নবী করীম (সাঃ) এর ক্ষুধার কষ্ট সহ্য করা - পর্ব ২ | আমার কথা
×

 

 

নবী করীম (সাঃ) এর ক্ষুধার কষ্ট সহ্য করা - পর্ব ২

coSam ৭৬


নবী করীম (সাঃ) এর ক্ষুধার কষ্ট সহ্য করা - পর্ব ১ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

ইমাম আহমদ (রঃ) হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারস্থ লোকদের উপর চাঁদের পর চাঁদ পার হইয়া যাইত অথচ তাহাদের ঘরে কোন আগুন জ্বলিত না। না রুটি সেঁকার জন্য আর না কোন কিছু পাকানোর জন্য।

শ্রোতাগণ জিজ্ঞাসা করিলেন, হে আবু হোরায়রা, তবে তাহারা কি খাইয়া জীবন ধারণ করিতেন? তিনি বলিলেন, দুই কালো জিনিস⎯ খেজুর ও পানি দ্বারা জীবন ধারণ করিতেন। তাহাদের কিছু আনসারী প্রতিবেশী ছিল⎯ আল্লাহ্‌ তাহাদিগকে উত্তম বিনিময় দান করুন। তাহারা নিজেদের দুধের জানোয়ার হইতে কিছু দুধ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারের জন্য পাঠাইয়া দিতেন।

হযরত ওরওয়া (রাঃ) বলেন, হযরত আয়েশা (রাঃ) বলিতেন, হে আমার ভাগিনা, আমরা এক চাঁদের পর আরেক চাঁদ তারপর আরেক চাঁদ, এইভাবে দুই মাসে তিন চাঁদ দেখিতাম, অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন ঘরে আগুন জ্বলে নাই। আমি বলিলাম, খালাজান, তবে আপনারা কিভাবে জীবনধারণ করিতেন? তিনি বলিলেন, দুই কালো জিনিস⎯ খেজুর ও পানি দ্বারা। অবশ্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু আনসারী প্রতিবেশী ছিল। তাহারা নিজেদের দুধের জানোয়ার হইতে কিছু দুধ তাঁহার জন্য পাঠাইয়া দিতেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহা আমাদিগকে পান করাইতেন।

হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরে চল্লিশ দিন অতিবাহিত করিতাম অথচ আমরা তাঁহার ঘরে না আগুন জ্বালাইয়াছি আর না অন্য কোন ব্যবস্থা হইয়াছে। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনারা কিভাবে জীবন ধারণ করিতেন? তিনি বলিলেন, দুই কালো জিনিস⎯ খেজুর ও পানি দ্বারা। তাহাও যদি পাওয়া যাইত।

হযরত মাসরুক (রঃ) বলেন, আমি হযরত আয়েশা (রাঃ) এর খেদমতে উপস্থিত হইলে তিনি আমার জন্য খাবার আনাইলেন এবং বলিলেন, আমি যখনই পেট ভরিয়া খাই তখনই আমার কাঁদিতে ইচ্ছা হয় এবং কাঁদি। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, কেন? তিনি বলিলেন, আমার সেই সময়ের কথা স্মরণ হয় যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুনিয়া হইতে বিদায় লইয়া গিয়াছেন। আল্লাহ্‌র কসম, তিনি রুটি ও গোশত দ্বারা দিনে দুই বেলাও পেট ভরিয়া খাইতে পান নাই।

অপর রেওয়াতে আছে, হযরত আয়েশা (রাঃ) বলিয়াছেন, মদীনায় আগমনের পর হইতে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি গমের রুটি একাধারে তিনদিন পেট ভরিয়া খাইতে পান নাই।

অপর এক রেওয়াতে আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকাল পর্যন্ত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারস্থ লোকজন একাধারে দুইদিনও যবের রূটি দ্বারা পেট ভরিয়া খাইতে পান নাই।

অপর এই রেওয়াতে আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল পর্যন্ত দুই কালো জিনিস খেজুর ও পানি দ্বারাও পেট ভরিয়া খাইতে পান নাই। (কানয)

বাইহাকীর রেওয়াতে আছে যে, হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধারে তিনদিন পেট ভরিয়া খান নাই। অবশ্য ইচ্ছা করিলে আমরা পেট ভরিয়া খাইতে পারিতাম। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের উপর অন্যদের প্রাধান্য দিতেন। (তারগীব)

হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, নবী করীম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মউত পর্যন্ত কখনও টেবিলে আহার করেন নাই এবং পাতলা চাপাতি রুটিও আহার করেন নাই।

নবী করীম (সাঃ) এর ক্ষুধার কষ্ট সহ্য করা - শেষ পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
নবী করীম (সাঃ) এর ক্ষুধার কষ্ট সহ্য করা - শেষ পর্ব

পূর্ববর্তী গল্প
নবী করীম (সাঃ) এর ক্ষুধার কষ্ট সহ্য করা - পর্ব ১

ক্যাটেগরী