ্ঞার কথা উল্লেখ করেন। এবার তো ওমায়র বিস্মিত হতভম্ব। সে অবাক বিস্ময়ে চিন্তা করতে লাগল, যে বিষয়ে এত গোপনীয়তা রক্ষা করা হয় তা তিনি জানলেন কি করে! সেখানে তো দ্বিতীয় কেহ ছিল না। ওমায়র আর নিজেকে গোপন করতে পারল না।

সে বলে উঠল মুহাম্মাদ! অতীত দিনগুলোকে আপনার কথা বিশ্বাস না করে বাস্তবিকই বড় অন্যায় করেছি। বস্তুত সত্যই আপনি আল্লাহ্‌র রাসূল। এভাবে প্রাণের শত্রু মাত্র দু দিনে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সেবকে পরিণত হয়। তিনি সাহাবায়ে কিরামকে নির্দেশ দিলেন, তোমাদের এ নবদীক্ষিত ভাইকে পবিত্র কোরআন পড়তে শিখাও।

ওমায়র কিছু দিন অবস্থান করে সে রাসূলুল্লাহ (স)-এর অনুমতি নিয়ে মক্কায় প্রত্যাবর্তন করেন। সাফওয়ান বিন ওমাইয়া যার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ওমায়র রাসূলুল্লাহ (স)-কে হত্যা করতে মদীনায় গিয়েছিলেন, সে ইশারা ইঙ্গিতে লোকদের বলে রেখেছিল-অতি সত্বরই আমি তোমাদেরকে এমন এক সুসংবাদ শুনাব, যাতে তোমাদের বদর যুদ্ধে পরাজয়ের ক্ষত শুকিয়ে যাবে।

কিন্তু ওমায়রকে দেখে তাদের চক্ষু ছানাবড়া। হল কি! তাকে প্রেরণ করা হল কি জন্য আর সে কি হয়ে এল। মুহাম্মদের জাদু বুঝি তাকেও কাবু করে ফেলেছে। মক্কায় কাফেররা ওমায়রের জীবন শত্রু হয়ে দাঁড়াল। কিন্তু তিনি এসবের পরোয়া না করে ইসলাম প্রচারে রত থাকেন। তার প্রচারে মক্কার বহু লোক ইসলাম গ্রহণ করেন।

পরবর্তী গল্প
হযরত ফাতেমা (রা)-এর শাদী মোবারক

পূর্ববর্তী গল্প
বদরযুদ্ধ ও ফলাফল

ক্যাটেগরী