তায়াম্মুমের আয়াত অবর্তীণ হওয়ার ঘটনা | আমার কথা
×

 

 

তায়াম্মুমের আয়াত অবর্তীণ হওয়ার ঘটনা

coSam ২২৭


ইফকের ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর অন্য আর একটি যুদ্ধে হযরত আয়েশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে রওয়ানা করলেন। প্রত্যবর্তনের পথে তাঁরা এক স্থানে রাত কাটালেন। সেখানে হযরত আয়েশার গলার হার হারিয়ে গিয়েছিল যা তিনি তাঁর বোন আসমা (রাঃ) হতে ধার করে এনেছিলেন। সে হারের অনুসন্ধানে বিলম্ব হওয়াতে যথা সময়ে সেখান হতে রওয়ানা দেয়া সম্ভব হয়নি। ফযরের সময় হয়ে গিয়েছে। কোন কোন সাহাবীর স্বপ্নদোস হওয়ার গোছল ফরজ হয়ে গিয়েছে।

কিন্তু আশে পাশে কোথাও পানির ব্যবস্থা ছিল না। তাই হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) খুব গোশ্যা হয়ে হযরত আয়েশার নিকট গমন করলেন এবং আয়েশাকে প্রহার করতে করতে বলেন, তুমি প্রত্যেক সফরেই একটা না একটা মুছিবত হয়ে দাঁড়াও। তুমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও মুসলমানদের এমন এক জায়গায় আবদ্ধ করে রেখেছ যেখানে পানি নেই। এ সময় হযরত আয়েশা (রাঃ) এর উরুর উপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) শুয়ে নিদ্রায় মগ্ন ছিলেন।

হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, হযরত আবূ কবর (রাঃ) এর প্রহারে আমি খুব ব্যখা পেয়েছিলাম। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমার উরুতে শায়িত থাকার কারণে আমি নড়াচড়া করতে পারছি না। যখন প্রভাতের আলো চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ল তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর ঘুম ভেঙ্গে গেলে তাঁর নিকট সমস্ত ঘটনা খুলে বলা হল। তখন আল্লাহ পাক আয়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ করেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

অর্থঃ আর যদি তোমরা রুগ্ন বা প্রবাসে অবস্থানকারী হও অথবা তোমাদের কেউ পায়খানা হতে আসে বা তোমরা স্ত্রী সহবাস কর তাঁর পর পানি না পাও, তাহলে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম কর। তাঁরপর তোমাদের চেহারা ও হাত মাটি দিয়ে মাসেহ কর। আল্লাহ তোমাদের উপর কোন প্রকার সংকীর্ণতা সৃষ্টি ইচ্ছা রাখেন না। তবে তিনি তোমাদের পবিত্র করা ও তোমাদের উপর তাঁর নিয়ামতকে সম্পন্ন করার ইচ্ছাই রাখেন। যেন তোমার তাঁর শুকরিয়া আদায় কর।

এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর হযরত উসাইদ ইবনে হোজাইর (রাঃ) হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বলেন, হে আবূ বকরের বংশধর! আল্লাহ আপনাকে উত্তম পুরস্কারে পুরস্কৃত করুন। আপনার উপর যে কোন মুসীবতই নাযিল হউক না কেন আল্লাহ তা হতে আপনাকে নিস্কৃতি দিয়ে থাকেন এবং মুসলমানদের জন্য এক বিরাট কল্যাণ ও মুবারক হয়ে থাকে।

পরবর্তী গল্প
ইকফের ঘটনা

পূর্ববর্তী গল্প
আনসার ও মুহাজিরদের অনৈক্য সৃষ্টির চক্রান্ত

ক্যাটেগরী