দৃষ্টান্তবিহীন এক ঘটনা-পর্ব ৩

দৃষ্টান্তবিহীন এক ঘটনা-পর্ব ২ পড়তে এখানে ক্লিক করুন    

দেলালা ওখান থেকে বের হয়ে দূত গরুর মালিকের বাড়িতে পৌঁছে তাকে খবর দিল। সে বলল, আমি আপনার গরুর খবর নিয়ে এসেছি। এখনই আমাকে আমার প্রাপ্য বখশিশ দিয়ে দিন। গরুর মালিক তাকে একত্রে দশ হাজার টাকা দিয়ে বলল, কোথায় আমার গরু? দেলালা বলল, গরু জিবত নেই। নির্জন ময়দানে মাঝে এক বৃদ্ধা ও তাঁর ছেলে বাস করে। তারা এবাদাতের ভান করে ওখানে এবাদাত খানা তৈরি করে সেখানে দিবারাত্র এবাদাত করার নামে চুরি ডাকাতি করে। গতদিন তারা আপনার গরু জবেহ করে কাবাব তৈরি করে খেয়েছ। গরুর হাড় ও চামড়া ওখানেই পড়ে আছে। মাংস তাদের ঘরে আছে। আপনি এখনই লোক পাঠিয়ে তাদের বন্দি করুন। অন্যথায় তারা পালিয়ে যাবে। 

ধনী ব্যক্তি তখনই খলিফার নিকট সবিস্তার ঘটনা বলল, হযরত দাউদ (আঃ) ধনী ব্যক্তির পরিপ্রেক্ষিতে বৃদ্ধা ও তাঁর ছেলেকে বন্দি করে নিয়ে আসার জন্য লোক পাটিয়ে দিলেন। এ সময় হযরত জিব্রাইল (আঃ) সেখানে হাজির হয়ে  হযরত দাউদ (আঃ) কে এবাদাত খানায় ডেকে নিয়ে আসলেন। নিভৃস্থানে হযরত জিব্রাইল (আঃ) বললেন, ধনী ব্যক্তি যে অভিযোগ দায়ের করেছে, সেটা এক বিরাট ষড়যন্ত্র। এ ধনী ব্যক্তি একসময় ময়দানে বসবাসরত বৃদ্ধার স্বামীর চাকর হিসাবে জিবন-যাপন করতেন। বৃদ্ধার স্বামী ছিলেন একজন বিরাট ব্যবসায়ী এক সময় সে এ চাকরকে নিয়ে ব্যাবসার উদ্দেশ্যে সিরিয়া যাত্রা করেন। তখন তিনি পাঁচশত উট ও ছাগল এবং অন্যান্য মালপত্র নিয়ে যাত্রা করেন। পথি মধ্যে এক নিরব স্থানে তারা রাত্রি জাপন করেন। এমন সময় চাকরের মাথায় কুবুদ্ধি এল। সে তাঁর মনিব কে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করে সমস্ত মাল পত্র নিয়ে মিশর যাত্রা করে এবং সেখানে সে সমুদয় মালপত্র বিক্রি করে বিপুল অর্থের মালিক হন। শুধু মাত্র এ গরুটি বিক্রি না করে সাথে নিয়ে আসে। দীর্ঘ দিন পর সে দেশে এসে বড় লোক হয়ে বসে। লোকজন কর্মচারি বন্ধু বান্ধব জুটিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে বিশিষ্ট ব্যক্তির মর্যদা লাভ করে। অনেকে তাঁর মনিবের কথা জিঙ্গেস করলে সে জানায় বহুদিন যে বহুদিন পূর্বে মনিব কে ছেড়ে বিদেশে ব্যবসা করে অর্থ সম্পদ উপার্জন করেছ। মনিব বহু পূর্বে একাকী সিরিয়া গিয়েছে। তাঁর পরে তাঁর সাথে আর সাক্ষাৎ হয়নি। এখন যে গরুটি বৃদ্ধা ও তাঁর ছেলে জবাই করে খেয়েছে এটা বৃদ্ধার স্বামীর খরিদ করা গরু। আর ধনী ব্যক্তির সহায় সম্পদ

যা কিছু আছে তাই সবই স্বামীর উপার্জিত সম্পদ। অতএব ঘটনাকে সম্মুখে রেখে আপনি অভিযোগের ন্যায়সংগত রায় প্রদান করবেন। এ কথা বলে হযরত জিব্রাইল (আঃ) চলে গেলেন। 

হযরত দাউদ (আঃ) কর্তৃক প্রেরিত লোক যথাসময়ে বৃদ্ধাকে ও তাঁর ছেলেকে বন্ধি করে খলিফার দরবারে নিয়ে আসল। খলিফা বন্দিদেরকে মেহমান খানায় যত্ন সহকারে রাখার হুকুম দিলেন এবং বাদি ধনী ব্যক্তি কে বললেন, আগামি দিন তুমি ঈদের ময়দানে আমার সাথে দেখা করবে। আমি ময়দানে তোমার অভিযোগের রায় প্রদান করব। 

পরের দিন ঈদ উপলক্ষে ভোর থেকে ময়দান জমায়েত হতে আরম্ভ করে। বিশেষ করে ঈদের ময়দানে কিয়ামতের নমুনা দেখানোর ওয়াদা করেছ স্বয়ং খলিফা । তাই বৃদ্ধ, যুবক ও মহিলা দলে দলে এসে অনেক পূর্বেই ময়দান ভর্তি করে ফেলল,  প্রতি বছরের তুলনায় এ বছর ময়দানে দশগুণ বেশি মানুষ উপস্থিত হয়েছেন। হযরত দাউদ (আঃ) প্রথমে সুকণ্ঠের তেলাওয়াতে মন্ত্র মুগ্ধের ন্যায় নিশ্চল ও তন্ময় হয়ে রইল। তাঁর পরে দীন তালিম সম্পর্কে কিছুটা খোৎবা পেশ  করলেন। সব শেষে গরুর মালিককে  ও জবেহকারি বৃদ্ধা  এবং তাঁর ছেলে কে খলিফার সম্মুখে হাজির কর হল। প্রথমে খলিফা গরুর মালিকে বললেন, বৃদ্ধা অভাবের তাড়নায় তোমার গরুকে জবেহ করে খেয়েছে। এদের অভাব মোচনের ক্ষেত্রে আমার তৎপরতা থাকা আমার উচিৎ ছিল কিন্তু আমি যথাসময়ে  সেটা করতে ব্যার্থ হয়েছি। ফলে এরা  তোমার গরুটিকে জবেহ করে খেয়ে ফলেছে। অতএব তুমি ওদের কে ক্ষমা করে দাও। গরুওয়ালা বলল, না আমি ক্ষমা করতে সম্মতি নয়।  আপনি ন্যায় বিচার করুন। তখন খলিফা বললেন, আচ্ছা তাহলে আমি ক্ষতিপূরণ বাবদ উহার উপযুক্ত দাম তোমাকে দিয়ে দিচ্ছি।

দৃষ্টান্তবিহীন এক ঘটনা-পর্ব ৪ পড়তে এখানে ক্লিক করুন    

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।