নতুন করে নির্যাতন | আমার কথা
×

 

 

নতুন করে নির্যাতন

coSam ১৩২


আবূ তালিব ও হযরত খাদীজা (রাঃ) এর অবর্তমানে কোরাইশদের অত্যাচার নির্যাতনের পথ একেবারে নিষ্কন্টক হয়ে পড়ে। কেননা, এতদিন এ দুজন তাদের সামনে পর্বতসম বাধা ছিল। এখন আর তাদের সামনে কোন বাঁধা অবশিষ্ট রইল না। ইতিহাস রচিত এবং তাফসীর গ্রন্থসমূহে এসব অত্যাচারের বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যাতে বাড়ি হতে বের হতে না পারেন তজ্জন্য তাঁর পথে কাঁটা ছিটিয়ে রাখা হত। তিনি কাবা গৃহে নামাযরত অবস্থায় কাফেররা কখনও উটের আস্ত নাড়িভুঁড়ি আবার কখনও সদ্যপ্রসূত ছাগীর ফুল এনে তাঁর মাথার উপর চাপিয়ে দিত। ইতোপূর্বে এমন লোমহর্ষক ঘটনা বহুবারই ঘটেছে। একবার রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মস্তকে উটের আস্ত নাড়িভূঁড়ি চাপিয়ে দেয়ার সংবাদ শুনে হযরত ফাতেমা (রাঃ) দৌড়ে এসে বহু কষ্টে তা দূর করেন।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বর্ণিত ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী। একদিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ঘরে নামাযে মগ্ন। এ সময় ওকবা সহ কয়েকজন কাফের সেখানে এসে উপস্থিত হয়। পাষণ্ড ওকবা তার চাদর দড়ির মত পাকিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) গলায় ফাঁস লাগিয়ে মোচড়াতে থাকে।

এতে তাঁর ঘাড় বেঁকে যায় এবং শ্বাস বন্ধ হবার উপক্রম হয়। এমন সময় হযরত আবূ বকর (রাঃ) সেখানে এসে পড়েন। তিনি সবকে ধাক্কা দিয়ে ওকবাকে দূরে সরিয়ে দিয়ে সম্বোধন করে বলেন- তোমরা কি একজন মানুষকে কেবল এ জন্যই হত্যা করবে যে, তিনি বলেছেন, আল্লাহ আমার রব।

এ উদ্দেশ্যে তিনি নিজের আযাদকৃত গোলাপ যায়দ বিন হারেসা (রাঃ)- কে সাথে করে মক্কার উপকন্ঠে বসবাসরত বিভিন্ন গোত্রের কাছে ইসলাম প্রচারের জন্য গমন করেন। সর্বাগ্রে তিনি বনু বকরের কবীলায় উপনীত হন। তাদেরকে ইসলাম কবুলের আহ্বান জানান। কুরাইশের মত বনু বকরও ইসলাম গ্রহণ এবং রাসূলুল্লাহ (সাঃ) - এর সাহায্য সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানায়। এদের কাছ থেকে নিরাশ হয়ে তিনি বনু কাহতানের কাছে যান। এরাও কুরাইশ এবং বনু বকরের মত সুষ্পষ্ট অস্বীকৃত জানায়। 

 

পরবর্তী গল্প
তায়েফ গমন

পূর্ববর্তী গল্প
আবূ তালিবের ওফাত

ক্যাটেগরী