দুনিয়াতে ভাবনাহীন জীবন হতে পারে না

একজন লোকের হযরত খিযির (আঃ) এর সাথে দেখা করার খুব ইচ্ছা হলো। এক দিন সত্যিই হযরত খিজির (আঃ) তার সামনে হাজির হলেন এবং বললেন, তোমার কেন এত ইচ্ছা হয়েছে এ সাক্ষাতের?

লোকটি বলল, হুজুর আমাকে দোয়া করুন যেন আমি নিশ্চিত এবং নির্ভাবনায় জীবন অতিবাহিত করতে পারি।

হযরত খিযির (আঃ) বললেন, এভাবে দোয়া নয়। বরং তোমার দৃষ্টিতে যাকে সুখী মনে কর তুমি তার মত হওয়ার দোয়া করিয়ে নাও।

লোকটি কথায় রাজি হলো।

কিছুদিন পর জুয়েলারী দোকানের এক মালিককে দেখতে পেলো। এমন সুন্দর চেহারা, এত ভাল স্বাস্থ্য আর এমন হাসি মাখা মুখ কোথাও দেখেনি। ধন-সম্পদ, সুন্দরী স্ত্রী-পুত্র এবং আরাম আয়েশের সকল কিছুই তার আছে। দেখেই বুঝা যায় এর চেয়ে সুখী দুনিয়ার আর একজনও নেই।

লোকটি বললো, আমাকে এ লোকের মতই হতে হবে। তবে দোয়া করানোর পূর্বে লোকটির ভিতরের খোঁজ-খবর নেওয়া দরকার। এমন যেন না হয় সে যদি গোপনে তার কোন দুঃখ-যন্ত্রণা থেকে থাকে তবে তা আমার ভাগে পড়ে যাবে।

একথা ভেবে লোকটি তার কাছে দেখা করে বললো, দেখুন আমি আপনার মত নিশ্চিন্ত জীবন অতিবাহিত করার জন্য হযরত খিযির (আঃ) কে দিয়ে দোয়া করাতে চাই। আমার দৃষ্টিতে আপনার মতো সুখী আর একজনও নেই। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কি?

জুয়েলারী দোকানের মালিক এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো, আরে বলবেন না, ভাই! আমার সব কিছুই আছে। কিন্তু তবু এমন এক গোপন দুঃখের মধ্যে ডুবে আছি যা বলা যায় না। আল্লাহ যেন আমার দুশমনকেও এ কষ্টটি না দেন।

গোপন দুঃখটি কি বিষয়ে জানার জন্যে লোকটির আগ্রহ বেড়ে গেল।

তখন জুয়েলারী দোকানের মালিক বলতে লাগলো, স্ত্রীর সাথে আমার ভালবাসা ছিল প্রবল। ভালবাসায় একেবারে অন্ধ হয়ে পড়েছিলাম। একবার স্ত্রীর অসুখ হলো। ভীষণ অসুখ। স্ত্রী আর বাঁচবেন না এমন অবস্থা হলো। তাই আমি তার মৃত্যুশয্যার পাশে বসে কাঁদতে লাগলাম।

স্ত্রী আমাকে সাত্বনা দিয়ে বলতে লাগলেন, আপনি অনর্থক কেঁদে মন খারাপ করবেন না। আমার মৃত্যুর পরে আপনি আরেকটি বিয়ে করে নিবেন।

আমি তাকে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করলাম। তোমার মৃত্যুর পর আমি আবার বিয়ে করতে পারি না। তোমাকে ছাড়া অন্য কোন নারীকে পছন্দ আমার পক্ষে অসম্ভব।

স্ত্রী বললেন, ওটা একটা কথার মত কথা মাত্র। পরে সব ঠিক হয়ে যাবে। থাক আর কাঁদবেন না।

আমি তাকে কি দিয়ে বিশ্বাস করাবো? তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে। বিশ্বাস তাকে করতেই হবে। সুতরাং আমার পুরুষাঙ্গটি কেটে তার সামনে রেখে দিয়ে বললাম, নাও’ এবার তুমি বিশ্বাস করবে তোমার মৃত্যুর পর কোন নারীকে আমার আর প্রয়োজন নেই।

কিন্তু কিছুদিন পর আমার স্ত্রী সুস্থ হয়ে উঠলেন। তার সে সৌন্দর্য, সে যৌবন, সে মন কেড়ে নেওয়া চাহনি, সবই তার আছে, কিন্তু, কিন্তু আমার কিছুই নেই। বাড়িটা আমার মরুভূমির মত হয়ে গেছে। তৃষ্ণার্ত এক চাতক পাখির মত সে আমার দিকে চেয়ে থাকে, আমি তাকে কিছুই দিতে পারি না।

“এখন যে কত দুঃখ নিয়ে জীবন কাটাচ্ছি তা ভাষায় বর্ণনা করা সম্ভব নয়।”

অতঃপর ঘটনাক্রমে একদিন হযরত খিযির (আঃ) এর সাথে আবার সে লোকটির দেখা হলো। লোকটি বললো, হুজুর আমি বুঝতে পেরেছি এ দুনিয়ার কেউ নিশ্চিন্ত জীবনের অধিকারী হতে পারে না। আমাকে বরং পরকালের শান্তির জন্যে দোয়া করুন। যেন আমার পরকাল শান্তিময় হয়ে যায়।

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।