তালুত ও জালুতের ঘটনা – পর্ব ৩

তাদের তো ধারণা ছিল যে হযরত শামভীল (আঃ) বাদশাহ নিয়োগ করলে তাদের মধ্য হতে কোন একজনকে করবেন। কিন্তু তিনি যখন তাদের ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত খবর দিলেন যে, তাদের বাদশাহ বেনইয়ামীনের বংশ হতে নিয়োগ করা হয়েছে। তখন তারা হিংসা ও ঈর্ষায় জ্বলে উঠল। তারা প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠল হযরত শামভীল (আঃ) তাদের আপত্তিকর জবাব প্রদান করতে গিয়ে বলেন যে, তোমাদের

এ আপত্তি অনর্থক এবং অসার। কেননা, আল্লাহ পাক তোমাদের মঙ্গলের জন্যই তালুতকে বাদশাহ নিয়োগ করেছেন। আর আল্লাহ যাকে পছন্দ করেছেন তার চেয়ে অন্য আর কে এর উপযুক্ত হতে পারে? যেহেতু আল্লাহ তাকে তোমাদের কল্যাণের জন্য বাদশাহ নিয়োগ করেছেন সুতরাং এতে কোন রকম অমঙ্গল ও অকল্যাণের কল্পনাও হতে পারে না।

এতে বুঝা যায় যে, তালুতের শাসন তোমাদের দ্বীন ও দুনিয়ার সম্মান ও ইজ্জতের পূর্বাভাস। তোমরা এটাও জেনে রাখ যে, আল্লাহ পাক কোন সম্প্রদায়কে ধ্বংস করতে চাইলে অত্যাচারী ব্যক্তিকে তাদের শাসক নিযুক্ত করেন।

আর কোন সম্প্রদায়কে ইজ্জত সম্মান ও সফলতা দান করতে চাইলে তাদের শাসনভার এমন এক ব্যক্তির উপর ন্যস্ত করেন যে পুতঃপবিত্র চরিত্রের অধিকারী এবং ন্যায়পরায়ণ। আল্লাহ তোমাদের জন্য তালুতকে বাদশাহ নিয়োগের পিছনে এক রহস্য রয়েছে যা তোমরা জান না, আল্লাহ তা জানেন। তাই তিনি তাকে নিয়োগ করেছেন। মহান রবের এ নিয়োগের ব্যাপারে তোমাদের কোনরূপ আপত্তি থাকা উচিত নয়।

দ্বিতীয়তঃ রাজ্য সুষ্টভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজন বিবেক এবং স্বাস্থ্যের। যার বিবেক শক্তি মজবুত, এবং শারীরিক দিক দিয়ে যে সুস্থ ও সবল এমন ব্যক্তিই রাষ্ট্র পরিচালনার হকদার। আল্লাহ পাক তালুতকে উভয় গুণই দান করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে-

قَالَ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَاهُ عَلَيْكُمْ وَزَادَهُ بَسْطَةً فِي الْعِلْمِ وَالْجِسْمِ

অর্থঃ শামভীল (আঃ) বলেন, আল্লাহ পাক তোমাদের জন্য তাকে নিযুক্ত করেছেন। আর তাকে জ্ঞানেও দেহে আধিক্য দান করেছেন। (সূরা বাকারা)

তাফসীরের কিতাবে উক্ত হয়েছে জ্ঞান বুদ্ধির দিকে দিয়ে তালুত ছিলেন বনী ইসরাইলীদের সকলের উপরে। আর দৈহিক দিক থেকে তিনি ছিলেন বনী ইসরাইলীদের চেয়ে অধিকতর সৌন্দর্যের অধিকারী।

তদুপরি তিনি এমন সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন যে, দেখতে বীরের ন্যায়ই দেখা যেত। তিনি শরয়ী ও আধ্যাত্মিক উভয়দিক থেকে জ্ঞানী ছিলেন।

তৃতীয়তঃ আল্লাহ রাজত্বের মালিক। সমস্ত বাদশাহদের বাদশাহ। তিনি যখন কাউকেও কোন পদে অধিষ্ঠিত করেন তখন তার উক্ত পদের যোগ্য হওয়া শর্ত নয়। বরং যোগ্যতা লাভ করার জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ শর্ত। তিনি যাকে চান তাকে যে কোন দায়িত্ব প্রদান করতে পারেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে-

وَاللَّهُ يُؤْتِي مُلْكَهُ مَن يَشَاءُ ۚ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ

অর্থঃ আল্লাহ যাকে যান রাজত্ব দেন আর আল্লাহ প্রশস্ত, মহাজ্ঞানী।

বনী ইসরাইলীরা দেখল যে, হযরত শামভীল (আঃ) পুনঃপুনঃ বলছেন, তিনি নিজে তালুতকে বাদশাহ নিয়োগ করেন নি বরং আল্লাহ পাক স্বয়ং তাকে বাদশাহ নিয়োগ করেছেন। কিন্তু তারা হযরত শামভীল (আঃ)-এর এ দাবীকে স্বভাবগত বক্রতার কারণে বিশ্বাস করে উঠতে পারছে না। অবশেষে তারা শামভীল (আঃ)-কে বলল, যদি আল্লাহ তালুতকে আমাদের জন্য বাদশাহ নিযুক্ত করে থাকেন তবে আমাদের সামনে এমন কোন নিদর্শন উপস্থাপিত করুন যাতে আমরা বুঝতে পারব যে, তালুত আল্লাহর তরফ হতে নিযুক্ত। তাদের পূর্ববর্তীরা যেমন করে তখনকার নবী

রাসূলদের কাছে দাবী উত্থাপন করত এরাও তার ব্যতিক্রম করেনি। এ দাবী তাদের ঐতিহ্যগত বক্র মানসিকতাও হটকারিতারই পরিচয়বাহী। যা হোক হযরত শামভীল (আঃ) বলেন, ঠিক আছে। যখন তোমরা এর সত্যতা যাচাই করতে চাচ্ছ তাহলে শোন আমি এর নিদর্শন দিচ্ছি।

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।