নবী করীম (সাঃ) ও হজরত আবু বকর (রাঃ) এর পরিবারবর্গের হিজরত – পর্ব ২ | আমার কথা
×

 

 

নবী করীম (সাঃ) ও হজরত আবু বকর (রাঃ) এর পরিবারবর্গের হিজরত – পর্ব ২

coSam ১১১


এইভাবে আমাদের কিছুদিন কাটিল অতঃপর বর্ণনাকারী হযরত আয়েশা (রাঃ) এর রুখসতী অর্থাৎ মুহাম্মাদ (সাঃ) এর ঘরে উঠা সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা হাইসামী হযরত আয়েশা (রাঃ) হইতে উক্ত হাদীসে এরুপ বর্ণনা করিয়াছেন যে, হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমরা হিজরতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হইবার পর পথে একটি দুর্গম গিরিপথ অতিক্রমকালে আমার উটটি অত্যন্ত অস্থিরভাবে ছুটিতে আরম্ভ করিল।

আল্লাহর কসম, আমি আমার মায়ের সেই সময়ের কথা কখনও ভুলিব না। তিনি বলিতেছিলেন, হায় আমার ছোট্ট দুলহান! উট তখনও অস্থিরভাবে ছুটিতেছিল। ইতিমধ্যে আমি শুনিতে পাইলাম। কেহ বলিতেছে, উটের লাগাম নিচে ফেলিয়া দাও। আমি লাগাম নিচে ফেলিয়া দিলে উট থামিয়া গেল এবং এমনভাবে স্বস্থানে দাঁড়াইয়া আছে।

ইবনে ইসহাক (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, মুহাম্মাদ (সাঃ) এর কন্যা হযরত যয়নাব (রাঃ) বলেন, আমি হিজরতের প্রস্তুতি গ্রহণ করিতেছিলাম, এমন সময় হিন্দু বিনতে ওতবা আমার নিকট আসিয়া বলিতে লাগিল, হে মুহাম্মাদ (সাঃ) এর বেটি, তুমি কি মন কর, আমার নিকট এই সংবাদ পৌছে নাই যে, তুমি তোমার পিতার নিকট যাইতে চাহিতেছ? আমি বলিলাম, আমার তো এরুপ ইচ্ছা নাই।

হিন্দু বলিল, হে আমার চাচাত বোন, এমন করিও না, তোমার যদি সফরে কোন জিনিসের প্রয়োজন থাকে বা তোমার পিতার নিকট যাইতে কোন খরচের প্রয়োজন হয়না তবে আমি তোমার এই প্রয়োজন পূরণ করিতে পারি। তুমি আমার নিকট গোপন করিও না, কারণ পুরুষদের মধ্যকার ঝগড়া বিবাদ মেয়দের বলিয়াছিল তাহা সত্যই করিবে বলিয়া আমার ধারণা ছিল, কিন্তু তথাপি আমি তাহার সম্পর্কে ভীত হইলাম এবং তাহার নিকট হিজরতের ইচ্ছা অস্বীকারই করিলাম।

ইবনে ইসহাক (রাঃ) বলেন, হযরত যায়নাব (রাঃ) হিজরতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করিতে থাকিলেন। প্রস্তুতি শেষ হইবার পর তাহার দেবর কেনানা ইবনে রাবী একটি উট লইয়া আসিলেন। তিনি উহাতে আরোহোণ করিবার পর কেনানা নিজের ধনুক ও তূনীর লইয়া প্রকাশ্য দিবালোকে তাহার উট টানিয়া লইয়া চলিলেন।

হযরত যায়নাব (রাঃ) উটের উপর হাওদায় বসিয়াছিলেন। তাহার এইভাবে প্রকাশ্যে চলিয়া যাওয়ার ব্যাপারে কোরাইশের কতিপয় লোকের মধ্যে হইচই এবং তাহারা হযরত যায়নাব (রাঃ) এর সন্ধানে বাহির হইয়া পড়িল। অবশেষে যিতুওয়ানা নামক স্থানে তাহাকে পাইয়া গেল। হাব্বার ইবনে আসওয়াদ ফিহরী সর্বাগ্রে তাহার নিকট পৌছিয়া বর্শা দ্বারা তাহাকে ভয় দেখাইল।

তিনি হাওদার উপর বসিয়াছিলেন। বর্ণাকারীগণ বলেন, তিনি গর্ভবতী ছিলেন। এই অবস্থায় তাহার গর্ভপাত হইয়া গেল। তাহার দেবর কেনানা হাটুগাড়িয়া বসিয়া গেলেন এবং আপন তূনীর হইতে সমস্ত তীর সামনে ঢালিয়া লইলেন। অতঃপর বলিলেন, তোমাদের যে কেহ আমার নিকট আসিবে আমি অবশ্যই তাহার শরীরে একটি করিয়া তীর বিদ্ধ করিব।

সূত্রঃ হায়াতুস সাহাবা

পরবর্তী গল্প
নবী করীম (সাঃ) ও হজরত আবু বকর (রাঃ) এর পরিবারবর্গের হিজরত – পর্ব ৩

পূর্ববর্তী গল্প
নবী করীম (সাঃ) ও হজরত আবু বকর (রাঃ) এর পরিবারবর্গের হিজরত – পর্ব ১

ক্যাটেগরী