তালুত ও জালুত যুদ্ধ – পর্ব ২

তালুত ও জালুত যুদ্ধ – পর্ব ১ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

অতঃপর তালুত তাদেরকে নিয়ে ফিলিস্তিন অভিমুখে রওয়ানা হল। পথে তারা জর্ডান নদীর কাছে এসে সকলে তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ল। তারা পানি পান করতে উদ্যত হল। এমতাবস্থায় তালুত তাদেরকে আল্লাহর ফয়সালা সম্পর্কে অবহিত করল যে, যারা পিপাসার্ত হয়ে পড়েছ তারা এ নদী হতে পানি পান করতে পারবে না। পানি পান করার অতীব প্রয়োজন বোধ করলে মাত্র এক মঞ্জিলে পূর্ণ পানি পান করার অনুমতি রয়েছে। যারা এ নির্দেশ অমান্য করে নিজেদের ইচ্ছামত পানি পান করবে তারা আল্লাহর নাফরমান বান্দাহ বলে পরিণত হবে। তাদেরকে আল্লাহর দল হতে বের করে দেয়া হবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে-فَلَمَّا فَصَلَ طَالُوتُ بِالْجُنُودِ قَالَ إِنَّ اللَّهَ مُبْتَلِيكُم بِنَهَرٍ فَمَن شَرِبَ مِنْهُ فَلَيْسَ مِنِّي وَمَن لَّمْ يَطْعَمْهُ فَإِنَّهُ مِنِّي إِلَّا مَنِ اغْتَرَفَ غُرْفَةً بِيَدِهِ

অনন্তর যখন তালুত সৈন্য বাহিনী নিয়ে রওয়ানা হল তখন সে তাদেরকে বলল আল্লাহ তোমাদেরকে একটি নদী দিয়ে পরীক্ষা করবেন। যে ব্যক্তি তা হলে পানি পান করবে সে আমার দলভুক্ত নয়। আর যে ব্যক্তি পানি মুখেও নেবে না সে আমার দলভুক্ত। তবে এ ব্যক্তির জন্য অনুমতি আছে যে স্বীয় হস্তে মাত্র এক অঞ্জলী পানি পান করে। (সূরা বাকারা)

তালুতের এ সতর্ক করণের পরও তারা তাদের ঐতিহ্যগত বক্তমানসিকতা ও হঠকারীতার পরিচয় দিল। সকলে তাঁর নির্দেশমত কাজ করে নি। মাত্র সামান্য কিছুসংখ্যক বনী ইসরাইলী ব্যতীত সকলেই পেট ভরে পানি পান করেছে। যারা পানি পান করেনি বা করলেও মাত্র এক অঞ্জলী পান করেছে তাদের সংখ্যা ছিল তিনশ তেরজন। হযরত বারা ইবনে আযেব (রাঃ) বলেন, আমরা অর্থাৎ রাসূল (সাঃ)-এর সাহাবীরা নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করতাম যে, বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবী তালুতের অনুসারীদের সমসংখ্যক ছিল। যারা তালুতের নির্দেশ অনুসারে আমল করেছিল পানি পান করার সাথে সাথে তাদের পিপাসা মিটে গিয়েছিল এবং তাদের দেহ সবল হয়ে উঠেছিল। বীরের ন্যায় মনের শক্তির অধিকারী হয়েছিল। কিন্তু যারা তালুতের নির্দেশ অমান্য করে অধিক পরিমাণে পানি পান করেছিল তাদের পিপাসাও মিটেনি। তদুপরি তারা অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তারা এত অধিক দুর্বল হয়ে পড়েছিল যে, নদী পার হওয়ার শক্তি পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছিল। তালুত বুঝতে পারলেন যে, তাদের দ্বারা কোন কাজ হবে না। তাই তালুত অবশিষ্ট লোকজন নিয়ে নদী পার হয়ে গেলেন। যারা সীমালঙ্ঘণের কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন তারা জালুতের ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিল। তারা বলে উঠল-

لَا طَاقَةَ لَنَا الْيَوْمَ بِجَالُوتَ وَجُنُودِهِ

অর্থঃ আজ জালুত ও তার সেনা বাহিনীর মোকাবিলায় আমাদের কোন শক্তি নেই।

কিন্তু যারা তালুতের নির্দেশ মত চলেছিল এবং কোনরূপ সীমালঙ্ঘন করেনি তারা সাহস ও উদ্যমের সাথে সামনে এগিয়ে গেল। তারা বলল যে, যদিও আমরা সংখ্যায় অল্প আর জালুতের সৈন্য লক্ষাধিক তবুও আমরা তাদের মোকাবিলা করব। আল্লাহর সাহায্য যদি আমাদের পক্ষে থাকে তবে সংখ্যায় স্বল্প হলেও আমরাই জয়লাভ করব। জয়লাভ সংখ্যাধিক্যের উপর নির্ভরশীল নয় এবং আল্লাহর সাহায্য ও সন্তুষ্টির উপর। কোরআনের ভাষায়-

قَالَ الَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُم مُّلَاقُو اللَّهِ كَم مِّن فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةً بِإِذْنِ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ

অর্থঃ আল্লাহর সমীপে হাজির হবে বলে যারা বিশ্বাস করে তারা বলতে লাগল অনেক ক্ষুদ্র দল এবং বৃহৎ দলের উপর আল্লাহর হুকুমে বিজয়ী হয়েছে। আল্লাহ সবরকারীদের সাথে আছেন। (সূরা বাকারাঃ আয়াত-১৪৯)

তালুতের নির্দেশ মত যে স্বল্প সংখ্যক লোক পানি পান করেনি পরিমাণ মত করেছে কেবলমাত্র সে সব স্বল্পসংখ্যক আল্লাহর বান্দা আল্লাহর নামে শত্রু পক্ষের বিশাল এ বাহিনীর মুখোমুখী হল। শত্রু সেনাপতি জালুত ছিল এক বিরাটকায় অদ্ভুত প্রকৃতির মানুষ। মুজাহিদরা মাঠে নেমেই আল্লাহর নিকট নিজেদেরকে সোপর্দ করে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে দোয়া করতে লাগল যেন আল্লাহ পাক এ মহা পরীক্ষায় তাদেরকে অটল রাখেন আর শত্রুদেরকে পরাজিত করেন। ইরশাদ হচ্ছে-

وَلَمَّا بَرَزُوا لِجَالُوتَ وَجُنُودِهِ قَالُوا رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ

অর্থঃ যখন তারা জালুত ও তার সেনাবাহিনীর মোকাবিলায় বের হয়ে আসল তখন বলল- হে আমাদের রব! আমাদের উপর ধৈর্য অবতীর্ণ করুন এবং আমাদের কদম অটল রাখুন। আর কাফের সম্প্রদায়ের উপর আমাদেরকে সাহায্য করুন। (সূরা বাকারাঃ আয়াত-২৫০)

জালুতের অতুলনীয় শক্তির কথা পূর্ব হতেই প্রচারিত ছিল। তাই বনী ইসরাইলীরা তার ভয়ে আতঙ্কিত ছিল।

তালুত ও জালুত যুদ্ধ – শেষ পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।