তালুত ও জালুত যুদ্ধ –শেষ পর্ব

তালুত ও জালুত যুদ্ধ – ২য় পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

এজন্য তার প্রতিদ্বন্দ্বী খুঁজে বের করতে জটিলতা দেখা দিয়েছিল। বনী ইসরাইলদের মধ্যে স্বল্প বয়স্ক এক যুবকও ছিলেন। দেখতে যদিও তিনি তেমন কোন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তির মত নন আবার বীরত্বের দিক থেকেও খুব একটা পরিচিত ছিলেন না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিই সবচেয়ে বেশী বীরত্বের দিলেন। তিনি হলেন হযরত দাউদ (আঃ)। তিনি তখন খুব অল্প বয়স্ক ছিলেন। তারা সাত ভাই তিনি হলেন কনিষ্ঠ। অন্যান্য ছয় ভাইও যুদ্ধে যোগদান করেছেন। তিনি মুলতঃ যুদ্ধে অংশগ্রহণের ইচ্ছায় এখানে আসেন নি। অন্যান্য ভাইদের খোঁজ খবর নেয়ার জন্য পিতা তাঁকে প্রেরণ করেছেন। তিনি উপস্থিত হয়ে দেখলেন যে, বনী ইসরাইলদের কেউ জালুতের মোকাবিলা করতে চাচ্ছেন না। এ ব্যাপারে সকলেই একটু পিছটান দিতে চায়।

হযরত দাউদ (আঃ) তাদের এ অবস্থা দর্শনে সহ্য করতে পারলেন না বরং তালুতকে বলেন যে, যদি আপনি অনুমতি প্রদান করেন তবে আমি তার মোকাবেলা করতে চাই। তালুত দেখল যে, জালুতের মোকাবিলা করবার জন্য যে অনুমতি প্রার্থনা করছে সে একজন বালক মাত্র। তাই তালুত তাকে উদ্দেশ্যে করে বললেন, তুমি তো একজন অদক্ষ বালক। এত অল্পবসয়ে যুদ্ধ সম্পর্কে কি অভিজ্ঞতাই বা তোমার আছে? সুতরাং জালুতের ন্যায় বীরের মোকাবিলা করার জন্য তোমাকে কিভাবে মনোনীত করি? কিন্তু হযরত দাউদ (আঃ)-এর পুনঃ পুনঃ অনুরোধে তালুত সম্মতি দিলেন। দাউদ (আঃ)-কে জালুতের মোকাবিলা করার জন্য পাঠান হল। দাউদ (আঃ) সামনে অগ্রসর হলেন। জালুতকে মোকাবিলার জন্য আহবান করলেন। জালুত দেখল যে, স্বল্প

বয়স্ক এক বালক মোকাবিলা করার জন্য তার সামনে এসেছে। তাই জালুত তাঁর আহবানের প্রতি খুব একটা ভ্রূক্ষেপ করল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যখন লড়াই শুরু হল তখন জালুত হযরত দাউদ (আঃ)-এর শক্তির আন্দাজ করতে পারল। এবার জালুত হযরত দাউদ (আঃ)-এর সাথে পুরাপুরি মোকাবিলার জন্য সামনে এগিয়ে আসল। কিন্তু হযরত দাউদ (আঃ) স্বীয় থলি হতে পাথর খুলে জালুতের দিকে নিক্ষেপ করলেন। তিনি এক এক করে তিনটি পাথর তার নিক্ষেপ করলেন। এতে জালুতের মাথা ফেটে চুরমার হয়ে গেল। পাথরগুলো মাথা ভেদ করে পিছনের দিকে গিয়ে পড়ল। জালুত আধোমুখ হয়ে ভূমিতে পড়ে গেল।

কথিত আছে যে, দাউদ (আঃ) যখন স্বীয় ভাইদের দর্শনের জন্য আসছিলেন তখন পথে পাথর বলে উঠল, হে দাউদ! আমাকে সাথে নিয়ে চলুন। আমার দ্বারা আপনি জালুতকে মারতে পারবেন। এভাবে একে একে তিনটি পাথর হতেই অনুরূপ শব্দ আসে। হযরত দাউদ (আঃ) পাথরের আহবানে সাড়া দিয়ে পাথরত্রয় উঠিয়ে থলিতে রাখলেন। জালুতের প্রতি পাথর নিক্ষেপ করার পূর্বে তিনি বলছিলেন যদি আল্লাহর যাহায্য পাওয়া না যায় তবে তলোয়ার, ঘোড়া এবং হাতিয়ার কোন কাজে আসবে না। কথিত আছে যে, হযরত দাউদ (আঃ) যখন জালুতের মুখোমুখি হলেন তখন জালুত বলল, তুমি শুধু পাথর নিয়ে আমার সামনে এসেছে? তুমি কি কুকুর মারতে এসেছ? হযরত দাউদ (আঃ) বলেন, তুমি তো কুকুর অপেক্ষাও অধম।

জালুত নিহত হওয়ার সাথে সাথে যুদ্ধের গতি পরিবর্তন হয়ে গেল। যুদ্ধের প্রথম দিকে মনে হচ্ছিল যে, ফিলিস্তিনীরা বনী ইসরাইলীদের প্রতি আক্রমণ চালাচ্ছে আর বনী ইসরাইলীরা আক্রমণ প্রতিহত করে যাচ্ছে। কিন্তু জালুত নিহত হওয়ার পর যুদ্ধ সম্পুর্ণ পালটে গেল। ফিলিস্তিনীরা দিশাহারা হয়ে পলায়ন করছিল। বনী ইসরাইলীরা তাদেরকে তাড়া করছিল। শেষ পর্যন্ত ফিলিস্তিনীরা পরাজয় বরণ করল। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে-

فَهَزَمُوهُم بِإِذْنِ اللَّهِ وَقَتَلَ دَاوُودُ جَالُوتَ

আল্লাহর হুকুমে (বনী ইসরাইলীরা) তাদেরকে পরাজিত করল আর দাউদ হত্যা করলেন জালুতকে ।(সূরা-বাকারা)

তালুত ও জালুত যুদ্ধ – প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।