তালুত ও জালুতের ঘটনা – পর্ব ১

হযরত শামভীন (আঃ) নবুয়ত লাভের পর আল্লাহ পাকের নির্দেশক্রমে বনী ইসরাইলীদের ঈমান ও আমলের সংশোধন কাজে নিজকে নিয়োজিত করলেন। বনী ইসরাইলীদের উপর আমলিকা সম্প্রদায়ের কাছে লুটতারাজ তখনও বন্ধ হয়নি বরং সুযোগ পেলেই তারা লুটতারাজ করত।

জালুতের কাছে তাদের বার বার পরাজয় তাদেরকে আরও দুর্বল করে ফেলেছিল। এমতাবস্থায় বনী ইসরাইলীরা হযরত শামভীল (আঃ)-এর কাছে আবেদন করল যে, তিনি যেন তাদের জন্য একজন বাদশাহ নিযুক্ত করে দিন। যাতে তারা ঐ বাদশাহের নেতৃত্ব জালিম আমালিকাদের মোকাবিলা করতে পারে। পবিত্র কোরআনে তাদের এ আবেদনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

إِذْ قَالُوا لِنَبِيٍّ لَّهُمُ ابْعَثْ لَنَا مَلِكًا نُّقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ

অর্থঃ যখন তারা তাদের নবী কে বলল আমাদের জন্য একজন বাদশাহ নিয়োগ করুন যার সাথে থেকে আমরা আল্লাহ তায়ালার পথে যুদ্ধ করতে পারি। (সূরা বাকারা)

হযরত শামভীল (আঃ)-এর কাছে তাদের এ আবেদন পছন্দ হল না। তিনি তাদেরকে যে তোমাদের জন্য যদি বাদশাহ নিয়োগ করে তবে তিনি তোমাদেরকে আল্লাহ পথে জিহাদের নির্দেশ দিবেন কিন্তু তোমাদের অবস্থা দেখে তো মনে হচ্ছে না যে, তোমরা বাদশাহের নেতৃত্বে জিহাদ করতে প্রস্তুত হবে। কোরআনের ভাষায়-

قَالَ هَلْ عَسَيْتُمْ إِن كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ أَلَّا تُقَاتِلُوا

অর্থঃ বলেন- তোমাদের সম্পর্কে এ ধারণাও রয়েছে যে যদি তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরজ করে দেয়া হয় তখন তোমরা যুদ্ধ করতে চাইবে না। (সূরা বাকারা)

বনী ইসরাইলীরা হযরত শামভীল (আঃ)-এর এ জবাব মেনে নেয়নি বরং তারা হযরত শামভীল (আঃ)-কে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিল যে, জিহাদ ফরজ হলে আমরা বসে থাকব তা হতে পারে না। কেননা, জিহাদ করার জন্য আমরা আমাদের জান মালের নিরাপত্তা কায়েম করব। শত্রু কর্তৃক বার বার আক্রান্ত হওয়া থেকে পরিত্রাণ লাভ করব। একটি অস্বস্তিকর জীবন ব্যবস্থা হতে মুক্তি লাভ করে শান্তি ও সমৃদ্ধির জীবন লাভ করব। কোরআনের ভাষায়-

وَمَا لَنَا أَلَّا نُقَاتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَقَدْ أُخْرِجْنَا مِن دِيَارِنَا وَأَبْنَائِنَا

অর্থঃ আমাদের কি হল যে আমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করব না অথচ আমাদেরকে নিজেদের ঘরবাড়ী হতে বের করে দেয়া হয়েছে এবং আমাদের সন্তানাদি হতে পৃথক করে দেয়া হয়েছে।

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।