নজরবন্দী অবস্থায় বনী ইসরাইলদের অকৃতজ্ঞ স্বভাবের প্রকাশ | আমার কথা
×

 

 

নজরবন্দী অবস্থায় বনী ইসরাইলদের অকৃতজ্ঞ স্বভাবের প্রকাশ

coSam ১৭৪


কয়েদীদের সাধারন চাওয়া পাওয়ার তেমন কিছু থাকে না। তাদের চাওয়া পাওয়ার প্রতি কেউ তেমন নযর দেয় না। কয়েদাবস্থায় কর্তৃপক্ষ দয়াপরবশ হয়ে খাদ্য পানিয় পরিধেয় হিসেবে যা কিছুই সরবরাহ করে তাতেই বন্দীদের সন্তুষ্টু থাকতে হয়। আপত্তি তোলার বা বিদ্রোহ প্রকাশের কোন সুযোগই থাকে না। তীহ ময়দানের কয়েদী জীবন তো আল্লাহ প্রদত্ত ওয়াদার প্রতি বনী ইস্রাইলদের অস্বীকৃতির কুফল। আল্লাহ তাআলা দয়াপরবশ হয়ে তাদের কাকুতি মিনতির প্রেক্ষিতে মূসা (আঃ) এর দোয়ার বরকতে তাদেরকে বিশেষ সুযোগ সুবিধা প্রদান করেন  পানাহারের ব্যবস্থা রাতের আঁধারে আলো এবং পরিধেয় বস্ত্রের প্রয়োজন মিটানোর জন্য আল্লাহ তাআলা আপন কুদরতবলে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তাদের জন্য উত্তম খাদ্য মান্না ও সালওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু বিনা আয়াসে বিনা পরিশ্রমে প্রাপ্ত এসব উত্তম খাদ্যদ্রব্য সামগ্রীও ঐতিহ্যগত বক্র অকৃতজ্ঞ স্বভাববিশিষ্ট বনী ইস্রাইলদের পরিতৃপ্ত ও কৃতজ্ঞ করতে পারেনি। তারা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত এ সব অমূল্য নিয়ামতেরও নাশোকরী করে বসে। অবশেষে তারা মূসা (আঃ) এর নিকট নিবেদন করল হে আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য এক আমরা মানসিকতা ভাবে বিরক্ত ও অধৈর্য হয়ে উঠেছি। সুতরাং আপনি আল্লাহকে বলে আমাদের জন্য এমন খাদ্যের ব্যবস্থা করে দিন যা মাটি থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন দ্রব্যে প্রস্তুত। হযরত মূসা (আঃ) তাদের এমন অদ্ভুত চাহিদার কথা শুনে তাজ্জব হয়ে যান। তিনি বলেন,তোমরা এমন বস্তুর আবেদন করছ যা তোমরা এখন যা পাচ্ছ তা থেকে অনেক নিম্নমানের। নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী খাদ্য পাওয়ার জন্য যদি তোমরা এতই আগ্রহী হয়ে থাক তবে এখানে তা পাবে না। এ খাদ্য সংগ্রহের জন্য তোমাদেরকে নিকটবর্তী হয়ে থাক তবে এখানে থেকে তা পাবে না। এ খাদ্য সংগ্রহের জন্য তোমরা এতই আগ্রহী হয়ে থাক তবে এখানে থেকে তা পাবে না। তীহ ময়দানের নিকট এক শহর ছিল যেখানে তরিতরকারিসহ ভূমি হতে উৎপাদিত বিভিন্ন খাদ্য শস্য পাওয়া যেত। হযরত মূসা (আঃ) আল্লাহর নিয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞ বনী ইস্রাইলদেরকে বলে দিলেন তোমরা যদি তোমাদের চাহিদা মোতাবেক খাদ্য পেতে চাও, তবে তোমাদেরকে নিকটবর্তী শহরে গমন করতে হবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- অর্থঃ আর যখন তোমরা বললে, হে মূসা! আমরা কখনও একই ধরনের খাদ্যের উপর সন্তুষ্ট হব না। আপনার রবের নিকট দোয়া করুন। তিনি যেন এমন খাদ্যের ব্যবস্থা করেন যা যমীনে উৎপাদিত হয়। শাক, তরকারি, কাকুড়, গম, মসুর ডাল এবং পেয়াজ; তিনি বলেন, তোমরা কি উৎকৃষ্ট বস্তুসমূহ বাদ দিয়ে নিকৃষ্ট বস্তু পেতে আগ্রহী; তোমরা কোন শহরে প্রবেশ কর, অবশ্যই তোমাদের চাহিদা মত বস্তু পাবে, আর স্থায়ী হল তাদের উপর লাঞ্ছনা ও অধঃপতন এবং আল্লাহর গযবের যোগ্য হয়ে পড়ল-

পরবর্তী গল্প
প্রবল আল্লাহভীতি

পূর্ববর্তী গল্প
দাউদ (আঃ) এর পরীক্ষা - শেষ পর্ব

ক্যাটেগরী