দাউদ (আঃ) এর পরীক্ষা - শেষ পর্ব | আমার কথা
×

 

 

দাউদ (আঃ) এর পরীক্ষা - শেষ পর্ব

coSam ১৪৭


উল্লিখিত আয়াতসমুহের সার সংক্ষেপ হচ্ছে এর দ্বারা আল্লাহ হযরত দাউদ (আঃ) কে পরীক্ষা করেছেন, কিন্তু পবিত্র কোরআনে এ পরীক্ষার কোন বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়নি। এ সংক্ষিপ্ত বর্ণনাকে কেন্দ্র করে কোন কোন তাফসীর গ্রন্থে ইস্রাইলী বর্ণনার আশ্রয়ে এমন সব তথ্য পরিবেশিত হয়েছে। যা যুক্তি বা সুস্থ বিবেকের নিকট কোন ভাবেই গ্রহণীয় নয়। হযরত দাউদ (আঃ) তার কর্মসূচী চার দিনে বন্টন করে একদিন ব্যক্তিগত কাজের জন্য এবং একদিন বনী ইস্রাইলীদের হিদায়াতের জন্য নির্দিষ্ট করেছিলেন। কর্মসূচীতে যদিও ইবাদতের দিনটির বিশেষ গুরুত্ব ছিল। কিন্তু তার কোন সময়ই ইবাদত শূন্য ছিল না। যেদিন ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট ছিল, সেদিন জনসাধারণের সাথে তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন থাকত। কারো পক্ষ তার কাছে পৌছা খুব কঠিন ব্যাপার ছিল। বিশেষ কোন পরিস্থির সৃষ্টি হলে তবেই এদিন তার সাথে যোগাযোগ স্থাপিত হত এবং মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় বিষয় তার কাছে তুলে ধরতে পারত। প্রকৃতপক্ষে বাস্তবে কোন ঝগড়া-বিপদের মিমাংসার জন্য তারা আনে নি বরং আল্লাহর তরফ থেকে ফেরেশতা পাঠানো হয়েছে দাউদ (আঃ) কে সাবধান করার জন্য। পূর্বেই উক্ত হয়েছে যে, হযরত দাউদ (আঃ) চব্বিশ ঘণ্টা ব্যাপী আল্লাহ পাকের ইবাদত করার কর্মসূচী চালু করেছিলেন, আর এর সুষ্ঠ বাস্তবায়নের দাবী করেছিলেন। এই ঘটনার মাধ্যমে আল্লাহ হযরত দাউদ (আঃ) কে সাবধান করলেন যে, তার কর্মসূচীর বাস্তবায়ন একমাত্র আল্লাহর দেয়া তাওফিক দিয়ে সম্ভব। আল্লাহ না চাইলে কিছুতেই সম্ভব হত না। যেমন এ সময়টুকুর ভেতর তাঁকে এক মকাদ্দামার কাজে জড়িয়ে ইবাদত করা হতে বিরত করে দিলেন। এতে রাত দিন ইবাদত বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতায় ক্রুটি হয়ে গেল। সুতরাং তার কর্মসূচীর শ্রেষ্ঠ বাস্তবায়নের ভাঙ্গন পড়ে গেল। আর এ ভাঙ্গন অন্য কারো নয় স্বয়ং হযরত দাউদ (আঃ) এর মাধ্যমে এসেছে। লোক দুজনে অন্তরধানের পর হযরত দাউদ (আ) যখন উপলব্ধি করতে পারলেন তৎক্ষণাত আল্লাহ তাআলার নির্দেশ স্মরণ হয়েছে। তখন তিনি উপলব্ধি করতে পারলেন আল্লাহ তার পরীক্ষা নিয়েছেন। আল্লাহর কুদরত তার সম্মুখে প্রকাশ করে দিয়েছেন যে, কোন, বান্দাহ নিজের ইবাদতের পায়বন্দীর ভরসা করা উচিৎ নয়। তাওফীক ও ইচ্ছার উপরই ভরসা করা কর্তব্য। কেননা, আল্লাহর বিনা তাওফিক কোন কিছুই বাস্তবায়ন নয়। তখন তিনি সাথে সাথে সিজদায় পড়ে কেঁদে কেঁদে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন। কোরাআন ইরশাদ হয়েছে- অর্থঃ এবং দাউদ ভাবলেন আমি তাঁকে পরীক্ষায় ফেলেছি। তাই তিনি তার রবের কাছে ক্ষমা চাইলেন এবং সিজদায় পতিত হলেন আর আন্তরিকভাবে তার দিকে রুজু মনোনিবেশ হলেন। দাউদ (আঃ) এর পরীক্ষা - প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
নজরবন্দী অবস্থায় বনী ইসরাইলদের অকৃতজ্ঞ স্বভাবের প্রকাশ

পূর্ববর্তী গল্প
দাউদ (আঃ) এর পরীক্ষা - পর্ব ১

ক্যাটেগরী